ঢাকা: নারীদের বেশ্যা বলে জামায়াতের আমির। আবার নারীদের নিয়ে এত চিন্তা।

কর্মজীবী নারীরা তো বলেননি, আমাদের কর্মঘণ্টা কমানো হোক। অথচ বড় কঠিন চিন্তা নারীদের জন্য জামায়াতের‌।

কর্মঘন্টা কমানোর বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের একটি বক্তব্য ঘিরে ব্যাপক আলোচনা–সমালোচনা হয়। দলটির নির্বাচনী ইশতেহারে এ বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।

তবে ইশতেহার প্রকাশ অনুষ্ঠানে আবার নারীদের কর্মঘণ্টা কমানোর বিষয়টি সামনে এনেছেন শফিকুর রহমান।

বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে জামায়াতের ইশতেহার প্রকাশ করেন দলের আমির শফিকুর রহমান।

সেখানে তিনি বলেন, নারীদের কর্মঘণ্টা নির্ধারণে জামায়াতের একটি পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে সেটি বাস্তবায়ন করা হবে। এ ক্ষেত্রে জামায়াতের পরিকল্পনা হলো, একজন নারী শিল্পকারখানা বা প্রতিষ্ঠানে যত ঘণ্টা কাজ করবেন, তার টাকা মালিকপক্ষ দেবে। বাকিটা সরকারের দায়।

নির্বাচন এলেই যতো গাঁজাখুরি প্রতিশ্রুতি দিতে শুরু করে, যার বেশিরভাগই বাস্তবায়ন করে না। আর জামায়াতের নারী নিয়ে ভাবনা তো সবচেয়ে বড় মিথ্যা। তাদের চরিত্রের সাথে এগুলো যায় না।

বাংলাদেশের সব কর্মজীবী নারীদের কীভাবে ৩ ঘন্টার বেতন দেওয়া হবে? টাকা আসবে কোথা থেকে?

এদিকে বিএনপি দিতে চাইছে কোটি কোটি ফ্যামিলি কার্ড। টাকা কোথায়?

পৃথিবীর কোথাও এসব ভন্ড প্রতিশ্রুতি পাবেন না, এগুলো কেবল এখানেই সম্ভব। নারীরা ৮ ঘন্টার কাজ ৫ ঘন্টা করলে বাকী কাজ কে করবে? বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্প পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে না? এখনই তো যা হবার হয়ে গেছে।

সব রাজনীতি এখন নারীদের নিয়ে।

আচ্ছা, জামায়াতে ইসলামীর নারীদের প্রতি এতো মায়া কেন? যদি এতো মায়াই থাকে তাহলে কেন নারীদের একটাও এমপি পদে মনোনয়ন দেয় নাই?

বাস্তবে দেখা যায়, গার্মেন্টস শ্রমিকরা ওভার টাইম না করলে শ্রমিকদের সংসার চলে না, মালিকের শিপমেন্ট হয় না।

ওরা ৫ ঘন্টা কাজ করলে ওভারটাইমের টাকা কি সরকার দেবে? মালিক কি অর্ধেক প্রডাকশন দিয়ে কারখানা চালাতে পারবে নাকি ব্যবসা বন্ধ করে দেবে?

জামায়াতের পাল্লায় যে পড়েছে সে শেষ।

কোনো নারী কি এই দাবী করেছে যে , তারা পাঁচ ঘন্টা কাজ করতে চায়? তাহলে জামায়াত কি করে কোন মানুষের জীবন যাপনের সিদ্ধান্ত নেয়?

ক্ষমতা যাওয়ার আগেই নারীদের ঘরে বসানোর ব্যবস্থা?

দেশের নারীদের যাতে মালিকরা কাজে না নেয় সেই ব্যবস্থা করছে এরা।

শফিকুর বলেন, নারী জামায়তের উচ্চ পদে যেতে পারবে না , নারীকে নমিনেশন দেয় নাই আবার ঘরে বসানোর ব্যবস্থা করছে তাদের। নারীরাও একটু বুঝুক।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *