ঢাকা: কথায় বলে না- হায়রে কপাল মন্দ, চোখ থাকিতে অন্ধ? এই অবস্থা হয়েছে প্রেস সচিবের।
এত সহিংসতা, নির্বাচন বানচাল করার জন্য জামাতের ষড়যন্ত্র, খুন- তারপরেও মিথ্যাবাদী জামাতি প্রেস সচিব বলছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার পর এখন পর্যন্ত চারজনের প্রাণহানি হয়েছে। এসব ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত হলেও নির্বাচনের পরিবেশ বিগত সরকারের আমলের চেয়ে ভালো।
তিনি বলেন, বিগত সরকারের আমলে হওয়া নির্বাচনগুলোর এখন পর্যন্ত নির্বাচনের পরিবেশ ভালো। ২০১৪ সালের আগে নির্বাচনে সহিংসতায় ১১৫ জন নিহত হয়েছেন। সেই হিসেব নির্বাচনি পরিবেশ ভালো। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যথেষ্ট সহিষ্ণুতা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
জামাত হুমকি দিচ্ছে রক্তারক্তির, প্রেস সচিব বলছেন পরিবেশ ভালো।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে সংঘটিত দাঙ্গার সময় পুলিশ থানা ও অস্ত্রাগার থেকে যে পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট হয়েছিল, সেগুলোর অধিকাংশই এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
এক হাজারেরও বেশি আগ্নেয়াস্ত্র এবং দুই লাখের বেশি গোলাবারুদ এখনও হাওয়া।
অথচ এই দীর্ঘ সময়ে ইউনূস সরকার এবং তার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই বিপুল পরিমাণ মারণাস্ত্র উদ্ধারে কার্যত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি।
চারদিকে আগুন জ্বালানো হচ্ছে। অস্ত্র হাতে জঙ্গীদের ঘোরাফেরা! নিশ্চুপ সরকার।
পরিবেশ যদি ভালোই হয় তাহলে ভোটের মাঠ শান্ত রাখতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পেছনে কেন ব্যয় হবে ১৫০০ কোটি টাকা?
তাহলে তো এই খাতে শূন্য খরচ হওয়া উচিৎ ছিলো।
এখন যে নির্বাচন আসছে, তার আগে এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্রের উপস্থিতি দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।
জুলাই দাঙ্গার পর থেকে পুলিশ বাহিনী এখনও সম্পূর্ণভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর অসন্তোষ এবং উদ্বেগ বিরাজ করছে।
একের পর এক গোলাগুলি ও হত্যার ঘটনা ঘটছে, যা প্রমাণ করে যে লুট হওয়া অস্ত্রগুলো এখন বিএনপি-জামাতের সন্ত্রাসীদের হাতে ব্যবহৃত হচ্ছে।
নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. আব্দুল আলীম বলেন, নিরাপত্তা ইস্যুতে আশ্বস্ত করা না গেলে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনা কঠিন হবে। কিন্তু ইউনূস সরকার কি আদৌ চায় যে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারুক?
