ঢাকা: বিএনপি আশ্চর্যের কাজটা করেই ফেললো। তারা সরাসরি মানুষ ঠকিয়েছে।
বিএনপি নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণকারী শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করে, আর সেই দাবির ওপর ভরসা করে বহু মানুষ বিশেষ করে হিন্দু এবং আওয়ামী লীগের ভোট বিএনপির খাতায় গেছে।
জনগণ তাদের প্রতি ভোটের আস্থা অর্পণ করেছিল। পাকিস্তানপন্থী জামাতকে চায়নি, জামাতের চরিত্র জানে সবাই। ভেবেছিলো বিএনপি যদি কিছু করে।
বিশ্বাস ছিল একটাই মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকবে, আর মুক্তিযুদ্ধবিরোধী উগ্র মব-সংস্কৃতির অবসান ঘটবে।
বিএনপির সঙ্গে পরাজিত দলের আসন ব্যবধান বড় হলেও প্রকৃত ভোটের ব্যবধান ছিল অতি সামান্য।
কিন্তু সেই আস্থার প্রতিদান কী মিলল? কী পেলো দেশবাসী? যেই লাউ সেই তো কদু।
বিএনপির চরিত্র পাল্টায়নি। তলে তলে পানি খাচ্ছে।
মনে হচ্ছে, বিএনপি, জামায়াত এবং মুক্তিযুদ্ধবিরোধী অন্যান্য শক্তির মধ্যে আবারও এক ধরনের সমঝোতার রাজনীতি গড়ে উঠেছে।
চব্বিশের ঝুলাই কোটা ষড়যন্ত্রের গণ্ডগোলের পর সুদখোর রাজাকার ইউনূস সরকার ৭ মার্চ, ১৫ অগাস্টসহ যে আট জাতীয় দিবস বাতিল করেছিল, বিএনপি সরকার তার কোনোটি ফেরায়নি।
ঐতিহাসিক ৭ মার্চ নীরবে জিজ্ঞেস করে-
“আমার আঠারো মিনিট কি এতই ভয়ংকর?”
১৫ আগস্টের শোক যেন আজ অপরাধ।
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস পালনের যে তালিকা প্রণয়ন করেছিল, সেটা একদম বহাল রেখেছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার।
৭ মার্চ ও ১৫ আগস্টসহ যে ৮টি জাতীয় দিবস বাতিল করা হয়েছিল, তার কোনোটি ফেরানো হয়নি বর্তমান তালিকায়।
বুধবার (১১ মার্চ) জারি করা এক পরিপত্রে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে উদযাপন ও পালনের জন্য মোট ৮৯টি দিবস রাখা হয়েছে।
এর মধ্যে ‘ক’ শ্রেণিতে ১৭টি, ‘খ’ শ্রেণিতে ৩৭টি এবং ‘গ’ শ্রেণিতে ৩৫টি দিবস রয়েছে।
নতুন পরিপত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের ধারা অনুসরণ করে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবসের তালিকায় ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ এবং ‘খ’ শ্রেণিভুক্ত দিবসের তালিকায় ১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
জঙ্গী দিবস আছে, মুক্তির দিবস নেই! আমরা কী বুঝবো আর?
চব্বিশের জঙ্গী আন্দোলনের পর অবৈধ ইউনূস সরকার ঐতিহাসিক ৭ মার্চ,
১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিবস ও জাতীয় শিশু দিবস,
৫ আগস্ট শেখ হাসিনার ভাই শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের জন্মবার্ষিকী,
৮ আগস্ট শেখ হাসিনার মা বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মবার্ষিকী,
১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস,
১৮ অক্টোবর শেখ রাসেল দিবস,
৪ নভেম্বর সংবিধান দিবস এবং
১২ ডিসেম্বর স্মার্ট বাংলাদেশ দিবস বাতিল করেছিল।
