সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরার প্রায় ২৩০ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় মন্দিরে প্রতিমার স্বর্ণালংকার চুরি গিয়েছে।
এই দেশে সনাতন ধর্মের লোকেরা শান্তিতে যে নেই, তার প্রমাণ আর দেবার দরকার নেই। সত্যের এত প্রমাণ লাগে না।
হিন্দুর বাড়িঘর পোড়ানো, হিন্দু নারীদের ধর্ষণ, খুন, মন্দির পোড়ানো, চুরি চামারি, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো চলছে একদম পানির স্রোতের মতো।
মন্দিরের একাধিক কক্ষের তালা কেটে প্রতিমার স্বর্ণালংকার, রুপা এমনকি দানবাক্সের নগদ অর্থ পর্যন্ত লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।
মন্দির কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ১৮ লাখ টাকার সম্পদ চুরি হয়েছে। বুধবার (১১ মার্চ) মধ্যরাতে সাতক্ষীরা শহরের পুরাতন সাতক্ষীরা এলাকায় অবস্থিত জেলার কেন্দ্রীয় মায়েরবাড়ি মন্দিরে এই চুরির ঘটনা ঘটে।
সাতক্ষীরা জেলা মন্দির সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিত্যানন্দ আমিন জানান, চোরেরা মায়েরবাড়ি মন্দিরের কালীমন্দির, অন্নপূর্ণা মন্দির, রাধাগোবিন্দ মন্দির, জগন্নাথ মন্দিরের তালা কেটে ভেতরে ঢোকে।
প্রতিমার বিভিন্ন স্বর্ণালংকার ও দানবাক্সের অর্থ চুরি করে নিয়ে যায়।
চুরি হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে: চার ভরি ওজনের দুই জোড়া স্বর্ণের বালা, এক ভরি ওজনের দুই জোড়া শাঁখা, চার আনা ওজনের এক জোড়া কানের দুল, আট আনা ওজনের একটি ‘মায়ের জিভ’, আট আনা ওজনের একটি চেইন, দশ আনা ওজনের একটি নথ, চার আনা ওজনের দুই জোড়া পেটি, প্রায় পাঁচ ভরি রুপা, দানবাক্সের নগদ সাত হাজার টাকাসহ অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী।
এই ঘটনায় ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সাতক্ষীরা সদর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
যারা চুরিকাণ্ডে জড়িত তাদের নাম দেখলেই বোঝা যাবে এরা কোন ধর্মের অনুসারী। আচ্ছা কোনো সনাতনী কোনোদিন কোনো মুসলমানের বাড়িঘরে গেছে চুরি করতে? আগুন দিতে? তাহলে ওরাই কেন?
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- পুরাতন সাতক্ষীরার ছয়য়ানী মসজিদ মোড় এলাকার বাসিন্দা তানভির রহমান (২১), একই এলাকার রাকিবুল ইসলাম রাকিব (২৫), মায়ের মন্দির সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম (২০), পলাশপোল এলাকার বাসিন্দা আল ইমরান হোসেন সাকিব (২৫), পারমাছখোলা এলাকার বাসিন্দা রবিউল ইসলাম (২৫) এবং গাংনিয়া মাহামুদপুর এলাকার বাসিন্দা বাবলু গাজী (৪২)।তাদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
