দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দর চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় দীর্ঘমেয়াদি কনসেশন সংযুক্ত আরব আমিরাতের বন্দর পরিচালনাকারী কোম্পানি ডিপিওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয় নিয়ে বেকায়দায় পড়েছে দেশের স্বার্থ বিক্রি করে দেয়া সুদখোর ইউনুস গং।
গত চব্বিশের কথিত জুলাই আন্দোলনে (জুলাই সামরিক-জঙ্গী ক্যু)’র অন্যতম সহযোগী বিএনপি’র শ্রমিক সংগঠন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলসহ অন্য সংগঠনগুলো এই দেশবিরোধী চুক্তির বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে।
দেশের আমদানী রপ্তানীর অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম বন্দরে গত ৫ দিন ধরে অপারেশনাল কাজ বন্ধ বললেই চলে। তার ওপর সব শ্রমিক সংগঠনগুলো বন্দরে অবিরাম বন্ধের ডাক দিয়েছে।
আমদানী রপ্তানীতে যদি অচলাবস্থার সৃষ্টি হয় তা সামলানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে ইউনুস সরকারের।
অনেকেই অভিযোগ করেছেন- দেশের শতকরা ৯০ ভাগ আমদানি-রপ্তানি হয় এই বন্দর দিয়ে। সেই বন্দর যখন একটা বিদেশি কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ ও কর্তৃত্বে যাবে, তখন পুরো বাংলাদেশই জিম্মি হয়ে পড়বে যুক্তরাষ্ট্রের একটা পকেট রাষ্ট্রের কোম্পানির হাতে।
এর মানে হচ্ছে সাম্রাজ্যবাদী একটা বিশ্বব্যবস্থার মধ্যে বাংলাদেশ একটা বড় ধরনের নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পড়বে।
তারা বলছেন-‘বিষয়টা কি এ রকম যে বিদেশিরা সরকারের মধ্যে থেকেই চুক্তি করার জন্য লম্ফঝম্ফ করছে? তাদের কি চাকরি চলে যাবে, নাকি বড় কন্ট্রাক্ট চলে যাবে, নাকি তারা যে দেশের নাগরিক, সেই দেশে ঢুকতে পারবে না, নাকি তারা একটা আগাম কমিশন খেয়েছে, যার জন্য তাদের এটা করতেই হবে।
আর নাকি তাদের কোনো অঙ্গীকার বা কারও কাছে দাসখত দেওয়া ছিল যে এই চুক্তি তাদের করতেই হবে? নইলে কী কারণে একটা ভয়ংকর বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করছে এই সরকার।
তবে চট্টগ্রাম তথা বাংলাদেশের অনেক রাজনীতিবিদ ও শ্রমিক নেতাদের অনেকে বলছেন, এই কঠিন সময়ে মহিউদ্দিন চৌধুরীর মতো চট্টগ্রাম বন্দর প্রেমী, বন্দরের তথা দেশের তথা জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য একজন নেতার খুব বেশি প্রয়োজন।

কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো চট্টগ্রামে আর তেমন কোন নেতা গড়ে ওঠেনি। দেশেও নেই। কারণ এখনকার অধিকাংশ শ্রমিক নেতা বলি আর রাজনৈতিক নেতা বলি তাদের অধিকাংশই হয় নানা কায়েমী স্বার্থ রক্ষায় ব্যস্ত হয়ে নিজেদের অস্তিত্ব বিলীন করে দেন। এসব নেতা বেচাকেনা হয়। তা নানা উপায়ে।
সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকেরা যেমন বেচাকেনা হয় ইদানীং অহরহ ঠিক তেমনি এসব কথিত শ্রমিক নেতারাও বিক্রি হয়ে যান অবলীলায়।
বন্দরের আন্দোলন ঠেকাতে বন্দরের শ্রমিক কর্মচারীদের ওপর চালানো হচ্ছে স্টীম রোলার। এরই মধ্যে অন্তত ১১ জন কর্মচারীকে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ঢাকার পানগাঁও ও মংলা বন্দরে তাৎক্ষণিক বদলি করা হয়েছে।
আরো তালিকা তৈরী হচ্ছে। শুধু তাই নয় আন্দোলনরতদের বিরুদ্ধে চাকরিচ্যুতিসহ গ্রেপ্তারী প্রক্রিয়াও চিন্তাভাবনা করছে ইউনুস সরকারের লোকজন। তবে এই আন্দোলনের সঙ্গে বন্দর ব্যবহারকারি বিভিন্ন সংগঠনের সম্মতি ও সহায়তা থাকায় গ্যাঁড়াকলে আটকে গেছে অবৈধ-অসাংবিধানিক ইউনুস সরকার ও তাদের মদতদাতারা।
তবে যে কোনভাবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির আগে এই চুক্তি করিয়ে নিতে চায় এই ডিপিওয়ার্ল্ডের নেপথ্যে থাকা আমেরিকা। এজন্য যা যা প্রয়োজন তার সবকিছুই করতে রাজি তারা।
চট্টগ্রাম বন্দরের অন্যতম লাভজনক এই এনসিটি যদি নানাহাত ঘুরিয়ে আমেরিকা তাদের হস্তগত করতে পারে তাহলে আর তার দেশের সামরিক বাহিনী পক্ষে বাংলাদেশে ঢোকা কোন বিষয়ই নয়।
সেজন্যই আমেরিকা নানা কৌশলে বাণিজ্যের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের এই এনসিটি’র মত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এই টার্মিনালটির দখল নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

আমেরিকা চট্টগ্রাম বন্দর তথা বঙ্গোপসাগরসহ ভারত মহাসাগরে তাদের অধিপত্য সৃষ্টি ও বিস্তারে অনেকদিন থেকেই চেষ্টা করে যাচ্ছে। একাত্তর সালে চেষ্টা করেছিল সপ্তম নৌবহর পাঠিয়ে।
কিন্তু তখন সোভিয়েত ইউনিয়নের থ্রেটের কারণে পারেনি। বাংলাদেশে আমেরিকা তখন নানাভাবে প্রভাব বিস্তার করতে গিয়েও সুবিধে করতে পারেনি বঙ্গবন্ধুর একগুঁয়েমি দেশপ্রেমের কারণে।
তারপর তো সিআইএ-আইএসআই মিলে বঙ্গবন্ধুকে ১৯৭৫ সালে সপরিবারে খুনই করে ফেললো।
এরপর নানাভাবেই নানা কৌশলে চট্টগ্রাম বন্দরে স্থায়ীভাবে ঢুকতে চেয়েছে আমেরিকা। এমনকি বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের একপ্রকার রাজি করিয়ে ফেলেছিল এসএসএ ( স্টিভিডোরিং সার্ভিসেস অব আমেরিকা) নামে একটি কোম্পানীর নামে।
তখনকার আওয়ামীলীগ সরকারের একজন মন্ত্রী এই এসএসএ’র বাংলাদেশী এজেন্ট ছিলেন। তার সেই প্রতিষ্ঠান থেকে নানাভাবেই সরকারের ওপর মহলে যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করা হয়েছিল।
এসএসএ যে টার্মিনালটি করতে চেয়েছিল তা ছিল খুবই স্পর্শকাতর জায়গায়। এখন চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর মোহনার কাছে বাংলাদেশ নেভাল একাডেমির কাছেই সেই এসএসএ প্রস্তাবিত টার্মিনাল করার জন্য প্রস্তাবিত ও নির্ধারিত জায়গা ছিল।
এই পক্ষে নানা যুক্তি দেখাতে বিভিন্ন লবিষ্ট নিয়োগ করা হয়েছিল তখন। যতদূর জানি ঢাকা-চট্টগ্রামের বেশ কিছু সংবাদমাধ্যম, সাংবাদিকদের পেছনে প্রচুর টাকা, উপঢৌকন, বিদেশ সফরসহ নানা কিছুই করা হয়েছিল।
কিন্তু যতদূর মনে পড়ে তখন চট্টগ্রামে আওয়ামীলীগ নেতা ও চট্টগ্রাম সিটি মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ও দেশপ্রেমিক কিছু শ্রমিক নেতৃত্বের প্রচন্ড বিরোধিতার কারণে এসএসএ টার্মিনাল আর হতে পারেনি।
এমনও দেখেছি তখন পত্রিকাতে যে মহিউদ্দিন চৌধুরী তখন বলেছিলেন- “এই এসএসএ টার্মিনাল করতে বাঁধা দেয়ার জন্য আমাকে যদি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ও আমার দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনাও যদি আমার বিরুদ্ধে দলয়ি সিদ্ধান্ত নেন তাতেও আমি দেশবিরোধী চুক্তি করতে দেবোনা। আমি বীর চট্টগ্রামবাসীকে নিয়ে ওই মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্ত রুখে দেবোই।”
তারপরও এই মহিউদ্দিন চৌধুরীকে আওয়ামীরীগেরই অনেক নেতা বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন এসএসএ টার্মিনালের পক্ষে।
কিন্তু তারা কেউই মহিউদ্দিন চৌধুরীর যুক্তি ও দৃঢ়তার সাথে পেরে ওঠেননি। এ নিয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সঙ্গে মহিউদ্দিন চৌধুরীর বেশ দূরত্বও তৈরী হয়েছিল।
কিন্তু দমবার পাত্র ছিলেন না ‘চট্টলবীর’ খ্যাত মহিউদ্দিন চৌধুরী। তিনি শুধু রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করেই ক্ষ্যান্ত হননি। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ড. কামাল হোসের মাধ্যমে ঢাকায় হাইকোর্টে জনস্বার্থে রীটও দায়ের করেছিলেন।
সেই মামলায় আদালত এসএসএ’র বিরুদ্ধেই রায় দিয়েছিল যতদূর মনে পড়ে। তবে আদালতের রায়ের চেয়ে রাজপথের অন্দোলন-সংগ্রাম অনেক বেশি গুরুত্ব বহন করেছিল তখন।
এরও আগে ১৯৯৬ সালে খালেদা জিয়ার ভোটার বিহীন অত্যন্ত বিতর্কিত ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনী প্রহসনের জবাব দিতে তখন যে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছিল আওয়ামীলীগ তখন কিন্তু এই মহিউদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বেই চট্টগ্রামে কঠিনভাবে অসহযোগ আন্দোলন সফল হয়েছিল।
তার ডাকে তখন চট্টগ্রাম বন্দরে অপারেশনাল কাজ পুরোপুরি বন্ধ ছিল। সেনাবাহিনীর সশস্ত্র কড়া টহল নামিয়েও চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিক কর্মচারীদের দিয়ে কাজ করানো যায়নি। দিনের পর দিন চট্টগ্রাম বন্দর বন্ধ ছিল।
দেশের অর্থনীতির প্রবেশদ্বার এই চট্টগ্রাম বন্দর যখন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল তখন আর পারেনি তখনকার খালেদা জিয়ার সরকার। পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন।
তার মানে আমরা বাংলাদেশের রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাস থেকে দেখছি যে, দেশের এই প্রধান প্রবেশদ্বার যদি কোন কারণে কয়েকদিন বন্ধ থাকে তাহলে যত শক্তিশালী সরকারই হোক না কেন তার পতন হতে বাধ্য।
অবশ্য চট্টগ্রামে এখন যে শ্রমিক আন্দোলন তাতেদ তেমন কোন দৃঢ়চেতা শ্রমিক নেতৃত্ব নেই। তবে এখনই যে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে তাতে এই অবস্থা খুব বেশিদিন চলতে পারেনা। সরকারের গদি টলমল হয়ে পড়বে। এতে কোন সন্দেহ নেই।
নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) দুবাইভিত্তিক অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষণা করেছেন চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম ঐক্য পরিষদের নেতারা।
আমরা সরকারের এই হঠকারী সিদ্ধান্ত (এনসিটি চুক্তি প্রক্রিয়া) বাতিল না করা পর্যন্ত আমাদের ২৪-ঘণ্টার কর্মবিরতি কর্মসূচি অনির্দিষ্টকালের জন্য চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
বন্দরে এই অচলাবস্থার ফলে আমদানি-রপ্তানি পণ্য খালাস ও জাহাজিকরণ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়েছে, যা দেশের অর্থনীতিতে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
বিশেষ করে রমজানের আগে বাজারে তীব্র পণ্য সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তারা দেশের স্বার্থে সরকার ও শ্রমিক সংগঠনগুলোকে নমনীয় হয়ে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত এই অচলাবস্থা নিরসনের আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যথায় দেশের অর্থনীতির অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাবে বলে সতর্ক করেছেন তারা।
বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক পরিচালক ও বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সহ-সভাপতি খায়রুল আলম সুজনও বলেছেন, ‘কর্মবিরতিতে শুধু বন্দরের অপারেশনই নয়, প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডও স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে বন্দর ছেড়ে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা বেশ কয়েকটি জাহাজ যাত্রা করতে পারছে না, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বন্দরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে।’
এদিকে হঠাৎ করে উদয় হয়েছেন কথিত জুলাই বিপ্লবের অন্যতম বিতর্কিত সমর্থনকারি অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। এতদিন তিনি রহস্যজনকভাবে নিশ্চুপ ছিলেন।
কিন্তু বিগত আওয়ামীলীগ আমলে তিনি ও তার অনুসারীরা “তেল-গ্যাস-বন্দর সম্পদ রক্ষা” র জন্য একটি জাতীয় কমিটি করে গলা ফাটিয়ে ফেলেছিলেন। দেশব্যাপী লংমার্চ-শর্টমার্চ সহ কত মার্চই যে তারা করেছেন তার ইয়াত্তা নেই। কিন্তু গত দেড় বছর ধরে ইউনুসীয় জঙ্গী গংয়ের অসাংবিধানিক- অগণতান্ত্রিক অপকর্মের বিরুদ্ধে টুঁ শব্দটি করতে দেখা যায়নি। হঠাৎ তার এই ‘ উদয়’ ও চেতনা জাগ্রত হওয়া নিয়েও সন্দেহের দেখা দিয়েছে।

নিশ্চয়ই কোথাও কোন হিসেবের গোলমাল হয়ে পড়েছে তার- এমনটাই বলছেন কেউ কেউ।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের বন্দর পরিচালনাকারী কোম্পানি ডিপিওয়ার্ল্ডের সঙ্গে ( যদিও নেপথ্যে আমেরিকা) চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় দীর্ঘমেয়াদি কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে ‘জাতীয় স্বার্থ বিরোধী তৎপরতার দায়ে’ অভিযুক্ত করেছেন অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ।
তার অভিযোগ, সম্পূর্ণ অনিয়ম, অস্বচ্ছতা এবং জনস্বার্থ ও জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে গিয়ে এনসিটি ইজারার চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে।
তার অভিযোগ- ‘বিদেশি কোম্পানির হাতে দেওয়ার পর নিউমুরিং টার্মিনাল থেকে আয় ও মাশুল কমবে। এই চুক্তি করার জন্য কিছুদিন আগে সব পণ্যের ওপর মাশুল বাড়ানো হয়েছে। ফলে আমদানি ব্যয় ও রপ্তানি খরচ বাড়বে।
এটার ফলে পুরো অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সম্পূর্ণ অস্বচ্ছতা, অযৌক্তিকতা এবং নিয়মনীতিবহির্ভূতভাবে বিভিন্ন ধরনের চুক্তি করা হচ্ছে।
উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীর মুখোশ পরিয়ে এই সরকারে ইউনূস সাহেব (প্রধান উপদেষ্টা) প্রকৃতপক্ষে বিদেশি কোম্পানি এবং বিদেশি রাষ্ট্রের লবিস্টদের নিয়োগ করেছেন।’
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি সবচেয়ে লাভজনক টার্মিনাল হিসেবে বিবেচিত। প্রতি বছর ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে টার্মিনালটির আয়। গত বছরও রেকর্ড আয় হয়েছে।
আন্দোলনরত শ্রমিক-কর্মচারীদের দাবি, লাভজনক টার্মিনালটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বছরে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা রাজস্ব হারাবে রাষ্ট্র।
বিপুল অঙ্কের ডলার বিদেশে চলে যাবে এবং চট্টগ্রাম বন্দরের আর্থিক স্বয়ংসম্পূর্ণতা ও জাতীয় নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ঝুঁকির মুখে পড়বে।
বন্দরে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া শ্রমিকদল নেতা শেখ নুরুল্লাহ বাহার বলেছেন, বন্দরের সর্বস্তরের শ্রমিক কর্মচারী শান্তিপূর্ণভাবে দেশবিরোধী এই উদ্যোগের প্রতিবাদ করছে।
বন্দরে বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ঢুকতে দেওয়া হবে না। এর জন্য যতদিন প্রয়োজন আন্দোলন চলবে বলেও জানান তিনি।
তবে এখন যদি এই এনসিটি চুক্তি ঠেকানো না যায তাহলে আমেরিকা যেকোন সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরের কর্তৃত্ব দখল করবে এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই।
তাই ভারত মহাসাগরসহ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখতে হলে এই এনসিটি চুক্তি প্রক্রিয়া বাতিল করা অত্যাবশ্যক হয়ে পড়েছে।
# রাকীব হুসেইন, লেখক ও প্রাবন্ধিক।
