ঢাকা: জনগণ দেখছে দেশ আবার আগের পরিবেশে ফিরে যাচ্ছে। শুরু হয়ে গেছে আগুন সন্ত্রাস, ছাত্রলীগ আওয়ামী লীগ ধরপাকড় বিনাদোষে, একাত্তরের প্রশ্নে আবারো স্বৈরাচারী মনোভাব! এগুলো আশা করেনি জনগণ।
জনগণ জামাত থেকে বাঁচতে চায় বিধায় বিএনপিকে ভোট দিয়েছে। পাকিস্তান প্রেমী জামায়াত যাতে ক্ষমতায় না আসে তাই জন্যে হিন্দু এবং বহু আওয়ামী সাপোর্টারের ভোট বিএনপিতে গেছে!
কিন্তু কী হচ্ছে এইসব? ইউনূসের রেখে যাওয়া জঙ্গীরা তো ঠিক রাজত্ব করছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাহিদ খান পাভেলকে মেরে রক্তাক্ত করে ফেলা হয়েছে। পাভেল রক্তাক্ত হয়ে পড়ে থাকে গাছে হেলান দিয়ে; আর তারা ফেসবুকে পোস্ট দেয় —
“আজকে লীগ দিয়ে সেহরি সম্পন্ন হলো”…
ছাত্রলীগও তো আল্লাহর বান্দা। যারা আল্লাহর গোলাম দাবি করে তাঁরই আরেক গোলামের সেহেরির হক নষ্ট করে তাদের বিচারও নিশ্চয়ই ততটুকু কঠিন হবে যতটুকু হলে আল্লাহকে ন্যায় বিচারক বলা হয়। তাই না?
ফেসবুকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণ নিয়ে পোস্ট দেওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এই শিক্ষার্থীকে ‘ছাত্রলীগ’ আখ্যা দিয়ে তুলে নিয়ে বেধড়ক মারধর করে নাকমুখ ফাটিয়ে দেয়া হয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নামই রাহিদ খান পাভেল। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
অমানবিক, পৈশাচিক নির্যাতনের পর তাঁকে গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাহিদ খান পাভেল সেহরি করতে বসেছিলেন, সেখান থেকে তুলে এনে মব করে পিটিয়ে এভাবে থানার সামনে রেখে গেছে ইউনুসের ছাত্রশক্তি নামক মব সংগঠনের সন্ত্রাসীরা।
পাভেলকে মারধরে নেতৃত্ব দিয়েছে ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদক পরিচয়ের সন্ত্রাসী জঙ্গি, শিবিরের সাইফুল্লাহ।
এর বিচার কি বিএনপি সরকার করবে?
ধরে নিলাম তিনি ছাত্রলীগ করেন। কিন্তু তাই বলে কি একজন মানুষকে সেহরি করতে বসা অবস্থায় তুলে এনে নির্মমভাবে মারধর করে?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাহিদ খান পাভেল যিনি টিউশনি করে নিজের খরচ চালান, পাশাপাশি বাবাহীন সংসারে মা কেও সহযোগিতা করেন। সেই পাভেল সেহরি করতে বসেছিলেন।
সেখান থেকেই তাকে তুলে এনে মব সন্ত্রাসীরা বেধড়ক পিটিয়ে মারাত্মক আহত অবস্থায় থানার সামনে ফেলে রেখে যায়।
পরিবার চালানো ছেলেটাকে নরপিশাচরা মেরেছে। ক্যাম্পাসে তার নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক পরিচয় ছিল না।
রাজনৈতিক পরিচয় না থাকলেও তিনি ৭ ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ শুনবেন অবশ্যই, কারণ এই ভাষণের জন্য তাঁকে আওয়ামী লীগ হতে হবে এমন মাথার দিব্যি কে দিয়েছে?
নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ নিয়ে একটি পোস্ট করেছিলেন তিনি।
ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, রাতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কাজী নজরুল ইসলাম হলে সেহরি খেতে গিয়েছিলেন পাভেল।
সেহরি খাওয়া অবস্থায় কোনো কারণ ছাড়াই একদল মব তাঁকে তুলে নেয়। পাভেলকে ‘ছাত্রলীগ’ ট্যাগ দিয়ে আটকে রেখে নির্মমভাবে অত্যাচার করে।
একপর্যায়ে নিস্তেজ হয়ে যাওয়ার পর হামলাকারীরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় শাহবাগ থানায় ফেলে রেখে যায়। ছিনিয়ে নেয়া হয় তার মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ, বাইকের চাবি।
এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতারের খবর পাওয়া যায়নি।
