ঢাকা: অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর গত দেড় বছরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক সহিংসতার মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই সময়ে সংঘটিত ৬০০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনার মধ্যে ৫৫০টিতেই বিএনপি -জামাত’র সম্পৃক্ততা রয়েছে, যা মোট ঘটনার প্রায় ৯১ দশমিক ৯ শতাংশ।
এত সহিংসতার মধ্যেও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলছেন নির্বাচন উৎসবমুখর হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সম্পূর্ণ ভীতিহীন, নিরপেক্ষ এবং উৎসবমুখর হবে বলে সান্ত্বনা দিচ্ছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের সভাকক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু করতে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে এই কথা বলেন তিনি।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী আরো বলেন, খুলনা অঞ্চলে নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। এবারের নির্বাচনে সর্বোচ্চ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে।
নির্বাচনের আগে ও পরে সাত দিন মাঠে থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্তদের ‘ভাতা’ নিয়ে
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে চার দিন, নির্বাচনের দিন এবং নির্বাচনের পর দুই দিন করে মোট সাত দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পূর্ণ শক্তিতে মাঠে থাকবে। ফলে নির্বাচনের পরও কোনো সহিংসতার সুযোগ নেই।
সহিংসতার সুযোগ নেই তো ঝুঁকিপূর্ণ বলেছেন যে সেটা কী?
নিরাপত্তার নিরিখে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের বেশিরভাগ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিতে রয়েছে বলে এর আগে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
তিনি এক মুখে কয় কথা বলেন?
তিনি বলেছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৪২ হাজার ৭৬১টি।
এর মধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র ৮ হাজার ৭৮০টি। গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র ১৬ হাজার ৫৪৮টি ও সাধারণ
ভোটকেন্দ্র ১৭ হাজার ৪৩৩টি। এখানে গুরুত্বপূর্ণ মানে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেন। এতে দেখা যায়, আসন্ন নির্বাচনে ৫৯ শতাংশ ভোটকেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ। তা ঝুঁকিপূর্ণের অর্থ না জেনেই তাহলে বলে দিলেন তিনি? নাকি?
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা কোনটা সঠিক বলেন কোনটা মিথ্যা বলেন?
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, মাঠ পর্যায়ে প্রায় ১ লাখের বেশি সেনাসদস্য মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়া নৌবাহিনীর ৫ হাজার, কোস্টগার্ডের ৪ হাজার, বিজিবির ৩৭ হাজার, র্যাবের ৯ হাজার, পুলিশের প্রায় দেড় লাখ এবং আনসার বাহিনীর প্রায় ৫ লাখ সদস্য নিয়োজিত থাকবে।
