প্রতারক-ভন্ড-জালিয়াত কারবারি দেখেছি অনেক কিন্তু “বাংলাদেশের নোবেল লরিয়েট ইউনুস” এর মত এমন প্রতারক-জোচ্চোর পাওয়া খুব দুষ্কর আজকাল।
কথায় কথায় এত নাটুকে অভিনয় করে সে যা ভাবতেই বিস্ময় জাগে। এদেশের গরীব মহিলা ও গরীবদের কাছ থেকে উচ্চহারে সুদখোর ইউনুস প্রতিনিয়ত এতসব নাটুকে ঢঙ্গে কথাবার্তা বলেন যে মনে হবে তার মতো ফেরেশতা আর নেই।বা তার মতো বাংলাদেশে আর কোন গরীবদরদী নেই। তার মতো এমন সৎ লোক আর নেই।
কিন্তু এই জঙ্গী মদদদাতা পাকিপন্থী ইউনুস যে কি দিয়ে তৈরী তা বুঝতে হয়তো এদেশের মানুষদের আরো অনেকদিন লাগবে।
এই সুদী মহাজন, গরীবের রক্তচোষায় ডক্টরেট পাওয়া ইউনুসের কিছু বাক্য একটু স্মরণ করে দেখি আমরা। বিভিন্ন সময়ে এই মহাজন বলেছেন-
“ দেশের মানুষ ভোট দেয় টাকা খেয়ে। বলে, টাকা দেন, ভোট দিচ্ছি… ”
“আমরা আগে বর্বর ছিলাম, জুলাই সনদে স্বাক্ষর করে সভ্য হলাম…।”
“দেশ অনেক উচ্চতায় উঠে গেল।… সারা দুনিয়ার মানুষ আমাদের কাছে দরখাস্ত করে এই তরুণদের চাইছে…।”
“জুলাই আন্দোলনকারী তরুণরা শুধু নতুন বাংলাদেশ নয়, একদিন গোটা বিশ্বের নেতৃত্ব দেবে।…”
অতি সম্প্রতি মানে ২৮ জানুয়ারি বলেছেন-“বাংলাদেশ জালিয়াতিতে পৃথিবীর চ্যাম্পিয়ন। এখানে সব জিনিস জাল। … পাসপোর্ট জাল, ভিসা জাল।…একটা জালিয়াতের কারখানা বানিয়েছি আমরা…।”
গত দেড় বছরতো এই জঙ্গী-প্রতারক-ভন্ড-জালিয়াত ড. ইউনুসই সরকার চালাচ্ছে। তার নীলনকশা অনুযায়ীইতো সবকিছু হচ্ছে বাংলাদেশে।
তো সরকার প্রধান হয়ে যদি নিজেকে এবং এই বাংলাদেশকেই জালিয়াতিতে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আখ্যায়িত করেন একজন সরকার প্রধান তাহলে আর কি বলার থাকে বলুন?
চরম নির্লজ্জ-বেহায়া-বেইমান এই ইউনুস গত ২৮ জানুয়ারি রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে চার দিনের ‘ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কি বলেছেন তার আরো কিছু জেনে নেই। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে লিখেছে-

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশ পৃথিবীর চ্যাম্পিয়ন কীসে, জালিয়াতিতে। সব জিনিস জাল, বহু দেশ আমাদের পাসপোর্ট গ্রহণ করে না, ভিসা জাল, পাসপোর্ট জাল।
তিনি বলেন, ‘‘আপনারা নিশ্চয় পত্রিকায় দেখেছেন, ‘আমেরিকান বেস অব জাল’ এটা একটা জালিয়াতের কারখানা বানিয়েছি আমরা।’’
তিনি বলেন-“আপনারা নিশ্চয় পত্রিকায় দেখেছেন- ‘আমেরিকান বেস অব জাল’ এটা একটা জালিয়াতের কারখানা বানিয়েছি আমরা। আমাদের বুদ্ধি আছে, না হলে করতে পারতাম না। কিন্তু খারাপ কাজে লাগাচ্ছে। যে জালিয়াতি করতে জানে, তার আছে অনেক ক্রিয়েটিভিটি।..”
আসলে এই লোকটি নিজেকে দিয়ে সারাদেশের মানুষকে চিন্তা করে, বিচার করে, মূল্যায়ন করে। তাই এমনটি বলতে পারছে অবলীলায়।
অথচ একজন সরকার প্রধান(তা অবৈধ হলেও) যদি এমন চরম আপত্তিজনক মন্তব্য করে নিজের দেশ নিয়ে তাহলে সেই দেশের অবস্থানটি কোথায় গয়ে দাঁড়ায় ভাবুনতো একবার।
নিজের ওপর বিশ্বাস নেই তার নিজেরই। নিজেই চরম জালিয়াতি করে আজকের এই অবস্থায় এসেছেতো তাই সারাদেশের মানুষকে তার মত জালিয়াত-প্রতারক ভাবে।
সতিকার অর্থে তার মতো এমন ভন্ড-প্রতারক জালিয়াত এই বাংলাদেশে আর জন্মেছে কিনা সে বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

শান্তিতে নোবেল পেয়েছিল যুগ্মভাবে। গ্রামীন ব্যাংকের নারী সদস্য ও ড. ইউনুস। কিন্তু সেক্ষেত্রে এই প্রতারক-জোচ্চোর ইউনুস ও তার সঙ্গীসাথীরা প্রচার করে থাকে বাংলাদেশে একমাত্র নোবেল লরিয়েট ড. ইউনুস।
এদেশের দরিদ্র মানুষকে নিয়ে ইউনুস যে হারে প্রতারনা-জোচ্চুরি করেছে ও করে যাচ্ছে তা আর নতুন করে কিছু বলার নেই।আসলে তার মূল উত্থানতো এই জালিয়াতির মাধ্যমেই।পুরো জাতির সাথে জালিয়াতি করেইতো আজকে এই ভন্ড ইউনুস এই অবস্থায় এসেছেন।
জালিয়াতিতে চ্যাম্পিয়ন এই ইউনুসের বক্তব্যে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
সোহেল মজুমদার ইমন নামে এজন ক্ষেদোক্তি করেছেন এভাবে-“ গজব ইউনুসের এই লাল কথায় দুনিয়া বাংলাদেশিদের জন্য আরো কঠিন হবে । ইউরোপ – আমেরিকার দেশের ইমিগ্রেশন ইস্পাত কঠিন করেছে, বৈধ ভিসা নিয়ে আসার পরও এসব দেশে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না, উল্টো বাংলাদেশে ফেরত পাঠাছে। স্টুডেন্টসহ সব ভিসাসহ সব ক্ষেত্রেই লাল হচ্ছি আমরা। ”
# জালিয়াতি যার মূল শিক্ষা ও ব্যবসা তিনিই ইউনুস।
আমাদের এই নোবেল লরিয়েট প্রফেসর ড. মুহম্মদ ইউনুসের একটি গল্প মনে পড়ে গেল। এটি তার নিজস্ব স্বীকারোক্তিমূলক বয়ান। যা লেখা রয়েছে তার লিখিত ‘গ্রামীণ ব্যাংক ও আমার জীবন’ নামের বইতে, আমি এমনটিই মনে করতে পারি।

ইউনুসের ( তখন তিনি সাহেব হয়ে ওঠেননি) বয়স তখন মাত্র ১২ বছর। তাই ভদ্র ভাষায় ইউনুস সাহেব বলতে পারছিনা বলে দু:খিত। পরিবারের সাথে থাকেন চট্টগ্রাম নগরীর ব্যস্ততম ব্যবসায়িক এলাকা ২০, বক্সির হাট রোডে।
বই পড়তে পছন্দ করেন। কিন্তু সেই ৫০-এর দশকে বাংলা বই খুব অপ্রতুল। সেসময় কলকাতা থেকে ছোটদের মাসিক পত্রিকা ‘শুকতারা’ প্রকাশিত হত।
ইউনুসের চিন্তা-কিভাবে এই পত্রিকা ফ্রি পাওয়া। সে সময় পত্রিকা ফ্রি পাওয়ার একটি উপায় ছিল। তা হলো, বিভিন্ন পত্রিকা তার পাঠকদের জন্য প্রতিযোগিতা আয়োজন করতো।
আগের সংখ্যার বিজয়ী প্রতিযোগীর নাম ঠিকানা পত্রিকা পরের সংখ্যায় প্রকাশিত হয় এবং পুরষ্কার হিসাবে পত্রিকা বিশেষ ছয় মাস বা ১ বছরের ফ্রি সাবস্ক্রিপশন প্রদান করতো। এইসব আমরা এখনও দেখি। সেই ৫০-এর দশকেও সেই সুযোগ ছিল।
এতটুকু পড়ে আপনারা হয়তো ভাবছেন, ইউনুস এমন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়েছিলেন নিশ্চয়ই। মেধাবী মানুষ, হতেই পারেন। কিন্তু আসলে বিষয়টি তা নয়।
ইউনুস এক অভিনব পন্থা আবিষ্কার করে ফেললেন। করেছিলেন। আমার ধারণা আজ এত বছর ধরেই তিনি সেই পন্থাটিই অবলম্বন করে এতটুকু উঠেছেন।
এই কিশোর ইউনুস যেটা করেছিলেন তা অনেকেই হয়তো জানেন পাঠকেরা যারা ড. ইউনুসের সেই বইটি পড়েছেন। তিনি পত্রিকার পূর্ববর্তী সংখ্যায় প্রকাশিত একজন বিজয়ীর নাম বেছে নিয়ে সম্পাদক বরাবর চিঠি লিখেছিলেন।
তাতে তিনি লিখেছিলেন- ‘মাননীয় সম্পাদক, আমি অমুক, একজন বিজয়ী প্রতিযোগী। আমার ঠিকানা বদল হয়েছে। এখন থেকে আমার বিনামূল্যে প্রাপ্য সংখ্যা বক্সির হাট রোডের অমুক ঠিকানায় পাঠাবেন।’
তার এই কূটকৌশল ছিল অত্যন্ত কার্যকর। পত্রিকা কর্তৃপক্ষ সেই চিঠির ঠিকানা অনুযায়ী পরের মাস থেকে তাকে ফ্রি পত্রিকা পাঠাতে থাকে। কিন্তু তিনি একবারের জন্যও ভাবেননি এটি অত্যন্ত প্রতারণার বিষয়।
তিনি সত্যিকার বিজয়ীকে বঞ্চিত করেছেন। অন্য মানুষের বিজয়কে নিজের নামে শিফট করে বেনিফিটেড হওয়ার কার্যকর পদ্ধতি, ইউনুস সাহেব ১২ বছর বয়সেই রপ্ত বা আবিষ্কার করেছিলেন।
অথচ তার কাছেই এখন বাংলাদেশের ক্ষমতা। তাহলে একটু ভাবুনতো কোথায় এবং কেমন আছি আমরা এই বাংলাদেশের জনগণ?
এই সেই শান্তিতে নোবেল পাওয়া প্রফেসর ড, মুহম্মদ ইউনুস। যতদূর জানা যায় তিনি নিজে ব্যক্তিগতভাবে নামাজ-কালাম-হজ-রোজার ধারে কাছেও নেই।
যদিও যদিও গতবছর (২০২৫ সালে) ঈদের জামাতে চেয়ারে বসে নামাজ পড়ার ভান করতে দেখা গেছে। সেটিও ইসলাম ধর্মের সাথে প্রতারণা। একই সঙ্গে দেশবাসীর সাথে প্রতারণা। এই প্রতারক ইউনুসই কিন্তু নানা ফন্দি-ফিকির করে সুদের ব্যবসায় অত্যন্ত সফল হয়েছেন।

এমনই এক প্রতারক-জালিয়াতের খপ্পরে পড়েছে বাংলাদেশের জনগণ।
আজকের এই পরিস্থিতিতে এসে বিশ্বখ্যাত রুশ লেখক, ঔপন্যাসিক এবং দার্শনিক লিও তলস্তয়ের একটি কথা খুব মনে পড়ছে।তাঁকে বাস্তববাদী কথাসাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কারিগর মনে করা হয়। তলস্তয় সাহিত্য ছাড়াও নৈতিক ও আধ্যাত্মিক চিন্তাধারার জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
তাঁর বিখ্যাত উক্তির মধ্যে রয়েছে-“সবাই বিশ্ব পরিবর্তন করার কথা ভাবে, কিন্তু কেউ নিজেকে পরিবর্তন করার কথা ভাবে না”
এই যে প্রতারক-ভন্ড-জোচ্চোর ইউনুস এতসব বাগাড়ম্বর করেন, তিনি একবারও কি ভেবেছেন তার নিজের খাসলৎ বদলানোর কথা? ভাবেননি।কথায় বলৈনা- চোরের অঅবার বাটপারের ভয় কি ?কারন জোচ্চোরের আবার মান-সম্মান কি!!
#রাকীব হুসেইন: লেখক, প্রাবন্ধিক।
