ঢাকা: বাংলাদেশের হবু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাবনার প্রশংসা করলেন লেখক তসলিমা নাসরিন।

প্রশংসা করেছেন এই কারণেই যে তারেক রহমান সব ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি সংশয়বাদীরাও নিরাপদে থাকবেন একথা বলেছেন।

কারণ সংশয়বাদী, নাস্তিকদের এই দেশে ভালো চোখে দেখা হয় না। তাঁদের হত্যা করা হয়েছে নয়তো দেশত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে। তার মধ্যে খোদ তসলিমা নাসরিন আছেন। বর্তমানে ভারতেই আছেন তিনি।

তিনি বারবার শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়াকে এক কাতারে ফেলেছেন। কারণ তাঁরা দুজনেই তসলিমা বিরোধী হয়তো বা। অথবা ভোটের তাগিদে তসলিমা বিরোধী।

তসলিমা দেশে ফিরতে পারেননি আজ ৩০/৩১ বছর হয়ে গেছে। ফলে খেদ থাকাই স্বাভাবিক।

যাই হোক, এবারে তারেক রহমানের চিন্তাভাবনার প্রশংসা করলেন তিনি।

ফেসবুকে তসলিমা লিখেছেন:

‘বিএনপি এমন একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে চায় যেখানে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, বিশ্বাসী, অবিশ্বাসী, কিংবা সংশয়বাদী, পাহাড়ে কিংবা সমতলে বসবাসকারী সকলে নিরাপদ থাকবে। ‘

এই কথাগুলো বলেছেন তারেক রহমান, যিনি খুব শীঘ্র বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন।

এমন দরকারি কথা আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের কোনও মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি বলেননি। সতেরো বছর একটি সভ্য দেশে বাস করে তিনি যথেষ্ট শিক্ষিত এবং সভ্য হয়েছেন নিশ্চয়ই, তা না হলে এমন কথা তিনি বলতে পারতেন না।

তসলিমা আরো বলেন, আজ পর্যন্ত অবিশ্বাসী এবং সংশয়বাদীদের নিরাপত্তা বাংলাদেশের সরকার থেকে কেউই দিতে চাননি, দেওয়ার চেষ্টাও করতে চাননি। বরং অবিশ্বাসী এবং সংশয়বাদীদের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে, তাঁদের কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়েছে, এমনকী তাঁদের দেশ থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে।

তাঁদের মাথার দাম যারা ঘোষণা করেছে অথবা তাঁদের যারা হত্যা করেছে—সেই অপরাধীদের এবং খুনীদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নিতে চায়নি কোনও সরকারই। অবিশ্বাসী এবং সংশয়বাদীদের নাগরিক অধিকার বহু কাল থেকেই সব সরকারই লঙ্ঘন করেছে।

ইসলাম ছাড়া অন্য কোনও ধর্মে অবিশ্বাসী এবং সংশয়বাদীদের কোনও সমস্যা হয় না, কেবল ইসলামে অবিশ্বাসী এবং সংশয়বাদীদেরই নিকৃষ্ট ধর্মান্ধ জঙ্গিরা হত্যা করার জন্য ছুরি ধার করে রেখেছে।

এই জিহাদি-জঙ্গিদের অস্ত্র থেকে যদি আমাদের নিরাপত্তা দেওয়া হয়, তাহলে আমরা স্বদেশে বাস করতে পারি এবং স্বদেশের মানুষকে সভ্য শিক্ষিত এবং বিজ্ঞানমনস্ক করার উদ্যোগ নিতে পারি।

মনে রাখতে হবে, যে বিশ্বাসটা সবচেয়ে দ্রুত বাড়ছে পৃথিবীতে, তা কোনও ধর্ম নয়, তা নাস্তিকতা। জরিপে দেখা গেছে, নাস্তিকরা আস্তিকদের চেয়ে বেশি বুদ্ধিদীপ্ত, বেশি মেধাবী। নিরাপত্তার অভাবের কারণে এই বুদ্ধিদীপ্ত মেধাবী জনগোষ্ঠী দেশের বাইরে বাস করতে বাধ্য হচ্ছে’।

তারেককে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘বাকস্বাধীনতার পক্ষে জরুরি কথাগুলো বলার জন্য তারেক রহমানকে ধন্যবাদ। তবে তাঁর কাজেই প্রমাণিত হবে, তিনি আমাদের আদৌ নিরাপত্তা দেবেন কি না’।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *