ঢাকা: জামায়াত নেতা ও যুদ্ধাপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত রাজাকার মীর কাশেম আলীর ছেলে মীর আহমেদ বিন কাশেম আরমান আট বছর গুম ছিলেন না, বরং তিনি আত্মগোপনে ছিলেন—এমনটাই দাবি করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো।

ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম আরমান দীর্ঘ আট বছর আত্মগোপনে ছিলেন। কোনো আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা তাকে গুম করেনি। টিএফআই সেলে গুম-নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জেরার সময় এ দাবি করেন কর্নেল কে এম আজাদের আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো।

রবিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই জেরা অনুষ্ঠিত হয়।

প্যানেলের অপর দুই সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

জেরার সময় আইনজীবী টিটো ব্যারিস্টার আরমানকে বলেন, তিনি আত্মগোপনে ছিলেন এবং কোনো আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা তাকে গুম করেনি।

এছাড়াও তিনি বলেন, আরমানের লেখা বই “আয়নাঘরের সাক্ষী, গুমজীবনের আট বছর”-এইসব মিথ্যা। বর্ণিত ঘটনাগুলো সত্য নয়। যদিও আরমান এইসব অভিযোগ অস্বীকার করেন।

আরমানের কথায় অনেক ফাঁক আছে। আরমান জানান, তাকে আটকে রাখার সময় গলায় থাকা গামছা, লুঙ্গি ও টি-শার্ট তদন্ত কর্মকর্তা চেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি সেগুলো সংরক্ষণ করেননি।

তিনি নাকি ঐ পোশাকগুলো ধ্বংস করেছেন। তা একজন মানুষ ছেঁড়া কাপড়ও তো সহজে ফেলে না।আর তিনি যদি গুম থাকেন, সেই প্রমাণের কাপড় ফেলে দেবেন?

এই বিষয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী প্রশ্ন তোলেন, প্রমাণ নষ্ট করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল কি না। আরমান এ অভিযোগও অস্বীকার করেন।

ট্রাইব্যুনালে তার গুমজীবন নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হয়। সেখানে তাকে লুঙ্গি, টি-শার্ট ও গলায় গামছা পরা অবস্থায় দেখা যায়।

আরমান দাবি করেন, এটি মূল সিসিটিভি ফুটেজ থেকে নেওয়া।

তবে এগুলো সব বানোয়াট। আসামিপক্ষের আইনজীবী বলেন, প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের উদ্দেশ্যে তাকে ওই পোশাক পরানো হয়েছিল। এদিকে এই দাবিও প্রত্যাখ্যান করেন আরমান।

পরে লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেমসহ সাত আসামির পক্ষে জেরা চালানোর জন্য সময় চেয়েছেন আইনজীবী তাবারক হোসেন।

এ বিষয়ে আপত্তি জানান চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী জেরার জন্য আগামী ১০ মার্চ দিন ধার্য করেন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *