ঢাকা: বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ পুলিশি সহিংসতা ঘটেছে ২০২৪ সালে।
গত জুলাই মাসে বাংলাদেশে সংঘটিত সুপরিকল্পিত মিলিট্যান্ট-সিভিল-মিলিটারি ক্যু ঘটিয়ে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা হয়েছে।
এই সময় সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানায় ১৩ জন পুলিশ সদস্যকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছিলো, একজনকে গলায় ফাঁস দিয়ে গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিলো, তিনজনের লাশ পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়।
মূলত এগুলো কোনো সাধারণ দাঙ্গার ঘটনা নয়, এগুলো যুদ্ধাপরাধের সামিল।
এই তো মাত্র ১৩ জন, এরকম হাজারের উপর আছে।
শতাধিক থানায় হামলা হয়েছে, অস্ত্র লুট হয়েছে। এরপরও সব চুপ।আইন চুপ, পুলিশ প্রশাসন তো চুপই।
যারা পুলিশ সদস্যদের নির্মমভাবে হত্যা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা হবে না, গ্রেফতারও হবে না।

পুলিশ সদস্য হত্যার ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদসহ ৪২ জনকে আসামি করে মামলা দায়েরের আবেদন করা হলেও সেটা কোনো এক দৈব আদেশে গ্রহণ করেননি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত।
বৃহস্পতিবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রৌনক জাহান তাকির আদালত পুলিশ হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াকে প্রধান আসামি করে মোট ৪২ জনের নাম উল্লেখ করা হয় সেখানে। তবে অভিযোগের বিষয়ে শুনে পর্যালোচনা করে আদালত মামলাটি আমলে নেননি।
মামলার বাদী জালাল হোসেন মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী থানার জাংগিরাই গ্রামের আব্দুল খালেকের পুত্র।
যাদের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করা হয় তাদের নামগুলো, এক নম্বরেই দুর্নীতির রাজা আসিফ:
১. আসিফ মাহমুদ
২. আব্দুল কাদের
৩. আবু বাকের মজুমদার
৪. আব্দুল হান্নান মাসুদ
৫. আদনান আবির
৬. জামান মৃধা
৭. মোহাম্মদ সোহেল মিয়া
৮. রিফাত রশিদ
৯. হাসিব আল ইসলাম
১০. আব্দুল্লাহ সালেহীন অয়ন
১১. লুৎফর রহমান
১২. আহনাফ সাঈদ খান
১৩. মোয়াজ্জেম হোসেন
১৪. ওয়াহিদুজ্জামান
১৫. তারেকুল ইসলাম (তারেক রেজা)
১৬. হামজা মাহবুব
১৭. রেজোয়ানা রিফাত
১৮. তরিকুল ইসলাম
১৯. নুসরাত তাবাসসুম
২০. রাফিয়া রেহনুমা হৃদি
২১. মুমতাহীনা মাহজাবিন মোহনা (বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা হল, ঢাবি)
২২. আনিকা তাহসিনা (রোকেয়া হল, ঢাবি)
২৩. উমামা ফাতেমা (সুফিয়া কামাল হল, ঢাবি)
২৪. তাহমিদ আল মুদাসসির চৌধুরী
২৫. নিশিতা জামান নিহা
২৬. মেহেদী হাসান (সোশিওলজি)
২৭. মো. আবু সাঈদ
২৮. সানজানা আফিফা আদিতি
২৯. তানজিনা তামিম হাফসা
৩০. আলিফ হোসাইন
৩১. কাউসার মিয়া
৩২. সাইফুল ইসলাম
৩৩. আরিফ সোহেল (জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়)
৩৪. আব্দুর রশিদ জিতু (জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়)
৩৫. স্বর্ণা রিয়া (জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়)
৩৬. রাসেল আহমেদ (চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়)
৩৭. আসাদুল্লাহ আল গালিব (শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়)
৩৮. মো. তৌহিদ আহমেদ আশিক (শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়)
৩৯. গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী মিশু (রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়)
৪০. নাজমুল হাসান (ঢাকা কলেজ)
৪১. শাহিনুর সুমী (ইডেন মহিলা কলেজ)
৪২. সিনথিয়া জাহিন আয়েশা (বদরুন্নেসা কলেজ)
উক্ত মামলায় অধিকাংশই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সমন্বয়ক ও সহ-সমন্বয়ক হিসেবে ছিলেন।
