ঢাকা: দুদক চেয়ারম্যানের নৈতিকতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠছিলো। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়, তদন্তের কথা সেই তাদের সাথে একসাথে এক টেবিলে বসে ইফতার করেন দুদক চেয়ারম্যান! মূলত এর পরেই তিনি এই পদে থাকার নৈতিকতা হারিয়েছেন।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিলুপ্তির পর সেই সরকারের সময়কার হাজার হাজার দুর্নীতি, অনিয়ম নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে, ঠিক তখনই দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেনের একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
যে সরকারের কর্মকাণ্ড সমালোচনার মুখে, সেই সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ইফতারে উপস্থিত হওয়া কি দুদক চেয়ারম্যানের জন্য শোভনীয়? তিনি কি তাঁর নিজের অবস্থান ভুলে গিয়েছেন?
মোহাম্মদ আবদুল মোমেন তো নিজেও বিতর্কমুক্ত নন। অতীতে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল।
দেশবাসীর জানা উচিত, বা জানেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে।
এমন আরো আছে।
আর এখনো তিনি চরিত্রের পরিবর্তন করতে পারেননি।
ইউনূসের অন্তর্বর্তী প্রশাসন তাঁকে অবসর থেকে ফিরিয়ে এনে দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়িত্ব দিয়েছিলো।
কিন্তু সাবেক উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ , তা তদন্ত করবেন কীভাবে?
দুদকের মতো প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তির আচরণ হতে হবে সন্দেহাতীত, স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ।
এবার পদত্যাগ করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশন (Anti-Corruption Commission – ACC)-এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন এবং কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহ্সান ফরিদ।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন দুদক কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী।
তিনি জানান, কোনো ধরনের চাপ বা বাহ্যিক প্রভাবের কারণে নয়—নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার পদত্যাগ করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর মোহাম্মদ আবদুল মোমেনকে দুদকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
এবং তারও দুই দিন আগে, ১০ ডিসেম্বর কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী এবং হাফিজ আহ্সান ফরিদ।
