ঢাকা: জামাত এনসিপি জাতীয় সংসদে দেখিয়ে দিলো পাকিস্তানি রক্তের নমুনা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণ দেওয়াকে কেন্দ্র করে তুমুল হট্টগোল করা শুরু করে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির সংসদ সদস্যরা।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ঘোষণা দেওয়ার পরপরই
হুলুস্থুল শুরু করে রাজাকারেরা।

এ সময় সংসদ সদস্যরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্পিকার বলেন, ‘আমরা সংসদীয় রীতি মেনে চলতে চাই। দয়া করে কোনো খারাপ নজির স্থাপন করবেন না। আপনারা বসুন। শৃঙ্খলা বজায় রাখুন।’
স্পিকার বারবার শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলতে থাকেন, ‘শৃঙ্খলা বজায় রাখুন।’

পরে নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির আগমনী ঘোষণার সঙ্গে জাতীয় সংগীত বেজে উঠলেও জামায়াত ও এনসিপির সংসদ সদস্যরা বসেই থাকেন।

প্রথম শ্রেণির ঐ শিশু যে সদ্য স্কুলে যাচ্ছে সেও জানে—জাতীয় সংগীত বাজলে সম্মান জানিয়ে উঠে দাঁড়াতে হয়।

কিন্তু সংসদে জাতীয় সংগীত বাজানোর সময় যখন শর্কী দলের সংসদ, প্রেসিডেন্ট , উপস্থিত অতিথিদের সবাই দাঁড়িয়েছিলেন, তখন জামায়াত ও এনসিপির নেতারা দাঁড়াননি। তারা শুধু বসেই থাকেননি, বরং উচ্চস্বরে হট্টগোল শুরু করেন।

পরে রাষ্ট্রপতির প্রটোকল অফিসার এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অনুরোধ ও চেষ্টায় অনেক কষ্টে তারা দাঁড়ান।

অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীত বাজার সময় জামাত এবং এনসিপির নেতারা নিজ আসনে বসেছিলেন। বারবার ইশারা দেওয়া সত্ত্বেও তারা কেউ উঠে দাঁড়াননি। এক পর্যায়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত হাসনাতকে উদ্দেশ করে বলেন, “এই হাসনাত”।

এরপর হাসনাত সবাইকে উঠে দাঁড়াতে বললে, উপস্থিত জামাত-এনসিপির নেতারা শেষ পর্যন্ত দাঁড়ান।

কিন্তু এই দাঁড়ানো আর না দাঁড়ানো কোনো পার্থক্য নেই।

মির্জা ফখরুলও ইশারা করেছেন। কত অদ্ভুত মানসিকতা! ক্ষমতা চায়, কিন্তু এই সোনার দেশের স্বাধীনতাকে মানতে চায় না।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে মানে না। বঙ্গবন্ধুকে মানে না, ৭১ পুড়িয়ে দিতে চায় এরা। এমনকি জাতীয় সঙ্গীতের প্রতিও ন্যূনতম সম্মান দেখাতে চায় না।

যে দল বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত কে মানে না, যে দল ৭১ মুক্তিযোদ্ধা কে মানে না, সেই দল কীভাবে সংসদে গিয়ে বসতে পারে?

তারা এখনো পাকিস্তানি সৈনিক।

এদিকে, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী এবং যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি এটিএম আজহারুল ইসলাম “যদি জুলাই ২৪ না হত, আমার মতো লোক ফাঁসির সেল থেকে সংসদে আসতে পারত না।”

জুলাই কিসের জন্য হয়েছে বুঝেছেন তো?

আজহারুল ১৯৭১ সালে ১,৪০০ জন নিরস্ত্র বাঙালিকে হত্যায় অংশ নেওয়া যুদ্ধাপরাধী খুনি।

এদের নির্দেশে এখন মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ চলবে!

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *