ঢাকা: জামাতের ভণ্ডামি পদে পদে। নারী বিরোধীরা নারীদের পতিতার চোখে দেখে আবার এরাই নারী দিবসে শুভেচ্ছা জানায়।

কর্মজীবী নারীদের ‘বেশ্যাই’ মনে করে জামাত। বেশ্যা বলেছেন জামায়াত আমির শফিকুর রহমান।এই নিয়ে ক্ষোভ, সমালোচনা শুরু হবার পর বলেন আইডি নাকি হ্যাক হয়েছে!

জামাত ইসলামের রাজনীতি ফ্যাসিবাদী চিন্তার ওপর দাঁড়িয়ে আছে।

জামাত ইসলামের রাজনীতি মনে করে, নারীদের বাইরে আসার দরকার নেই, তাদের কাজ করার দরকার নেই, তারা ঘরে থাকুক।

খেয়াল করুন কয়েকদিন আগে জামাতের আমির বললেন, ঘরের জন্য রানী নিয়ে আসুন। রানী করে রাখবেন। আর যারা বাইরে কাজের ঘন্টা কমিয়ে আনা হবে, বাকি টাকা সরকার দেবে। আদতে কী তাই?

এইগুলো সুগারকোটেডে মিথ্যা কথা। আসল বিষয় হলো, তোরা নারী, তোরা ঘরে থাক। আমাদের হাতে পায়ে তেল মালিশ কর। (তোরা বললাম বলে দুঃখিত, কিন্তু জামাত এই ভাষাতেই কথা বলে, তথা মনে করে)!

অনেক বড় পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা, যার ভেতরটা হলো নারীকে দাস দাসি মনে করা।

বাংলাদেশে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের নারী সংক্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গি বরাবরই নেতিবাচক।

শফিকুরের কথা শুনলে মরা বেড়াল জেগে উঠবে।

আজ, আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের নারীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি না জানালেই কী হতো?স্টেটাস,‌আদর্শ আছে নাকি জামায়াতের?

কী বলেছেন একটু দেখি:

নারীর অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র ও সমাজকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

রবিবার (৮ মার্চ) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি কথাগুলো বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান লিখেছেন, ‘আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে বাংলাদেশ এবং সারা বিশ্বের সব নারীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। পরিবার, সমাজ, অর্থনীতি ও রাষ্ট্র গঠনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীর অবদান অনস্বীকার্য।’

তিনি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশে এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে যেখানে নারীরা শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও নেতৃত্বের ক্ষেত্রে ন্যায্য সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য ও বেতন বৈষম্য দূর করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।’

জামায়াত আমির আরও লিখেছেন, ‘নারীর প্রতি সহিংসতা, হয়রানি ও অবমাননার বিরুদ্ধে রাষ্ট্র ও সমাজকে আরও দৃঢ়ভাবে অবস্থান নিতে হবে। পাশাপাশি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, শিক্ষা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়াতে সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।’

তিনি লিখেছেন, ‘নৈতিকতা, মানবিকতা ও পারিবারিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজই নারীর প্রকৃত মর্যাদা নিশ্চিত করতে পারে। ধর্ম, মত ও সম্প্রদায় নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নারী আমাদের সম্মান ও সহযোগিতার দাবিদার।’

‘এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে যেখানে প্রতিটি নারী নিরাপদ, সম্মানিত ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যেতে পারে।’

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *