ঢাকা: শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর থেকেই দেশ বিশৃঙ্খল অবস্থায় চলে গিয়েছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় মাজার ভাঙ্গার ঘটনা ঘটছে।

মাজারে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে ঘিরে মানুষজন আহতও হয়েছে, এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইভেন্ট খুলেও মাজার ভাঙ্গার আহ্বান জানানো হয়েছে।

শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়েছে গত ২০২৪ সালের জুলাইয়ে। তারপর থেকে গত দেড় বছরে বাংলাদেশে ৯৭টি মাজারে হামলা হয়েছে।

অথচ অবিশ্বাস্যভাবে এই নিয়ে মামলা হয়েছে মাত্র ১১টি। এর মধ্যে ১০টি মামলার তদন্তে ‘কোনও অগ্রগতি নেই’ বলে দাবি।

‘মাকাম: সেন্টার ফর সুফি হেরিটেজ’–এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর ১৭ মাসে সারা দেশে ৯৭টি মাজারে হামলা হয়েছে।

এর মধ্যে হামলার ঘটনা সবচেয়ে বেশি মাজারে হামলার ঘটেছে ঢাকা এবং চট্টগ্রাম বিভাগে।

সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে সুফি সমাজকেন্দ্রিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘মাকাম: সেন্টার ফর সুফি হেরিটেজ’–এর এ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

মাকামের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ইমরান হুসাইন তুষারের সঞ্চালনায় সমন্বয়ক মোহাম্মদ আবু সাঈদ প্রতিবেদনের মূল বক্তব্য পাঠ করে শোনান।

মাজারে হামলার কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫৯টি হামলা ধর্মীয় মতবিরোধ, ২১টি স্থানীয় বিরোধ, ১৬টি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে হয়েছে। পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে হামলার ঘটনা ঘটেছে ১টি হামলা।

এবং সবচেয়ে বেশি ১৩টি হামলায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের স্থানীয় নেতা–কর্মী ও সমর্থকেরা জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। ৪টি ঘটনায় বিএনপি, ৪টিতে জামায়াতে ইসলামী, ২টিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, ১টিতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনিসিপির), ১টিতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতা–কর্মীদের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর থেকে সারা দেশে ১৩৪টি মাজারে হামলার খবর পাওয়া গেলেও অনুসন্ধান করে ৯৭টিতে হামলার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

পাশাপাশি ৩৭টি হামলার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে ৬টি গুজব শনাক্ত করা হয়েছে।

১০টি ঘটনায় হামলা চালানোর আগে মাইক ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আগে থেকে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। এসব ঘটনায় মামলা হয়েছে ১১টি।

মাকামের সমন্বায়ক মহম্মদ আবু সইদ বলেন, “রাজবাড়ির নুরাল পাগলার মাজারে হামলার ঘটনায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হলে পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে। বাকি ১০টি মামলায় আমরা কোনও অগ্রগতি দেখতে পাইনি।’

অন্যান্য অনেক ঘটনায় মামলা না হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “বেশিরভাগ ঘটনায় মাজারে বসবাসকারীদের মারধর করে উচ্ছেদ করা হয়েছে। বর্তমানে তারা ফিরে এসে মামলা করার মতো অবস্থায় নেই।”

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *