ময়মনসিংহ: ভোটের আগে বাংলাদেশে হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে। সোমবার রাতে নৃশংস এই ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহ জেলায়। মৃতের নাম সুষেন চন্দ্র সরকার (৬২)।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশ ত্যাগের পর থেকেই শুরু হয়েছে অত্যাচার। আগেও ছিলো। ৫ আগস্ট থেকে এর তীব্রতা দেখা যায়।

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মহম্মদ ইউনুস দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই কট্টরপন্থীদের দাপাদাপি আরও বেড়েছে।

সুষেনবাবু একজন ব্যবসায়ী। কারো সাথে শত্রুতা নেই। দক্ষিণকান্দা গ্রামের বাসিন্দা সুষেন পেশায় ছিলেন চাল ব্যবসায়ী।

সোমবার রাতে তিনি তাঁর দোকানেই ছিলেন। রাত ১১টা নাগাদ একদল দুষ্কৃতী সেখানে প্রবেশ করে এবং তাঁর উপর চড়াও হয়।

দুষ্কৃতীরা ধারলো অস্ত্র দিয়ে সুষেনকে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি সেখানেই লুটিয়ে পড়েন। এরপর দোকানের শাটার বন্ধ করে সেখান থেকে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা।

হিন্দু সে কারণেই তাঁকে খুন করা হয়েছে আর বাকিদের যেমন করা হয়েছে।

তবে এগুলো যে সাম্প্রদায়িক হামলা, তা কোনোভাবেই শিকার করবে না এই সরকার। বরং বলবে, এগুলো ভারতের উস্কানি, ভারতের মিথ্যাচার। এই সরকার সবকিছুতেই তো ভারতের জুজু দেখে।

এবং এইসব জঙ্গী কীর্তিকলাপের বরাবর নিন্দা জানিয়ে আসছেন লেখক তসলিমা নাসরিন।

সুষেন চন্দ্র খুনের ঘটনায় একইভাবে তাঁর কলম সোচ্চার। তিনি ফেসবুকে লিখেছেন:

“হিন্দুদের মেরে ফেলা হচ্ছে বাংলাদেশ নামক জিহাদিস্থানে। হিন্দুবিদ্বেষী মুসলমানের সংখ্যা কুৎসিতভাবে বাড়ছে, ঠিক যেমন নারীবিদ্বেষী মুসলমানের সংখ্যা কুৎসিতভাবে বাড়ছে।

সুসেন সরকারকে কুপিয়ে মেরে তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে কয়েক লক্ষ টাকা নিয়ে গিয়েছে কারা? দুর্বৃত্তরা? না, মুসলমানেরা। মুসলমানদের মুসলমান বলতে হয়, দুর্বৃত্ত বলতে হয় না”।

 

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *