ঢাকা: নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ কী বলেছেন জানেন? তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচনের সময় নগদ অর্থ বহনের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই। ৫০ লাখ নয়, প্রয়োজনে ৫ কোটি টাকা বহনেও সমস্যা নেই। অর্থাৎ জামাত যদি হাজার কোটির বহন করে তাতেও কোনো সমস্যা নেই।
রাত পোহালেই ভোট। আর এই ভোটে জয়ী হতে মরিয়া জামায়াতে ইসলামী। তারা ইতিমধ্যে বিভিন্ন জায়গায় টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করছে।
টাকা ছিটিয়েছে সারা দেশে। কিনেছে প্রশাসন। এমনকি আখতার আহমেদকেও। তা নাহলে তিনি এই কথা বললেন কেন?
সবাই একজোট জামায়াতকে জেতাতে। তাহলে আর এই ভোটের দরকার কী? সাজানো ইলেকশন। সিলেকশন তো হয়েই আছে।
জামায়াতের আমির যে আসনে নির্বাচন করছেন সেই ঢাকা-১৫তে ভোটারদের টাকা দেয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহাদী আমিন সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে টাকা দিয়ে ভোট কেনা জামায়াতের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব ও আচরণবিধির লঙ্ঘন।
শুধু তাই না, জামায়াতের প্রার্থীরা বিভিন্ন স্থানে বিভিন্নভাবে নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘন করলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আইনানুগ কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।
ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিনকে বিপুল টাকাসহ আটক করা হয়েছে।
আর তিনি দেখা যাচ্ছে মুখ ঢাকা অবস্থায়। কেউ সৎপথের টাকা হাতে নিলে মুখ ঢাকবে না।
আর আখতার আহমেদ জামায়াতকে ঢেকে বলেন, অর্থ বৈধ হলে এবং তার উৎস ও ব্যবহার যথাযথভাবে প্রমাণ করা গেলে যত খুশি টাকা বহন করা যাবে। সোর্স ও বৈধ খাত দেখাতে পারলে ৫০ লাখ নয়, প্রয়োজনে ৫ কোটি টাকা বহনেও সমস্যা নেই।
তিনি বলেন, যদি কোনো অর্থ ভোটারদের প্রভাবিত করতে ব্যবহার করা হয়, তাহলে বিষয়টি ‘নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি’ তদন্ত করবে। আর অর্থের উৎস অবৈধ হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
আটক করার সময় একটি ভিডিওতে বেলাল উদ্দিনকে বলতে শোনা যায়, তার বাড়ি ঠাকুরগাঁও শহরের হাজিপাড়ায়। ওই এলাকার দবিরুল ইসলামের ছেলে তিনি। ঠাকুরগাঁও শালন্দা কলেজের শিক্ষক তিনি।
লাগেজে কত টাকা আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেখানে ৫০ লাখের বেশি টাকা রয়েছে। এগুলো তার গার্মেন্টস ব্যবসার টাকা।
