চট্টগ্রাম: ওরা আত্মহত্যা করবে কেন? এই দেশে হিন্দুদের মেরে ফেলা হয়। এখানে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের প্রয়োজন নেই। বিশ্বের যে কোনো দেশ বলছে বাংলাদেশে হিন্দুদের মেরে ফেলা হয়!
এইভাবেই মেরে ফেলা হয়েছে এক মেধাবী ছাত্রীকে।
চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) আবাসিক হলের কক্ষ থেকে উপমা দত্ত (২১) নামের এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত উপমা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন (ডিভিএম) অনুষদের ২৬তম ব্যাচের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি মাগুরা জেলার সর্বসাংদা গ্রামে।
গত বৃহস্পতিবার তথা ২৯ জানুয়ারি রাত ৯টার দিকে নগরীর খুলশী থানাধীন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নিজ কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তা হঠাৎ করে হিন্দুরাই কেন ঝুলন্ত? প্রশাসনের জবাব আছে? না সব জবাব তো বন্ধ করে দিয়েছে আমাদের বিশিষ্ট স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
তাঁর বাবা রাঘবদাইড়ে শিক্ষকতা করেন। উপমার একটা ভাই আছে, তিনিও মেধাবী।
শান্ত ও আত্মপ্রত্যয়ী মেয়ে উপমা আত্মহত্যা করবে কেন? এই প্রশ্ন সকলের।
যেটা সবাই বলছে, সেটা হলো- আত্মহত্যাই যদি হবে তাহলে হাত-পায়ের রগ কাটা ছিল কেন?
দেশে আজ যত্রতত্র লাশ মিলছে। ঘরে, বাইরে, রাস্তায়, নদীতে, বাগানে, ডোবায় সবখানে। এসব মৃত্যুর সঠিক তদন্ত নেই। আর উপমা দত্ত যখন সংখ্যালঘু, তখন তা যেকোনো কৌশলেই ধামাচাপা দেয়া যাবে।
যারা উপমার শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে গেছেন, তাঁরা বলছেন, ‘ ওর শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান হলো আজ। ওর বাবা-মা দুজনেই মন্ত্র পড়ে শ্রাদ্ধকর্ম করছে৷ এই দৃশ্য মেনে নেয়া কঠিন। একজন বাবা নিজে মেয়ের মুখাগ্নি করেছেন, তারপর মস্তক মুণ্ডন করে তার শ্রাদ্ধ কর্ম করছেন। একজন বাবার নিকট এটা ভীষণ বোঝা। বেশিক্ষণ থাকতে পারিনি ওদের বাড়িতে’।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সহপাঠী সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন (বৃহস্পতিবার) সকালেও উপমা স্বাভাবিকভাবে ক্লাস এবং পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন।
বিকেলের দিকে তিনি হলের নিজ কক্ষে ফিরে যান। সন্ধ্যার পর থেকে তার কোনো সাড়া না পাওয়ায় সহপাঠীদের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়।
অনেকক্ষণ ডাকাডাকির পরও দরজা না খোলায় বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো হয়।
পরে প্রশাসন ও পুলিশ কক্ষের দরজা ভেঙে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় উপমাকে ঝুলতে দেখে।
আজ উপমা, কাল খোকন, পরশু?
