বগুড়া: ঈদের আগে ভীষণ বাজে একটা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নীলসাগর এক্সপ্রেসের যাত্রীদের অবস্থা খুবই খারাপ। দুমড়েমুচড়ে গেছে রেললাইন, ৯টি বগি।
ট্রেনটিতে তিল ধারণের জায়গা ছিলো না।তারও তো একটা ধারণক্ষমতার লিমিট আছে।ভেতরে গাদাগাদি, বাইরে ঝোলাঝুলি, উপরে টিকটকার। অবস্থা নেই ট্রেনগুলোর।

বগুড়ার সান্তাহার জংশনের অদূরে বাগবাড়ি এলাকায় নীলসাগর এক্সপ্রেসের নয়টি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সান্তাহার স্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার শহিদুল ইসলাম রঞ্জুকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এবং তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। রাতে বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সান্তাহার রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার খাদিজা খাতুন।
তিনি বলেন, ‘তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ বলা সম্ভব নয়। তবে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সহকারী স্টেশন মাস্টার শহিদুল ইসলাম রঞ্জুকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রম দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে।’
এই যে এতবড় দুর্ঘটনাটি ট্রেনের চালক সংকেত অমান্য করার কারণে ঘটেছে। এতগুলো মানুষ বিপদের মুখে পড়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সান্তাহার জংশন স্টেশনের অধীনে দায়িত্বে থাকা ওয়েম্যান সোহেল বিষয়টি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।
এদিকে, নওগাঁ সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মহসিন জানান, তাদের হাসপাতালে ৫০ জনের বেশি আহত যাত্রী চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ১৮ থেকে ২০ জনের হাত-পা ভাঙা ও মাথায় গুরুতর আঘাত রয়েছে। একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
সান্তাহার রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। একইসঙ্গে দ্রুত রেললাইন সচল করার কাজ চলছে।’
দুর্ঘটনার প্রাক্কালে প্রকৌশল বিভাগের লোকজন ব্যানার ফ্ল্যাগ ধরে ও কশান মেসেজ দিয়ে রেল চেঞ্জের কাজ করছিল। স্টেশন হতেও কশান অর্ডার দেয়া হয় । তা লোকো ড্রাইভার অনুসরণ না করায় ডিরেইলমেন্টের কারণ হিসাবে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার পর উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলা নীলফামারী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও জয়পুরহাটের সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।
