চট্টগ্রাম: রাইটস অ্যান্ড রিস্কস অ্যানালাইসিস গ্রুপ (RRAG) ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কমনওয়েলথ এবং জাপানের আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের প্রতি বাংলাদেশের চলমান ১৩তম সংসদ নির্বাচনে সরকারের মদতপুষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠী কর্তৃক আদিবাসী বৌদ্ধ প্রার্থীদের ওপর হুমকির বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানিয়েছে।

রাঙ্গামাটি সংসদীয় আসনের স্বতন্ত্র বৌদ্ধ প্রার্থী পহেল চাকমা এবং খাগড়াছড়ি সংসদীয় আসনের ধর্মজ্যোতি চাকমা ও তাদের প্রচার দলের প্রধান সদস্যদের পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন সরকার সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (PCJSS) মৃত্যুর হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এছাড়া, খাগড়াছড়ি জেলার লোগাং ইউনিয়নের দুদুকছড়া এলাকায় ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পিসিজেএসএস-এর প্রায় ৭৫ জন সশস্ত্র ক্যাডার মোতায়েন করেছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগ রয়েছে যে, জাতীয় রাজনৈতিক দল — বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থীদের ভোট দিতে আদিবাসীদের বাধ্য করার জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

যদিও পাহেল চাকমা গত ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে হুমকির বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ/ জেনারেল ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন, তবুও বাংলাদেশ পুলিশ আজ পর্যন্ত কোনো এফআইআর (FIR) নথিভুক্ত করেনি ।

একইভাবে, ২০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বিদর্শি চাকমা নামে এক ব্যক্তি খাগড়াছড়ি জেলার জেলা প্রশাসকের কাছে ধর্মজ্যোতি চাকমার পক্ষে একটি জাল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারপত্র জমা দেন, কিন্তু খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক এই জালিয়াতির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।

এসব জনমনে আরও ভীতি সৃষ্টি করেছে । উভয় প্রার্থীই তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে অস্বীকার করাতে এখন তাদের মৃত্যুর হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

RRAG-এর পরিচালক সুহাস চাকমা বলেন, “পিসিজেএসএস একটি সরকার সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী। ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চুক্তির পর তারা আত্মসমর্পণ করলেও তাদের সশস্ত্র শাখা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

পিসিজেএসএস সভাপতি সন্তু লারমা গত ২৮ বছর ধরে কোনো নির্বাচন ছাড়াই পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান পদে বহাল আছেন।

যেহেতু আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি ‘রাষ্ট্রীয় প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা’ ভোগ করেন এবং একইসাথে নিজস্ব সশস্ত্র বাহিনী রাখার অনুমতি পান, সেহেতু পিসিজেএসএস কার্যত একটি সরকারি সশস্ত্র বাহিনী।

পিসিজেএসএস সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি সবার জানা; ৫ জুন ২০২৫ তারিখে ভারতের ত্রিপুরার আগরতলায় তাদের ১৩ জন ক্যাডার গ্রেফতার হয়।

এছাড়া, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে ভারতের গৌহাটি হাইকোর্ট ২০১৩ সালের ৭ মার্চ পিসিজেএসএস (PCJSS)-এর মালিকানাধীন ৩১টি একে-৪৭ রাইফেল, ১টি এলএমজি (LMG), ১টি ব্রাউনিং অটোমেটিক রাইফেল এবং গোলাবারুদ—একে-৪৭ (৭.৬২ মিমি)-এর ৮৬ রাউন্ড তাজা গুলি, এলএমজি (৫.৫৬ মিমি)-এর ২৪ রাউন্ড তাজা গুলি এবং বিএআর (BAR) রাইফেলের (৭.৬২ মিমি)-এর ৬৯৯ রাউন্ড তাজা গুলি জব্দের বিষয়ে বিচারিক রায় প্রদানকালে পিসিজেএসএস-কে একটি ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে অভিহিত করেছে”।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, পিসিজেএসএস নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করলেও জাতীয় রাজনৈতিক দল — বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থীদের জেতানোর জন্য আদিবাসী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মৃত্যুর হুমকি দিচ্ছে ।

রাইটস অ্যান্ড রিস্কস অ্যানালাইসিস গ্রুপ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কাছে খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি জেলায় অবিলম্বে নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল প্রেরণ করা, স্বতন্ত্র প্রার্থী পাহেল চাকমা এবং ধর্মজ্যোতি চাকমাসহ অন্যান্য প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মৃত্যুর হুমকির বিষয়ে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তক্ষেপ আর বাংলাদেশ সরকারকে
তাদের আধাসামরিক বাহিনী পিসিজেএসএস (সন্তু) ক্যাডারদের সরকারি ব্যারাকে রেখে মানবাধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *