ঢাকা: নারীদের মূল ধারার কাঠামোতে আসতে দেয়া হয় না। নারীরা প্রতিনিধি হবে এটা পুরুষতান্ত্রিক সমাজ মানবে না।

জুলাই সনদের অঙ্গীকারে থাকলেও, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একজন নারীকেও প্রার্থিতা দেয়নি জামায়াতে ইসলামী।

আর একে ‘ন্যক্কারজনক’ বলে মন্তব্য করেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

বিশ্লেষক ও অধিকারকর্মীরা বলছেন, ক্ষমতায়নে সুযোগ বাড়লেও রাজনীতির কেন্দ্রে নারীর প্রতিনিধিত্ব কমছে। বেড়েছে নারীর প্রতি বিদ্বেষ, সীমিত হচ্ছে তাঁদের কর্মপরিধিও।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. রিজওয়ানা করিম স্নিগ্ধা বলেন, ‘কর্মঘণ্টাকে নাকি সীমায়িত করে দেওয়া হবে—এই যে বক্তব্যটা, এটাই মনে করিয়ে দেয় বাধাগ্রস্ত করার যে প্রক্রিয়া, আপনি সেই প্রক্রিয়ার একটি অংশ হয়ে দাঁড়াছেন। অর্থাৎ আপনি নারীকে সীমায়িত করার চেষ্টা করছেন।’

নির্বাচন কমিশনের সদস্য মীর নাদিয়া নিভিন বলেন, নারী নেতৃত্ব গড়ে তোলার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোতে যে ধরনের কাঠামো থাকা প্রয়োজন, আমাদের দেশে তা নেই।

তৃণমূল বা মাঠপর্যায়ে যখন তাঁরা নেতৃত্ব দিয়ে উঠে আসেন, তখন তাঁদের উইমেন্স উইংয়ের (নারী শাখা) মধ্যে সীমাবদ্ধ করে রাখা হয়। মূলধারার কাঠামোতে তাঁদের আসতে দেওয়া হয় না।

নারীদের দিয়ে মিছিল করানো হয়, কিন্তু নারীদের মেইনস্ট্রিম রাজনীতিতে আসতে দেয়া হয় না। জামাত তো তাই করে দেখালো।

এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানালেন লেখক তসলিমা নাসরিন।

তিনি ফেসবুকে লিখেছেন:

“একটি রাষ্ট্রে গণতন্ত্রের সবচেয়ে মৌলিক প্রশ্ন হলো—কারা প্রতিনিধিত্ব করছে জনগণকে। বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী হলেও রাজনীতিতে নারীর উপস্থিতি প্রায় নেই বললেই চলে।

সংসদ, মন্ত্রিসভা, রাজনৈতিক দল—সবখানেই পুরুষের আধিপত্য স্পষ্ট। নির্বাচনের সময় এই বৈষম্য আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

বড় দলগুলো যখন প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করে, তখন দেখা যায় নারী প্রার্থীর সংখ্যা হাতে গোনা। গত নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল খুব কম নারীকে মনোনয়ন দিয়েছে।

অন্য বড় দলগুলোও খুব বেশি আলাদা নয়—প্রার্থীর তালিকায় নারীর উপস্থিতি নগণ্য। জামায়াতে ইসলামী একটিও নারী প্রার্থী দেয়নি। এতে এটাই প্রমাণ হয় যে, বাংলাদেশের রাজনীতি পুরুষতান্ত্রিক কাঠামোর ভেতরে বন্দী।

এই পরিস্থিতি বদলানোর একমাত্র পথ হলো—প্রার্থী তালিকায় থাকতে হবে ৫০% নারী এবং ৫০% পুরুষ। এই ব্যবস্থাটি পাকাপোক্ত হলে তখন আর নারীর জন্য সংরক্ষিত আসনের প্রয়োজন হবে না”।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *