ঢাকা: মারা গেছেন মুহাম্মদ হাবিবুল্লা পাঠান।
হাবিবুল্লা পাঠান (জন্ম ৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৯) একজন বাংলাদেশি প্রত্ন সংগ্রাহক ও গবেষক।
নিভৃতচারী, আত্মপ্রচারবিমুখ, সত্যনিষ্ঠ, আদর্শবান, স্বশিক্ষিত ও সাদাসিধে একজন মানুষের নাম মুহাম্মদ হাবিবুল্লা পাঠান।
প্রত্নতত্ত্বে বিশেষ অবদানের জন্য ২০০৯ সালে বাংলা একাডেমি তাঁকে সম্মানসূচক ফেলোশিপ প্রদান করে।
ফোকলোর গবেষণায় অবদানের জন্য ২০২১ সালে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার অর্জন করেন।
উয়ারী-বটেশ্বরখ্যাত প্রত্নতত্ত্ববিদ, লোকসাহিত্য সংগ্রাহক মুহাম্মদ হাবিবুল্লা পাঠানের মৃত্যুতে শোকসন্তপ্ত দেশ।
আজ ঈদের দিন সকাল সাড়ে ১১টায় নরসিংদীর বেলাব উপজেলার বটেশ্বর গ্রামে নিজ বাড়িতে তিনি মারা যান।
মৃত্যুকালে হাবিবুল্লা পাঠানের বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। স্ত্রী, তিন মেয়ে, পাঁচ নাতি-নাতনিসহ তিনি অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন এই সংসারে।
জানা গেছে, হাবিবুল্লা পাঠান দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের ক্যানসারে ভুগছিলেন। এ ছাড়া বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগ ছিল তাঁর।
মুখে খাবার তুলতে পারতেন না তিনি। দেড় মাস আগে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে।
শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সম্প্রতি চিকিৎসকের পরামর্শে হাবিবুল্লা পাঠানকে বাড়িতে আনা হয়। অবশেষে আজ বেলা সাড়ে ১১টায় তাঁর মৃত্যু হয়।
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রবাদ সংগ্রহকারী হানিফ পাঠান। তিনিই প্রথম প্রত্নস্থান উয়ারী-বটেশ্বরকে জনসমক্ষে তুলে ধরেছিলেন।
মুহাম্মদ হাবিবুল্লা পাঠান ১৬ টি বই লিখেছেন।
বইগুলো হলো—
নরসিংদীর কবি সাহিত্যিক (১৯৮৬), নরসিংদীর লৌকিক খেলাধুলা (১৯৮৮), প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন: উয়ারী বটেশ্বর (১৯৮৯), বাংলাদেশের লোককাহিনী, ১ম খণ্ড, নরসিংদী (১৯৯৬), বাংলাদেশের লোককাহিনী, ২য় খণ্ড, নেত্রকোনা (১৯৯৭), বাংলাদেশের লোককাহিনী, ৩য় খণ্ড, ব্রাহ্মণবাড়িয়া (১৯৯৮), নরসিংদী ও গাজীপুরের লোকঐতিহ্য বিবাহ ও মেয়েলী ছড়া-গীত (২০০০), বাংলাদেশের প্রাচীনতম বন্দর নগরী উয়ারী বটেশ্বর (২০০৫), বাংলাদেশের ভাটকবি ও কবিতা, ১ম খণ্ড (২০১২), বাংলা প্রবাদে লোককাহিনী (২০১২), উয়ারী বটেশ্বর শেকড়ের সন্ধানে (২০১২), নরসিংদীর স্থাননাম উৎস ও বৈশিষ্ট্য সন্ধান (২০১৬), নরসিংদীর লোককবি (২০১৮), বাংলাদেশের লোকসাহিত্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ও মুক্তিযুদ্ধ (২০২০), সেকালের মাসিক পত্রিকা সবুজপল্লী (২০২২), বাংলাদেশের ভাটকবি ও কবিতা, ২য় খণ্ড (২০২২)।
