ঢাকা: মনে আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে চোর সন্দেহে মানসিক ভারসাম্যহীন তোফাজ্জল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার কথা? পেট ভরে খাইয়ে কীভাবে তাঁকে হত্যা করা হলো!
২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বরে ফজলুল হক মুসলিম হলে ঘটনাটি ঘটে।
ঠিক একই কায়দা হয়েছে সম্প্রতি পাভেলের সাথে।
তোফাজ্জল মামলায় ২৮ জনের বিরুদ্ধে দেওয়া পিবিআইয়ের অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছে আদালত। তাদের মধ্যে পলাতক ২২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত।
আসামিরা হলেন—জালাল মিয়া, আহসান উল্লাহ ওরফে বিপুল শেখ, আল হোসাইন সাজ্জাদ, মোত্তাকিন সাকিন শাহ, সুমন মিয়া, ওয়াজিবুল আলম, ফিরোজ কবির, আব্দুস সামাদ, সাকিব রায়হান, ইয়াছিন আলী, ইয়ামুজ্জামান ওরফে ইয়াম, ফজলে রাব্বি, শাহরিয়ার কবির শোভন, মেহেদী হাসান ইমরান, রাতুল হাসান, সুলতান মিয়া, নাসির উদ্দিন, মোবাশ্বের বিল্লাহ, শিশির আহমেদ, মহসিন উদ্দিন ওরফে শাফি, আব্দুল্লাহিল কাফী, শেখ রমজান আলী রকি, রাশেদ কামাল অনিক, মনিরুজ্জামান সোহাগ, আবু রায়হান, রেদোয়ানুর রহমান পারভেজ, রাব্বিকুল রিয়াদ ও আশরাফ আলী মুন্সী।
তাদের মধ্যে আহসান উল্লাহ ওরফে বিপুল শেখ ও ওয়াজিবুল আলম জামিনে আছে।
জালাল মিয়া, আল হোসেন সাজ্জাদ, মোত্তাকিন সাকিন শাহ ও সুমন মিয়া কারাগারে রয়েছে।
তবে এই হত্যা মামলায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
পৈশাচিক এই ঘটনার অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে যার নাম আগে থেকেই আলোচনায় ছিল—ছাত্রশক্তির সদস্য সচিব আবু বাকের মজুমদার—তার নাম ওই তালিকায় না থাকায় বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
কেন আবু বাকের মজুমদারের নাম নেই?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত তোফাজ্জল হত্যাকাণ্ডটি সারা দেশকে নাড়া দেয়। ঘটনার পর থেকে নিহতের পরিবারসহ সাধারণ মানুষ দ্রুত বিচার ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
কিন্তু বিচারের বাণী নীরবে কাঁদে।
আদালত থেকে ২২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলেও তালিকায় আবু বাকের মজুমদারের নাম নেই!
মূল অভিযুক্ত হিসেবে আলোচিত একজনের নাম ছাড়াই আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়াকে আশ্চর্যজনক বলে মন্তব্য করছেন।
কাদের কারসাজিতে আবু বাকেরের নাম নেই?
অদ্ভুত ভাবে সেখানে মূল আসামি আবু বাকের মজুমদারের নাম নেই। এছাড়া হত্যার সাথে যেসব বৈষম্যেবিরোধী আন্দোলনের নেতা তথা জঙ্গী, টোকাইরা জড়িত ছিলো তাদের নামও নাই।
যাদের আসামি করা হয়েছে বেশিরভাগই আগে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলো।
অনেকেই বলছেন, বিএনপি মূলত বিচারের নামে ইমেজ ক্লিনের রাজনীতি-তে নেমেছে।
ন্যায় প্রতিষ্ঠা করার চাইতেও তাঁদের লক্ষ্য হলো লোক দেখানো।
প্রশ্ন হচ্ছে , এই বিচারের নামে প্রহসনের উপর জনগণ কী বিশ্বাস বা আস্থা রাখতে পারবে?
