ঢাকা: শুরু হলো গৌরবের, আত্মবলিদানের ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সকল ভাষা শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়ে পোস্ট করা হয় ফেসবুকে।

এবং আহ্বান জানানো হয় ‘একুশের চেতনায় গর্জে ওঠো আবারও’!

রক্ত দিয়ে মায়ের ভাষার অধিকার আদায়ের মাস ফেব্রুয়ারি। ১৯৪৭ সাল থেকে যে সংগ্রাম শুরু করে তা বিভিন্ন চড়াই উতরাই পেরিয়ে চূড়ান্তরূপ লাভ করে ১৯৫২ এর ২১ শে ফেব্রুয়ারি।

সেদিন আন্দোলনরত ভাষাসৈনিকদের উপর নির্মমভাবে গুলি চালিয়েও দমাতে পারেনি ভাষার এই সংগ্রাম। প্রাণ যায় সালাম, রফিক, বরকত সহ আরও অনেকের।

তাঁরা মাতৃভাষার জন্য রক্ত দিয়েছেন, জীবন দিয়েছেন। যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে পেয়েছি আমাদের বাংলা ভাষা।

সকালে যে সূর্যের উদয় হবে, তাতে মিশে থাকবে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/আমি কি ভুলিতে পারি’র করুণ সুর।

বাঙালির কাছে এই মাস ভাষার মাস, দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হওয়ার মাস।

শোকাবহ এ মাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে গৌরব আর অহঙ্কারের অধ্যায়। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে দুর্বার আন্দোলনের পথ ধরে শুরু হয় বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন।

একাত্তরে ৯ মাস পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।

এমন উজ্জ্বল ইতিহাস পৃথিবীর আর কোনো দেশের নেই।

কারণ, পৃথিবীর একমাত্র জাতি বাঙালি ভাষার জন্য জীবন দিয়েছিল।

ভাষার জন্য বাংলার দামাল সন্তানদের আত্মত্যাগ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায় ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর।

ইউনেসকো ২১ ফেব্রুয়ারি দিনটিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ ঘোষণা করে। এর মধ্য দিয়ে একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে এখন বিশ্বের দেশে দেশে বিভিন্ন ভাষার ক্ষেত্রে পালিত হয়।

আজ সেই ভাষা শকুনের থাবায় আহত। তবে আহত হলেও উঠে দাঁড়াতে হবে ফিনিক্সের মতো। ছাই থেকে বের জ্বলে না উঠলে এই দেশ ধ্বংস হতে আর বেশি বাকি নেই।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *