ঢাকা: নারী নির্যাতন চলছেই। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে বাসায় আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী ইসলামনগর এলাকায়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী ছাত্রী ইন্সটিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির (আইআইটি) ৪৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী। তাঁরই বিভাগের তারিকুল ইসলামের (৩২) বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন তিনি।
রাতে তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়া হলে তিনি বিভাগের এক নারী শিক্ষকের কাছে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন।
শিক্ষক বলেন, “অভিযুক্তের সঙ্গে ছাত্রীর ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল, যা পরবর্তীতে ভেঙে যায়। মঙ্গলবার তারিকুল ইসলাম হলের সামনে এসে ‘শেষবারের মতো কথা বলার’ কথা বলে তাকে বাসায় যাওয়ার জন্য চাপ দেন। ছাত্রী রাজি না হলে তাকে বিভিন্নভাবে ‘ব্ল্যাকমেইল’ করা হয়।”
শিক্ষক বলেন, “একপর্যায়ে ইফতার সামগ্রী কেনার কথা বলে ভুক্তভোগী তার বাসায় যান। সেখানে পৌঁছানোর পর অভিযুক্ত তার মুখে টেপ লাগিয়ে মারধর করেন এবং হাতের ওপর গরম পানি ঢেলে দেন।
“নির্যাতনের এক পর্যায়ে ভুক্তভোগী পুড়ে যাওয়া ক্ষতের ওষুধ কিনতে বাইরে যেতে চাইলে অভিযুক্ত কক্ষের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দেন। ভুক্তভোগী তখন জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে”, বলেন শিক্ষক।
উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
ছাত্রীর অনেক জায়গা পুড়ে গিয়েছে বলে জানা যায়।
বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রের চিকিৎসক তানভীর হোসেন বলেন, “ভুক্তভোগী ছাত্রীর হাতের তিন থেকে চার সেন্টিমিটার জায়গা পুড়ে গেছে। আমাদের কেন্দ্রে এ ধরনের বার্ন ইনজুরির পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় তাকে সাভারে স্থানান্তর করা হয়েছে।”
