ঢাকা: এক কোটি টাকা (১০ মিলিয়ন) ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদারের বিরুদ্ধে।
এই হচ্ছে জঙ্গী ইউনূসের কালের বিচার প্রক্রিয়ার ধরন। এভাবেই দেশ চলেছে। এখন এদের বিচার কী হবে?
অভিযোগ উঠেছে, চট্টগ্রামের রাউজান আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিনিময়ে রেজা তালুকদার এই মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেছিলেন।
তাঁকে জামিনে মুক্তি পাইয়ে দেওয়ার জন্য তাঁর পরিবারের কাছে প্রসিকিউটর মো. সাইমুম রেজা তালুকদার এক কোটি টাকা চেয়েছিলেন।
এই অভিযোগ যখন উঠেছে তখনই সোমবার (৯ মার্চ) পদত্যাগ করেছেন তিনি।
এই অর্থ তথা ঘুষ খাওয়ার বিষয়টিকে নিয়ে অডিও রেকর্ডিং এর খবর পাওয়া গেছে।
কে কত টাকা দুর্নীতি করেছে, ঘুষ খেয়েছে-সব বেরিয়ে আসছে। কিন্তু বেরিয়ে এলেই তো হবে না এদের বিচার চায় জনগণ।
বিচার যদি না হয়, তাহলে বিচারের প্রতি আস্থাহীন হওয়াই স্বাভাবিক।
এই বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই আরো একজনের মন্তব্য পাওয়া গেলো।
জামিন করিয়ে দেওয়ার নামে বিপুল অঙ্কের অর্থ দাবি সংক্রান্ত অভিযোগ বিচারব্যবস্থার প্রতি জনসাধারণের আস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন দুর্নীতিবিরোধী সংগঠন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
তিনি বলেন, বিচারপ্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি যদি জামিনের মতো আইনি প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার নামে অর্থ দাবি করেন, তবে তা শুধু অনৈতিকই নয়, আইনের শাসনের জন্যও গভীর উদ্বেগজনক।
এমন ঘটনা সামনে এলে তা দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিচারব্যবস্থা জনগণের ন্যায়বিচার পাওয়ার শেষ আশ্রয়স্থল। সেখানে অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গাটি দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই এ ধরনের অভিযোগকে গুরুত্বসহকারে দেখা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ‘জামিন পাওয়ার বিষয়টি আদালতের এখতিয়ারভুক্ত একটি স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়া। যদি সেই প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে অর্থ লেনদেন বা প্রভাব খাটানোর অভিযোগ ওঠে, তাহলে তা বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের বিশ্বাসকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।’
বর্তমান আইনমন্ত্রী এবং সাবেক ও বর্তমান চিফ প্রসিকিউটরের দৃশ্যমান নমনীয়তা, বিশেষ করে যথাযথ কঠোর অবস্থান না নেওয়া প্রশ্নের উদ্রেক করছে,উল্লেখ করেন ইফতেখারুজ্জামান।
