ঢাকা: মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে বিএনপির অবস্থান যে আগের মতোই আছে সেটা আবারো দেখলো দেশবাসী।
মানুষ ভেবেছিলো মুক্তি বুঝি পেলো, রাজাকার জামাতকে ভোট দেয়নি জনগণ একটু আশা যে এখন আওয়ামী লীগ নেই, বিএনপি যদি…!
অথচ ৭ই মার্চে কী দেখা গেলো?
ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ বাজানো এবং জাতির পিতার স্মৃতিবিজড়িত স্থানে শ্রদ্ধা নিবেদনে বাধা প্রদান করা হলো, নির্যাতন ও গ্রেফতার করা হলো এই অপরাধে!
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
বর্তমান সরকার ইতিহাস মুছে ফেলার অপচেষ্টায় লিপ্ত অভিযোগ করে আওয়ামী লীগের দাবি— মিথ্যা ও বিকৃত ইতিহাস দিয়ে ৭ই মার্চ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানকে কখনোই মুছে ফেলা যাবে না।
রবিবার (৮ মার্চ) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই দাবি জানানো হয়।
শনিবার দুপুরে রাজধানীর চানখাঁরপুল মোড়ে সাউন্ড বক্সে ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ বাজানোর জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক শিক্ষার্থীকে সাউন্ড বক্সসহ আটক করে শাহবাগ থানা পুলিশ।
অন্যদিকে, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের দিকে যাওয়ার পথে স্কয়ার হাসপাতালের সামনে থেকে তিন নারীসহ চারজনকে আটক করে কলাবাগান থানা পুলিশ। পুলিশের অদ্ভুত দাবি, তারা নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কর্মী, তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দেওয়া হয়েছে।
এইসব গ্রেফতারের তীব্র সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থীকে ঐতিহাসিক ভাষণ বাজানোর অপরাধে শাহবাগ থানা পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এমনকি পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার আগে উগ্রবাদীরা ওই শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘৭ই মার্চ বাঙালির জীবনে এক অবিস্মরণীয় দিন। বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্মুখ লড়াই মূলত ১৯৭১ সালের সাতই মার্চ থেকেই শুরু হয় এবং ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি সমাপ্ত হয়।
৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধ, জাতির পিতার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত পরিণতি লাভ করে।
অতীতে সামরিক-বেসামরিক ও সুশীল নামধারী অনেক সরকারই ৭ই মার্চকে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার অপচেষ্টা করেছে।
কিন্তু গণমানুষের স্বতঃস্ফূর্ত স্মরণে এর গুরুত্ব বরং বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বর্তমানে ইউনেস্কোর ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃত।
অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় বর্তমান সরকারও অতীতের সামরিক- বেসামরিক ও সুশীল নামধারী সরকারের পথেই হাঁটছে।
৭ই মার্চে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ বাজানোকে অপরাধ গণ্য করে গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থীকে শাহবাগ থানার পুলিশ গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারের পূর্বে উগ্রবাদীরা নির্যাতন করেছে।
অপরদিকে ধানমন্ডি বত্রিশ নম্বরের বাড়ি, যা ইতোমধ্যে জঙ্গিদের আক্রমণ ও ভাঙচুরে ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে, সেই ঐতিহাসিক বাড়ি অঙ্গনে জাতির পিতার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর অপরাধে কয়েকজন রিক্সাচালককে গ্রেফতার করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলায় আদালতে প্রেরণ করেছে।
একইভাবে সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে এবং একই কারণে অনেক নেতাকর্মীকে হয়রানি ও মবের শিকার হতে হয়েছে। যার মাধ্যমে প্রশ্ন উঠছে দেশে আদৌ কোন সরকার রয়েছে?
এই ধরনের গ্রেফতার ও নির্যাতনের বিষয়ে শুধু এটুকু বলতে চাই- ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিন। কেননা ইতিহাসের প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে সাতই মার্চ ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চিরস্মরণীয় ও ক্রমশ উজ্জ্বলতর হতে থাকবেন। যা মিথ্যা ও বিকৃত ইতিহাস দিয়ে চেপে রাখা যাবে না’।
