ঢাকা: একে একে অভিযোগ আসছে ‘আমরা ভোট দিতে গেলাম, গিয়ে শুনি ভোট দেয়া হয়ে গেছে। অফিসার বলছে বাড়ি চলে যান’-‘আমাদের ভোট কে দিলো?’
একের পর এক অভিযোগে ভরা ঐতিহাসিক নির্বাচন। আর এদিকে দেখা লাফ দিচ্ছেন ইউনূস সাহেব।
কেন্দ্র দখল করে প্রকাশ্যেই চলছে জাল ভোট। দেখার কেউ নেই, বলার কেউ নেই। গোপন কক্ষে দলবেঁধে ঢুকে চলছে জাল ভোট প্রদান।
প্রিজাইডিং অফিসার থেকে শুরু করে ডিউটিরত সকলের অভিব্যক্তিই যেন “এরকমই তো হবার কথা”। ইউনুসের সাজানো নির্বাচনে সারাদেশে এভাবেই চলছে কেন্দ্র দখল করে জাল ভোটের মহা উৎসব।
এক বৃদ্ধ ভোটার এসেছিলেন মোট দিতে। কিন্তু বুথে ঢুকে যে কথা শুনলেন, তাতে তো আকাশ থেকে পড়লেন তিনি।
পোলিং অফিসার তাঁকে জানিয়ে দেন, ‘আপনার ভোট দেওয়া হয়ে গেছে।’
কে দিলো ভোট? তিনি তো মাত্র এলেন?
বৃদ্ধা ভোট দেয়া হয়ে গেছে শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২ টার দিকে পীরগাছা উপজেলার তেয়ানি মনিরাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বুথ থেকে বেরিয়ে এসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নুরজাহান বেগম বলেন, ‘এতো বছর থাকি ভোট দিয়া আসনু, কোন সমস্যা হইল না। এবার বলে মোর ভোট আরেক জনে দিছে। মুই তো নিজেই দিবার আসনু।’
এই কী কাণ্ড? এই কাণ্ড শুধু এক জায়গায় নয়।
সেখানে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, সকাল থেকেই কেন্দ্রটিতে বিচ্ছিন্নভাবে জাল ভোট দেওয়ার ঘটনা ঘটছে।
স্থানীয় বাসিন্দা জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সকাল থাকি দেখতেছি, কিছু ভোটার আসার আগেই নাকি তাদের ভোট দেওয়া হয়ে গেছে। বিষয়টা খুবই উদ্বেগজনক।’
আরেক ভোটার রহিমা খাতুন বলেন, ‘ভোট দিতে আইসা যদি শুনি ভোট হয়ে গেছে, তাহলে হামরা কই যামো? এটা তো হামার অধিকার।’
কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মনছুর হোসেন বলেন, ‘পোলিং এজেন্টদের কারণে এমনটি হয়েছে। তারা শনাক্ত করতে পারেনি। আমরা চেষ্টা করতেছি যাতে এমনটা না হয়। বিষয়টি গুরুত্ব-সহকারে দেখা হচ্ছে।’
