ঢাকা: বিষয়টি খেয়াল করার মতো। একসময়ের বন্ধু, আদর্শগত মিল জামাত বিএনপি আজ এত দূরে কেন?
আজ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কথা বলছে বলেই কি ইতিহাস মুছে যাবে তাদের?
জামায়াত ও বিএনপির বর্তমান দ্বন্দ্ব আসলে আদর্শগত নয়; আদর্শের দিক থেকে তারা এক।
তারা মুক্তিযুদ্ধবিরোধী। কিন্তু বর্তমানে এটি নেতৃত্ব, নিয়ন্ত্রণ ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের লড়াইয়ের কারণে আলাদা।
বিএনপি দীর্ঘদিন জামায়াতকে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করলেও সমান অংশীদার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি, এদিকে জামায়াত নিজেকে একক ইসলামী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
বর্তমানে অপ্রকাশ্যে তারাই সরকার পরিচালনা করছে।
ইতিহাসের দায় কেউ মুছতে পারবে না। এই দুই দলের কেউ অন্যায় যে করেছে, কিংবা করছে তা অস্বীকার করতে পারে না।
তারেক রহমানের পর সালাহউদ্দিন আহমদ কী বলেছেন দেখবো:
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আগামীতে হয়তো এমনও শুনতে হবে জামায়াত ইসলামী এদেশের স্বাধীনতার পক্ষে যুদ্ধ করেছিল। দেশে আজ নতুন করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির অপচেষ্টা চলছে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চকরিয়ার মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলা কোনাখালী ইউনিয়নের জংগলকাটা নির্বাচনি পথসভায় তিনি এ কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জামায়াতে ইসলামী- যারা এই দেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তারাই আজ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বর্ণনা করার চেষ্টা করছে।
গতকাল তাদের দলের আমির যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেখানে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্য উপস্থাপন করেছেন।
তিনি দাবি করেছেন যে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি-কর্নেল অলি দিয়েছেন।
তিনি বলেন, এই ধরনের বক্তব্য অস্বাভাবিক নয়। কারণ যারা একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিলো, তারাই আজ ইতিহাস বিকৃত করবে- এটাই স্বাভাবিক।
কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ সব জানে। জনগণ জানে, আজ তারা নতুন রূপে নিজেদেরকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার যে চেষ্টা করছে, তা সম্পূর্ণ প্রতারণা ও ভণ্ডামি।
আরো বলেন, জামায়াত ইসলাম একজন মুক্তিযোদ্ধাকে দলে যুক্ত করে, কার্যত ভাড়া করে, একটি সাইনবোর্ড দেখাতে চাইছে যে তাদেরও মুক্তিযোদ্ধা আছে।
সেই মুক্তিযোদ্ধাকে ব্যবহার করে তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে নিজেদের অবস্থান দেখানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু দেশের প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা এটা কখনোই মেনে নেবে না এবং আমরা বিশ্বাস করি, তারা এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাবেন।
