ঢাকা: পাঠ্যবই নিয়েও যে দেশে দুর্নীতি হয়, ষড়যন্ত্র হয়, কালো ব্যবসা হয় সে দেশটা আর কতদূর এগিয়ে যেতে পারে তার প্রমাণ আমরা পেয়েছি।
ছাত্রছাত্রীদের জন্য সরকারের বিনামূল্যে বিতরণ করা পাঠ্যবই নিয়েও গড়ে উঠেছে সিন্ডিকেট। ভাবা যায়? কেউ ছাড় পাবে না এই দেশে ষড়যন্ত্রকারীদের কাছ থেকে। নিষ্পাপ শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়েও খেলছে ওরা।
অভিযোগ উঠেছে, এই চক্রটি বছরের পর বছর ধরে টেন্ডার কারসাজি, কাগজের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে আসছে। এবং বিভিন্ন ধরনের জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারের কাছ থেকে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
বিপুল অর্থ হাতিয়েছে ২০২৫ সালেই। এই বছরটা কেমন গিয়েছে তা আমরা সবাই জানি। জঙ্গী ইউনূসের রমরমা সময় এটা। যেখানে সুদী ইউনূস বসে গদিতে।
শুধুমাত্র ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে পাঠ্যবই ছাপানোর নামে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ৬৫৮ কোটি ৮৫ লাখ ২৯ হাজার ৬৬৫ টাকা লোপাট করা হয়েছে বলে একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
সম্প্রতি জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই মুদ্রণ ও বিতরণ নিয়ে সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার বিশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে যে তথ্যের কথা বলা হয় তা ভয়ঙ্কর। জুলাই গণ অভ্যুত্থান-পরবর্তী গত শিক্ষাবর্ষে ভারতীয় প্রতিষ্ঠানে পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ সময় পাঠ্যপুস্তক ছাপা নিয়ে সিন্ডিকেট শুরু করে দেশি মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানগুলো।
এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এনসিটিবির পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণের দরপত্রে সিন্ডিকেট এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে।
কারা কারা নেতৃত্ব দিচ্ছে সিন্ডিকেটে?
প্রতিবেদন অনুযায়ী পাঠ্যবই মুদ্রণের এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে রয়েছে কয়েকটি প্রভাবশালী মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
কর্ণফুলী আর্ট প্রেস
লেটার এন কালার
এ্যাপেক্স প্রিন্টিং অ্যান্ড কালার
সরকার প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিশিং
অগ্রণী প্রিন্টিং প্রেস
আনন্দ প্রিন্টার্স লিমিটেড
কচুয়া প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স
সীমান্ত প্রিন্টিং প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন
প্রমা প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স
ব্রাইট প্রিন্টিং প্রেস
কিছু কিছু প্রিন্টিং প্রেস কাগজের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তারা পেপার মিলের সঙ্গে আগাম চুক্তি করে বিপুল পরিমাণ কাগজ কিনে নিয়ে আসে এবং সব গুদামজাত করে রাখে।
বাজারে কৃত্রিম সংকট দেখানো হয়। এরপর দাম বাড়িয়ে দিয়ে ছোট ছাপাখানাগুলোকে বেশি দামে কাগজ কিনতে বাধ্য করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাগজ সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন মিন্টু মোল্লা, শেখ সিরাজ, দুলাল সরকার, ওমর ফারুক, মহসিন, রুবেল-রবিন, রাব্বানী জব্বার, দেওয়ান কবির প্রমুখ।
এছাড়াও দরপত্রে সিন্ডিকেটের কথাও বলা হয়।
