ঢাকা: জাতির ইতিহাসে এক কলঙ্কময় অধ্যায় আজ ১২ মার্চ।

একাত্তরের যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লা, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, শুরা সদস্য মীর কাসেম আলী, নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর নামে শোকপ্রস্তাব গৃহীত হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে।

এখনো কী কিছু বোঝার বাকি আছে ?

এখন বলতেই হচ্ছে, বিএনপি জামায়াতের বিরুদ্ধে করা রাজাকার রাজাকার নাটকের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করলো।

এই দৃশ্যও আজ আমাদের দেখতে হলো।

রাজাকার নিজামি, সাইদি, কাদের মোল্লাদের শোক প্রস্তাব সংসদে গ্রহণ করার কারণে দেশবাসী ধিক্কার জানাচ্ছে।

এই জায়গায় অনেক প্রশ্ন জাগছে।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মেজর জিয়া কয়েকজন রাজাকারকে রাজনীতিতে এনেছিলেন, কিন্তু আজকে স্বাধীন বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে, যখন রাজাকারেরা বিরোধী দলে, একজন বীর বিক্রম জাতীয় সংসদের স্পিকার, তখন ঠিক কোন চাপে এই শোক প্রস্তাব গ্রহণ করলো বিএনপি তা সত্যিই আমরা জানি না।

অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে বিএনপি হাতের পুতুল হয়ে গেছে। ক্ষমতা আসলে জামাত-এনসিপির হাতেই।

রাজাকারদের জন্য শোকপ্রস্তাব গ্রহণ হলো, কেবল মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি ‘ধিক্কার’ প্রস্তাব গৃহীত হওয়াটা বাকি ছিলো।

বিরোধী দল শোক প্রস্তাবে তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার দাবি করলে তা গ্রহণ করেছেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় উপনেতা যাদের নাম উল্লেখ করেছেন, সেগুলো শোকপ্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

এর আগে শোকপ্রস্তাবের ওপর সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়ে আলোচনা হয়।

এরপর শহীদ জুলাইযোদ্ধাদের নিয়ে আলোচনা করা হয়। খালেদা জিয়া ও জুলাইযোদ্ধাদের শোকপ্রস্তাব নিয়ে আলোচনার পর শোকপ্রস্তাব গৃহীত হলো বলে ঘোষণা করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লা, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, শুরা সদস্য মীর কাসেম আলী, নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর নাম শোকপ্রস্তাবে যুক্ত করার প্রস্তাব ওঠে।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সেগুলো অন্তর্ভুক্ত করার কথা জানান। তিনি বিএনপির সাবেক এমপি ও স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর নামও যুক্ত করে নেন। সংসদে আলোচনা শেষে শোকপ্রস্তাব গৃহীত হয়। এবং জাতির কপালে আরেক কালিমা যুক্ত হয়ে গেলো।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *