ঢাকা: একীভূত পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের আমানতের ওপর ‘হেয়ার কাট’ বা অর্থ কর্তনের সিদ্ধান্ত বাতিলসহ তিন দফা দাবিতে মানববন্ধন এবং অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন আমানতকারীরা।
এদিন, বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে প্রায় অর্ধশত আমানতকারী বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে জড়ো হয়ে এই কর্মসূচি পালন করেন। তারা সড়ক অবরোধ করলে ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করছে পুলিশ।
আমানতকারীরা বলেন, ‘আমরা ইসলামি ব্যাংকে যারা টাকা জমা রেখেছিলাম, তারা এখন নিঃস্ব, সর্বস্বান্ত, অসহায়। আমাদের দোষ কোথায়..? আমাদের কি অপরাধ..?
আমরা তো সরকারের অনুমোদিত ব্যাংকেই টাকা রেখেছিলাম , তখন তো সরকার বলেনি এখানে টাকা রাখা উচিত হবে না, কিংবা ঝুঁকি আছে।
তাহলে আমানতকারীদের টাকার দায়িত্ব কেন সরকার নেবে না..?’
বাংলাদেশ ব্যাংক ঘেরাও করে একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকের আমানতকারীরা।
বেলা সাড়ে ১২টার দিকে আন্দোলনকারীরা বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে নিরাপত্তাকর্মীরা তাদের প্রধান ফটকে আটকে দেন।
আন্দোলনকারীরা হ্যান্ড মাইকের মাধ্যমে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি চান এবং গভর্নরের সঙ্গে সাক্ষাৎ না করে ফিরে যাবেন না বলে ঘোষণা দেন।
পুলিশ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে আন্দোলনকারীরা সাময়িকভাবে ফটকের সামনে থেকে সরে গেলেও কিছুক্ষণ পর আবার সেখানে অবস্থান নেন। পরে আবারও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রবেশ ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং ফটকের সামনে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান নেন। আন্দোলনকারীরাও তাদের সামনে অবস্থান নেন।
চলমান আন্দোলনের আহ্বায়ক আলিফ রেজা বলেন, ‘হেয়ার কাট বাতিল করে এখন আমাদের মাত্র ৪ শতাংশ মুনাফা দেওয়া হচ্ছে। আমরা পুরো মুনাফা চাই এবং দ্রুত আমাদের সব টাকা ফেরত দিতে হবে। গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি দিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তা দিতে দেওয়া হয়নি।’
আন্দোলনে অংশ নেওয়া আরেক আমানতকারী জয়নাল আবেদিন বলেন, ‘আমার এক কোটি টাকার এফডিআর রয়েছে। এখন তারা মাত্র চার লাখ টাকা মুনাফা দিতে চায়, যা আমি মেনে নিতে পারি না। অথচ ব্যাংকের কর্মকর্তারা ঠিকই বেতন-ভাতা ও বোনাস নিচ্ছেন।’
উল্লেখযোগ্য যে, ইউনিয়ন ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংক—এই পাঁচটি ব্যাংক নিয়ে গঠিত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’-এর গ্রাহকেরা দীর্ঘদিন ধরে তাদের আমানত ফেরতের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন।
