চাঁপাইনবাবগঞ্জ: বাংলাদেশের নতুন রূপ! তবে নতুন রূপ বললেও ভুল হবে, কারণ ৫ আগস্ট থেকে এইসব মৌলবাদী কার্যক্রম আরো বেড়েছে।

উগ্র, ধর্মান্ধদের কাছে ধর্ষণ জায়েজ, কিন্তু গান বাজনা হারাম। গান বাজনায় মন‌ শান্ত হয়, মনের উদারতা বাড়ে- থেরাপির কাজ করে গান- এগুলো কেন বুঝবে উগ্রবাদী মুসলমানরা! তারা বোঝে ধর্ষণ, খুন, হিন্দু হত্যা, মন্দির ভাঙচুর।

ঢাকায় বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়, ছায়ানট ভবন, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে সংঘটিত হয়েছিলো বর্বর হামলা। তাদের উদ্দেশ্য দেশটাকে কালো চাদরে ঢেকে দেয়া।‌যেন কোনো আলো না আসে।

এসব হামলা শুধু প্রতিষ্ঠান নয়- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, অসাম্প্রদায়িক সংস্কৃতি, মুক্তচিন্তা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর সরাসরি আঘাত।

অন্ধকারের অপশক্তি ও সাম্প্রদায়িক-মৌলবাদী সহিংসতার বিরুদ্ধে কত আন্দোলন, কত প্রতিবাদ! কিন্তু কোথায় কী? পরিস্থিতি যেই সেই।

বাংলাদেশ যেখানে প্রতিদিন হিন্দুদের বাড়িঘর পুড়ছে, মন্দির পুড়ছে, লুট, খুন, ধর্ষণ হচ্ছে। ইসলামিক মৌলবাদী জামাত শিবিরের হাতের পুতুল ইউনূস বাংলাদেশকে শশ্মানে পরিণত করেছে।

এখন নতুন সরকার, তারপরেও এই ঘটনাগুলো কিন্তু থেমে নেই।

এবার তো চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি জামে মসজিদের কমিটি ‘সমাজ সংস্কার’–এর নামে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো হারাম ঘোষণা করেছে।

গান বাজনা বন্ধ করে নাকি সমাজ সংস্কার হয়! এমন কথা কোথাও শুনেছেন?

পাশাপাশি কমিটি সিদ্ধান্ত নেয়, এলাকায় কোনো বিয়ের অনুষ্ঠানে গানবাজনা করলে সেখানে ধর্মীয় রীতিতে বিয়ে পড়াতে যাবেন না স্থানীয় আলেমরা।

প্রায় দুই মাস আগে এ বিষয়ে মসজিদ কমিটি এলাকায় একটি নোটিশ জারি করে। বিষয়টি সম্প্রতি জানাজানি হয়।

মসজিদটি উপজেলার চরাঞ্চলের ইসলামপুর ইউনিয়নের তেররশিয়া পোড়াগ্রামে।

‘গানবাজনা বা বাদ্যযন্ত্রমুক্ত সমাজ গঠনের সিদ্ধান্ত’ শিরোনামে ওই গ্রামে একটি নোটিশ প্রচার করা হয়। এতে লেখা, ‘এতদ্বারা পোড়াগ্রামবাসীর পক্ষ হতে জানানো যাচ্ছে যে, আমরা আমাদের গ্রামের পরিবেশ, যুবসমাজের নৈতিকতা এবং পারিবারিক শান্তি রক্ষার জন্য গ্রামের গণসম্মতির ভিত্তিতে শিরক, বিদ’আত, গান–বাজনা ও অপসংস্কৃতি ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম ও ক্ষতিকর হওয়ায় গ্রামের সামাজিক কল্যাণের স্বার্থে আজ থেকে আমাদের গ্রামে প্রকাশ্যে উচ্চশব্দে বাদ্যযন্ত্র বা গান–বাজনা সম্পূর্ণরূপে হারাম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো। এর পরেও যারা বাদ্যযন্ত্র বাজাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জানা গেলো, এই উগ্রবাদী , জঙ্গী নোটিশ জারির পর থেকে গ্রামে গানবাজনা বন্ধ আছে।

বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সম্প্রতি পুলিশ ওই গ্রামে গিয়ে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র হারাম বা নিষিদ্ধ লেখা ব্যানার, ফেস্টুন ও নোটিশ জব্দ করে থানায় নিয়ে আসে।

এদিকে, মসজিদের ইমামের নেতৃত্বে কয়েকজন জানান, তাঁরা নাকি না বুঝেই গ্রামে গানবাজনা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। বিষয়টি নিয়ে তাঁরা ভুল স্বীকার ও ক্ষমাপ্রার্থনা করেছেন।

তবে না বোঝার কী আছে এখানে? একটা দুধের শিশুও জানে উগ্র মৌলবাদীরা যে ধর্ষণের পক্ষে, জ্বালাও পোড়াও এর পক্ষে আর গানের বিপক্ষে। এত লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *