ইউনুসীয় দুঃশাসনের আপাতত অবসান হয়েছে ঠিকই কিন্তু সংবাদমাধ্যমের আতঙ্কের অবস্থার কি পরিবর্তন হয়েছে?

যে সব সম্পাদক-সাংবাদিক-লেখককে গ্রেপ্তার করে বিনাবিচারে মাসের পর মাস কারাপ্রকোষ্ঠে বন্দী রাখা হয়েছে তাদের কি জামিন পাওয়ার অধিকার নেই? অথচ তাদের বিরুদ্ধে যেসব খেলো অভিযোগ এনে আটক রাখা হয়েছে সেগুলোরও কোন ভিত্তি নেই।

চব্বিশের ৫ আগষ্ট দেশে অবৈধ-অগণতান্ত্রিক-অসাংবিধানিক জঙ্গী-সেনা ক্যু এর পরে সংবাদ মাধ্যম ও সাংবাদিকদের ওপর যে চরম জুলুম চলছে তার কোন সমাধান হয়নি এখনো।

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে এখনো এসব অন্যায়-অত্যাচারের কোন উদ্যোগ নেয়নি। গণতান্ত্রিক সরকার হিসেবে দাবিদার সরকারের কাছেও যদি সংবাদ মাধ্যম ও সাংবাদিকেরা স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে না পারেন তাহলে নতুন গণতান্ত্রিক সরকার কি তার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে?

মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এর তথ্য অনুযায়ী ২০২৫ এর জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরের শেষ দিন অবধি অন্তত ৩৮১ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন।

এর মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারা নির্যাতন, হয়রানি বা হুমকির শিকার হন অন্তত ২৩ জন। প্রাণনাশের হুমকি পান ২০ সাংবাদিক। প্রকাশিত সংবাদ বা মতামতকে কেন্দ্র করে মামলার সম্মুখীন হন কমপক্ষে ১২৩ জন। পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সরাসরি হামলার শিকার হন ১১৮ সাংবাদিক।

এ সময়কালে দুর্বৃত্তদের দ্বারা হত্যার শিকার হন তিন জন এবং দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে রহস্যজনকভাবে চার জন সাংবাদিকের লাশ উদ্ধারের ঘটনা ঘটে।

আসকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সারা দেশে নির্যাতন ও হয়রানির শিকার সাংবাদিকদের মধ্যে সর্বোচ্চ ঢাকায় ৯২ জন, চট্টগ্রামে ৫৩ জন, গাজীপুরে ২০ জন, রংপুরে ২১ জন, কুমিল্লায় ২১ জন এবং বরিশালে ১২ জন সাংবাদিক রয়েছেন। বাকি ১৬২ জন অন্যান্য জেলার কর্মরত রয়েছেন।

এসব সাংবাদিককে একাধিক মামলার আসামী করে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সাংবাদিকদের সংগঠন, মানবাধিকার সংগঠন বার বারই দাবি জানিয়ে আসছে সাংবাদিকদের হয়রানি বন্ধ, স্বাধীন সাংবাদিকতা করতে দেয়া ও উপযুক্ত পরিবেশ তৈরী করার জন্য। বিনাবিচারে আটক সাংবাদিকদের জামিন দেয়ার জন্য।

কিন্তু তার কোন কিছুই কানে তোলেনি ইউনুস সরকার। সারাদেশের সাংবাদিকদের সংগঠন সাংবাদিক ইউনিয়ন, সাংবাদিক সমিতি, প্রেসক্লাব দখল করে রয়েছে মব সন্ত্রাসী কিছু অসাংবাদিক। কিন্তু তাদের দাপটের কারণে প্রকৃত সাংবাদিকগণ ন্যুনতম প্রতিবাদও করতে পারছেন না।

কিছু বললেই তাদের ফ্যাসিষ্টের দোসর হিসেবে ট্যাগ লাগিয়ে দেয়া হয়েছে ও হচ্ছে।

তারপরও বলছি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য সাংবাদিক, সংবাদ মাধ্যমের সম্পাদক-প্রকাশকসহ সব সাংবাদিকের যুথবদ্ধ কঠিন আন্দোলনের কোন বিকল্প নেই।

নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন শাসনামলে, বাংলাদেশ তার ইতিহাসে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য সবচেয়ে অন্ধকার পর্যায়গুলির একটি প্রত্যক্ষ করেছে।

৫ আগস্ট, ২০২৪ সাল থেকে, দেশের বেশ কয়েকজন প্রবীণ এবং সম্মানিত সাংবাদিককে প্রায় ১৮ মাস ধরে আটক রাখা হয়েছে, যা সমালোচকরা বানোয়াট এবং রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ বলে বর্ণনা করেছেন, কেবল “পূর্ববর্তী শাসনের সহযোগী” হিসেবে চিহ্নিত করার জন্য।

কারাবন্দীদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এবং দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, ৭১ টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু এবং প্রখ্যাত লেখক-সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির, শাকিল আহমেদ-ফারজানা রুপা দম্পতিসহ সহ আরও বেশ কয়েকজন মিডিয়া পেশাদার।

বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণের অভাবে হত্যা এবং সন্ত্রাসবাদের মতো গুরুতর অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। একসময় আনিস আলমগীর লালবদর হিসেবে নিজের অবস্থানকে চিহ্নিত করলেও ‌ইউনুসীয় অপশাসনে তা আর থাকতে না পেরে সমালোচনা শুরু করতেই তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়ে দিলো ইউনুসীয় পুলিশ।

যেসব মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়েছে সেসব মামলার একটিরও তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেনি পুলিশ। ফলে তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ এখনো প্রমাণিত হয়নি।

আবার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল না হওয়ায় বিচারকার্য শুরু করাও সম্ভব হয়নি। ফলে তারা আদৌ দোষী নাকি নির্দোষী তা এখনো কেউ নিশ্চিত নন।

অন্যদিকে, বারবার জামিন আবেদনের শুনানি হলেও তাদের সে আবেদন আজও মঞ্জুর হয়নি। এ অবস্থায় তারা দীর্ঘদিন বিনাবিচারে কারাবন্দী রয়েছেন। অথচ আইনের দৃষ্টিতে প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্রের।

বিনাবিচারে কাউকে দীর্ঘদিন আটক রাখা তার মৌলিক অধিকার পরিপন্থী। আবার বিনা বিচারে কাউকে দীর্ঘদিন আটক রাখা আইনের শাসন, ন্যায় বিচার ও মানবাধিকারের পরিপন্থী।

যদি তারা অপরাধী হয়ে থাকেন তাহলে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রচলিত আইনে বিচার করা হোক।তবে কারাবন্দী এই ছয় সাংবাদিকের বয়স, শারীরিক অবস্থা এবং সামাজিক অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে জামিন দেওয়া ন্যায়সঙ্গত বলে আমি মনে করি।

পরবর্তী সময়ে বিচারে যদি তারা দোষী সাব্যস্ত হন তাহলে অবশ্যই আদালতের রায় মোতাবেক তাদের সাজা ভোগ করতে হবে।

তাই বিচারকার্য শেষ অথবা তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল না হওয়া পর্যন্ত তাদেরকে জামিনে মুক্তি দেওয়ার জন্য নবগঠিত গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে জোর দাবি উঠছে বিভিন্ন সেক্টর থেকেই।

সংবাদমাধ্যমের উপর দমনপীড়ন, ইউনূসের আমলে সিনিয়র সাংবাদিকরা কারাগারে- এ নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সাংবাদিক-মানবাধিকার সম্প্রদায় ন্যায়বিচার দাবি করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সরকারকে পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

আসকের প্রতিবেদন ও কারাবন্দী সাংবাদিকদের স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে যে এই সাংবাদিকদের সাধারণ কারাগারে রাখা হয়েছে, যথাযথ চিকিৎসা এবং মৌলিক মানবিক মর্যাদা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

কয়েক মাস ধরে, তারা তাদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছেন, শারীরিক ও মানসিক উভয় ধরণের যন্ত্রণার সম্মুখীন হচ্ছেন। আন্তর্জাতিক অধিকার পর্যবেক্ষকরা বলছেন যে এই আচরণ মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং মৌলিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।

বিএনপি’র নেতৃত্বে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার সাথে সাথে আন্তর্জাতিক চাপ তীব্রতর হয়েছে। বিশ্বজুড়ে সাংবাদিক ইউনিয়ন এবং প্রেস স্বাধীনতা সংস্থাগুলি শ্যামল দত্ত এবং অন্যান্য আটক সাংবাদিকদের অবিলম্বে এবং নিঃশর্ত মুক্তি নিশ্চিত করার জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে আহ্বান জানিয়েছে।

তারা বেআইনি গ্রেপ্তার, দীর্ঘায়িত আটক এবং অমানবিক আচরণের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছে।

পর্যবেক্ষকরা জোর দিয়ে বলেন যে এই প্রবীণ সাংবাদিকরা ঐতিহাসিকভাবে রাজনৈতিক সংকট এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জাতিকে পরিচালিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, শক্তিশালী সম্পাদকীয় এবং নীতিগত সাংবাদিকতার মাধ্যমে, তারা বারবার সরকারকে জবাবদিহি করতে বাধ্য করেছেন এবং জাতীয় নীতি বিতর্ক গঠনে সহায়তা করেছেন।

সমালোচকদের যুক্তি, এই ধরনের ব্যক্তিত্বদের বন্দী করা জাতির বিবেককে বন্দী করার মতো।

উচ্চতর আদালতের আইনজীবী ইমতিয়াজ মাহমুদ প্রথম আলো-ডেইলি স্টার পত্রিকা ভবনে হামলা, ভাংচুর ও আগুন দেয়া নিয়ে ক্ষোভের সাথে তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

তিনি বলেছেন–প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারকে অনুরোধ করি, যেসব শ্লোগান দিয়ে আক্রমণকারীরা ওদের বিল্ডিংয়ে আগুন দিয়েছিল, সেইসব শ্লোগান উল্লেখ করুন।

সেই রাতের ধ্বংসযজ্ঞ নিয়ে আলোচনা করেন, প্রদর্শনী করেন, ডকুমেন্টারি বানান সবই ভাল কাজ। কিন্তু কারা এইসব করেছে ওদেরকে কেন আড়াল করবেন? ওদের রাজনৈতিক পরিচয় প্রকাশ করুন, নাম ঠিকানা প্রকাশ করুন। সরকার তো কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছিল, ওদের রাজনৈতিক পরিচয় প্রকাশ করুন।

এখনই এটা করা দরকার। নাহলে কিছুদিন পর কিছু মিথ্যাবাদী এসে অন্যদের উপর দায় চাপাতে চেষ্টা করবে।

গতবছর, মানে গত ২২ ডিসেম্বর ডেইলি স্টারের প্রকাশক-সম্পাদক মাহফুজ আনাম এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন- মতপ্রকাশের স্বাধীনতার দাবি ছাপিয়ে এখন সাংবাদিকদের জীবনের নিরাপত্তাই এখন বড় হয়ে উঠেছে ।

প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা ও আগুন দেওয়া এবং সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীরকে হেনস্থা করার প্রতিবাদে ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্যে সাংবাদিকদের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি সামনে আনেন তিনি।

কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো এই দুটি পত্রিকার সম্পাদকদ্বয় নিজেরা আক্রান্ত হলে বা বেকায়দায় পড়লেই শুধু ঐক্যের কথা বলেন। অন্য সময় তারা তা ভুলে যান রহস্যজনকভাবে।

গত ডিসেম্বরে সম্পাদক-সিনিয়র সাংবাদিকসহ সারাদেশের সাংবাদিকদের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এসব কথা বলার পর থেকে অদ্যাবধি তারা আর কোন পদক্ষেপ নেননি।

কারণ তারা এখন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বন্দনায় ব্যস্ত প্রচণ্ড। অথচ এরা অবৈধভাবে ক্ষমতাদখলকারি ড. ইউনুসের অত্যন্ত কাছের মানুষ।

তাকে তখন নানাভাবে তৈলমর্দনের প্রতিযোগিতায় নেমেছিল। এই দুই সম্পাদক নিজেদেরকে ‘সৈয়দ বংশের’ মানে অত্যন্ত উঁচু মানের ব্যক্তি মনে করেন। তাদের দৃষ্টিতে অন্যরা অচ্ছুৎ।

কানাডা প্রবাসী জনপ্রিয় ছড়াকার লুৎফর রহমান রিটন ‘সাংবাদিক ও সাংবাদিকতার মুক্তি চাই ’ শিরোনামে একটি লেখায় তার ক্ষোভটি ঝেড়েছেন। তিনি বলেন-কুখ্যাত মবরাজ ইউনুসের টানা ১৮ মাসব্যাপী স্থায়ী দমবন্ধ গুমট ভয়াবহ তিনি বলেন, মূল ধারার সাংবাদিকদের গ্রেফতার ও বন্দী করে ইউনুস ও তার টোকাই উপদেষ্টা গ্যাং সারাদেশে অনায়াসে কায়েম করে রেখেছিলো কুৎসিত এক ত্রাসের রাজত্ব।

আঠারো মাসে যখন-তখন যত্রতত্র যাকে খুশি তুলে নিয়ে জেলখানায় পুরে রাখার ঘটনাগুলো এতোটাই গা সওয়া ব্যাপারে পরিণত হয়েছিলো যে সাংবাদিকদের নানাবিধ সংগঠন ও সংস্থাগুলোও টু শব্দটি উচ্চারণের হিম্মৎ দেখায়নি। মনে হচ্ছিলো কোথাও কেউ নেই।

দেশের সমস্ত মিডিয়া ও সাংবাদিকরা একযোগে সকলেই ইন্তেকাল ফরমিয়েছেন। অর্থাৎ কিনা মরে গেছেন কবেই!

শুধু দাঁত কেলিয়ে হাসার জন্যে বেঁচেছিলেন ইউনুসপ্রেমী মতিউর-মাহফুজ অমরজুটির দুই কীর্তিমান!

 

সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ ছাড়াই বিখ্যাত সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে ( নেহারি খাওয়ার অপরাধে নাকি জিম করার অপরাধে?) তুলে নিয়ে গেলো! তারপর ঠুকে দিলো কল্পলোকের গল্পকথার ফেইরিটেইলের এক অবিশ্বাস্য হত্যামামলা! কেউ প্রতিবাদ করলো না।

প্রথম অন্ধকার আর ফিলমি স্টারের দুই কুতুবমিনার পঙ্কজ উদাস হয়ে থাকলো মাসের পরে মাস, লজ্জাহীন….! নাহ। কেউই আনিস আলমগীরের মুক্তি চাহিয়া লজ্জা দিতে চাহে নাই তাদের সুদখোর মানস্পুত্রটিকে।

লুৎফর রহমান রিটন বলেন–হঠাৎ সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রেসক্লাবের সামনে কতিপয় সাহসী সাংবাদিকের মানববন্ধনের একটা ছবি ও ক্যাপশন দেখে অবশেষে এই মর্মে আমার প্রতীতী জন্মেছে যে–বাংলাদেশ নামের দুখি একটা দেশের ততোধিক দুখি কয়েকজন সাংবাদিক এখনও জীবিত আছেন এবং তাঁরা সাংবাদিক ইউনিয়নের কার্যালয় খোলাসহ বন্দী সাংবাদিকদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়েছেন!

তিনি আরো বলেন- দেশের অতিনগন্য এক সাধারণ নাগরিক হিশেবে আমি প্রত্যাশা করছি–নতুন সরকারের নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মিস্টার সালাহউদ্দিন আহমদ নিশ্চয়ই সদ্যসাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার মতো দিলদারের বড়ভাইসুলভ কৌতুকাভিনেতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হবেন না। সাংবাদিক ও সাংবাদিকতার মুক্তি চাই।

প্রসঙ্গত ২০২৫ সালে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও আইনি নিপীড়ন কোন বিচ্ছিন্ন নয়; বরং এটি একটি কাঠামোগত প্রবণতার অংশ। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক শক্তির দ্বারা সাংবাদিকদের হয়রানি গণতন্ত্র, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিমূলক শাসনের জন্য সরাসরি হুমকি।

তথ্যের অবাধ প্রবাহ ও জনস্বার্থে সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, আইনি সুরক্ষা এবং ভিন্নমতের প্রতি রাষ্ট্রের সহনশীলতা নিশ্চিত করা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।

# রাকীব হুসেইন, লেখক, প্রাবন্ধিক।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *