ময়মনসিংহ: ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগ এনে ময়মনসিংহের ভালুকায় পোশাক শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে, পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ীদের শাস্তি দেখতে চায় পরিবার।
ইউনূস সরকার টাকা দিয়ে মুখ বন্ধ করতে চায়, ভোট নিতে চায়- তবে ভুক্তভোগী দীপু দাসের পরিবার দোষীদের শাস্তি দেখতে চায়।
সরকারের পক্ষ থেকে দীপু দাসের পরিবারকে ৫০ লাখ টাকা দেওয়ার ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে এক প্রতিক্রিয়ায় বুধবার দীপুর বাবা রবি চন্দ্র দাস বলেন, “৫০ লাখ টাকা কেন, সারা দুনিয়ার টাকা এনে দিলেও আমার ছেলের অভাব পূরণ হবে না।
“ছেলের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেখে যেতে চাই। হত্যাকারীদের শাস্তি দেখে, এমন ঘটনা যেন আর কেউ ঘটানোর সাহস না পায়। আর কোনো বাবা-মায়ের কোল যেন খালি না হয়।”
টাকা দিয়ে কী মানুষ ফেরানো যাবে? কী মনে করেন ইউনূস?
পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য ছিলেন দীপু। গত ১৮ ডিসেম্বর গণপিটুনিতে তাঁর মৃত্যু হয়।
পিটিয়ে খুন করার পর নৃশংস ভাবে দীপুর দেহ গাছে ঝুলিয়ে তাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পুলিশের বিরুদ্ধেও নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তোলা হয়েছে।
তাঁর বাবার প্রশ্ন, ‘‘আমার ছেলে কী দোষ করেছিল? যদি কারও ভাবাবেগে আঘাত লেগে থাকে, আইন তার মোকাবিলা করত। আমরা গরিব বলে ছেলেকে বাঁচাতে পারলাম না।’’
তবে দীপু চন্দ্রের দোষ হিন্দু হওয়া। তাই ইসলামী জঙ্গীরা নির্মমভাবে হত্যা করেছে তাঁকে।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে সরকার জানায়, দীপুর পরিবারকে আর্থিক সহায়তার লক্ষ্যে বাড়ি নির্মাণের জন্য ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হবে, যা জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ বাস্তবায়ন করবে।
পাশাপাশি নগদ আর্থিক সহায়তা হিসেবে দীপু দাসের বাবা ও স্ত্রীকে ১০ লাখ টাকা করে দেওয়া হবে এবং তার সন্তানের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য ৫ লাখ টাকার একটি এফডিআর করা হবে।
