ঢাকা: ৫ আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশে মানবাধিকার নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কিন্তু যতই মানবধিকার হোক আর যাই হোক, ঘটনা যা ঘটার ঘটছেই। পুড়িয়ে ছাই করে ফেলা হচ্ছে হিন্দুদের।
এবার এই বিষয়ে অস্থায়ী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসকে খোলা চিঠি লিখেছেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের জেনারেল সেক্রেটারি অ্যাগনেস ক্যালামার্ড।
তিনি দাবি করেছেন, সমস্ত মানুষের মানবাধিকার রক্ষায় এখনও গুরুতর চ্যালেঞ্জ রয়ে গিয়েছে। বাংলাদেশে সংসদীয় নির্বাচনের আগে জনগণের মৌলিক অধিকার ও সুরক্ষা নিয়ে রীতিমতো উদ্বেগ প্রকাশ করে সংস্থাটি।
মানবাধিকার ও আইনের শাসনের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
বুধবার লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাটির ওয়েবসাইটে খোলাচিঠিটি প্রকাশ করা হয়।
আগামি ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে পাঠানো এই চিঠিতে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অব্যাহত অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
এবং একই সঙ্গে জীবনের সুরক্ষা, ব্যক্তির নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সভা-সমাবেশের অধিকার রক্ষায় কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড পরিষ্কার বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইনে দেশটির ওপর থাকা বাধ্যবাধকতা মেনে মানবাধিকার সমুন্নত রাখার ম্যান্ডেট বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের রয়েছে। সরকার সেই দায়িত্ব পালন করবে কি না, তা প্রমাণে আগামী কয়েকটি সপ্তাহ হবে চূড়ান্ত পরীক্ষা।
অ্যামনেস্টি মহাসচিব আরও বলেন, নির্বাচনের সময়সহ ব্যক্তি ও বিভিন্ন গোষ্ঠীর অবাধে কথা বলার অধিকার কর্তৃপক্ষকে সমুন্নত রাখতে হবে।
তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের মতামত প্রকাশের জন্য কাউকে যেন জীবনের ভয়ে থাকতে না হয়, সরকারকে সেটি নিশ্চিত করতে হবে।
২০২৪ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে অন্তর্বর্তী কর্তৃপক্ষ সাংবাদিক ও সমালোচকদের দমনে কঠোর ‘সন্ত্রাসবিরোধী আইনের (এটিএ)’ অপব্যবহার করেছে।
