কুষ্টিয়া: মাদ্রাসা ধর্ম পড়ানোর জায়গা নয়, এটা এখন (মানুন বা না মানুন) হয়েছে ধর্ষণ আর বোমা, অস্ত্র তৈরির কারখানা। দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রায় প্রতিদিন মাদ্রাসায় এমন ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।
কোথাও কোথাও মা বাবারা হুমকির ভয়ে কাউকে কিছু জানাতে পারেন না।
এবার কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে (১০) ধর্ষণ করেন মাদ্রাসার সুপার।
ভুক্তভোগী শিশুটি আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি রয়েছে।
এই ঘটনায় সোমবার অভিযুক্ত মাওলানা সাইদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি উপজেলার জামিলাতুন্নেছা মহিলা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও প্রতিষ্ঠাতা।
উপজেলার বিভিন্ন মাদ্রাসায় ক্লাস নেন বলে জানতে পারা গেছে। তবে তিনি যে একজন ধর্ষক তা তো আর কেউ জানতো না।
গত রবিবার শিশুটির পরিবার ধর্ষণের বিষয়টি জানতে পেরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে।
ভুক্তভোগী শিশুটি গত ৮ মাস আগে জামিলাতুন্নেসা মহিলা মাদ্রাসায় ভর্তি হয়। সে অন্যান্য সহপাঠীর সঙ্গে সেখানেই থাকত।
দুইতলায় মাদ্রাসা আর নিচতলায় সাইদুর রহমান পরিবারসহ থাকতেন। এখানে পুরুষ শিক্ষক তিনি একাই।
রবিবার মাদ্রাসা ছুটি হওয়ার পর শিশুটির মা তাকে বাড়ি নিতে আসেন। কিন্তু হুজুরের স্ত্রী বলেন , শিশুটির জ্বর এসেছে।
শিশুটিকে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। অবস্থা ভীষণ সংকটাপন্ন দেখে ডাক্তাররা তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। বর্তমানে সে আইসিইউতে।
শিশুটির মা জানান, তার মেয়েকে ভর্তি করানোর সময় ওই মাদ্রাসায় ছাত্রী ছিল ৪০ থেকে ৪৫ জন। পর তা কমে ৭ জনে এসেছে। কান্নাজড়িত কন্ঠে তিনি বলেন, ‘আমি এর কঠিন বিচার চাই।’
শিশুটির বাবা বলেন, ‘আমি মূর্খ মানুষ, মেয়েকে কোরআন শেখানোর জন্য মাদ্রাসায় দিয়েছি। কিন্তু এমন সর্বনাশ কেন করল? এরা পশুর চেয়েও জঘন্য।’
ভেড়ামারা থানার ওসি মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান বলেন, ‘অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টির তদন্ত চলছে। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
