ঢাকা: সারা বিশ্ব জানে রাজাকার জামায়াতে ইসলামীর ভণ্ডামি। এরা যুগের পর যুগ ধর্মের ব্যবসা করছে। নারীরা জামাতের চোখে কোনোদিন সম্মানীয় নয় বরং গণিমতের মাল।

একাত্তরে এদের ভূমিকা কী ছিলো? এখন নারীদের নিয়ে যত কথা বলছে সব ভণ্ডামি।

শফিকুর রহমান যত কথা বলেছেন সব মিথ্যা। তা প্রমাণ হয়ে গেলো।

এবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, দলের প্রধান (আমির) পদে কোনো নারী কখনো দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।

তিনি বলেন, এটা ঈশ্বরপ্রদত্ত সৃষ্টিগত পার্থক্যের কারণে সম্ভব নয়।

আল জাজিরা বহু প্রশ্ন করে।

আল জাজিরার প্রশ্ন : আপনি প্রস্তাব করেছিলেন নারীদের কর্মঘণ্টা কমানোর, কারণ কোরআনের নীতির আলোকে তারা তাদের সন্তানদের দায়িত্ব পালন করতে পারে। একবিংশ শতাব্দীতে আপনি কেন এমন প্রস্তাব দিলেন?

এই কথা অস্বীকার করেছেন শফীকুর।

তিনি বলেন, কে বলেছে? না আমি এমন কথা বলিনি।

আল জাজিরা : এটা আপনার দেওয়া প্রস্তাব, যা ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে।

শফিকুর রহমান : না, না। আমি যা বলেছি তা হলো— একজন মা একই সময়ে সন্তান বহন করছেন, সন্তানকে দেখাশোনা করছেন, আর একই সময়ে পুরুষদের মতো সমান দায়িত্ব ও সমান সময় কাজ করছেন— এটা ন্যায়সংগত নয়। অন্তত স্তন্যদানকালীন সময়ে, যখন তিনি সন্তান জন্ম দিচ্ছেন বা সন্তান লালন করছেন, তখন তাকে সম্মান দেখাতে হবে।

আল জাজিরা : আপনি বলেন যে আপনি নারীদের সম্মান করেন এবং বিশ্বাস করেন যে নারীরা নেতৃত্বের অবস্থানে উঠতে পারে। আমি কি জানতে পারি এই সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী কতজন নারী প্রার্থী দিয়েছে?

শফিকুর রহমান : না, একজনও নয়। তবে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমরা ইতিমধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিয়েছি যেখানে আমাদের বোনেরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে এবং সফল হয়েছে। ভবিষ্যতে আমরা সংসদেও তার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।

আল জাজিরা : কিন্তু নিশ্চয়ই অন্য কোনো দলে শূন্য নয়। কেন অন্তত একজন নারী প্রার্থীও নেই…

শফিকুর রহমান : উত্তর হলো আমরা তার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। তাই ভবিষ্যতে ইনশাআল্লাহ আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব। এ বিষয়ে আমরা তাদের প্রতি অসম্মানজনক নই।

আলজাজিরা : জামায়াতের প্রধানের পদ নিয়ে কী বলবেন? কোনো নারী কি একদিন আপনার জায়গা নিতে পারে?

শফিকুর রহমান : এটা সম্ভব নয়। সম্ভব নয়। কারণ আল্লাহ প্রত্যেককে তাদের নিজস্ব সত্তায় সৃষ্টি করেছেন। আপনি কখনও সন্তান জন্ম দিতে পারবেন না। আমরা কখনও সন্তানকে স্তন্যপান করাতে পারব না। এটা আল্লাহ প্রদত্ত। আর পুরুষ ও নারীর মধ্যে কিছু পার্থক্য আছে। আল্লাহ যা সৃষ্টি করেছেন, আমরা তা পরিবর্তন করতে পারি না।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *