ঢাকা: প্রতিবার উৎসবমুখর ঈদের সময়টায় অধিকাংশ পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া।

দুর্ঘটনার কারণে আনন্দের ঈদ হয়ে ওঠে শোকের। তাই ঈদ এলে ঘরমুখো মানুষের মধ্যে নির্বিঘ্নে বাড়ি ফেরা নিয়ে উৎকণ্ঠা দেখা যায়। কারণ একটি দুর্ঘটনাই বয়ে আনে সারা জীবনের কান্না।

সড়ক ও মহাসড়কগুলো তো দৃশ্যত মরণফাঁদ হয়ে উঠেছে।

ঈদের আগে পরে, ঈদের সময় সাধারণত প্রত্যেকেরই তাড়াহুড়া থাকে। সেই তাড়াহুড়া করতে গিয়ে ঘটে একের পর এক দুর্ঘটনা।

এগুলো যদি থামানো না যায় তাহলে কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা কঠিন। চালকরা যেমন তাড়াহুড়া করে, বাসমালিকরাও বেশি আয়ের জন্য অতিরিক্ত ট্রিপ পরিচালনা করতে চালকদের প্ররোচিত করেন।

চালকরা ঈদের সময় নির্ঘুমভাবে গাড়ি চালায়। কোনো বিশ্রাম না নিয়ে একটার পর একটা ট্রিপে যেতেই থাকে যতক্ষণ যাত্রী পাওয়া যায়। এভাবে তো দুর্ঘটনা বাড়বেই।

অর্থের লোভে বাস মালিকরাও তাড়া দিতে থাকেন। পয়সার কথা ভেবে ট্রিপ বেশি পাওয়ার জন্য না ঘুমিয়ে চালক গাড়ি চালায়, তাহলে দুর্ঘটনা ঘটবেই।

বেশি ট্রিপ নেওয়া মূলত চালকদের অভ্যাস। তাই বাসমালিকরা যদি তাদের সুযোগ না দেয় তাহলে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

এবার হবিগঞ্জের মাধবপুরে বাস ও পিকআপ ভ্যানের সংঘর্ষে মর্মান্তিকভাবে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

রবিবার (২২ মার্চ) ভোরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে উপজেলার আন্দিউড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। নিহতদের মধ্যে তিনজন পুরুষ ও একজন নারী রয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোর ভোর সময় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আন্দিউড়া এলাকায় একটি পিকআপ ও একটি বাসের সংঘর্ষ হয়। এতে করে পিকআপটি উল্টে মহাসড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়।

সকাল ৯টার দিকে স্থানীয়রাই খাদে একটি পিকআপ উল্টে পড়ে থাকতে দেখে মাধবপুর থানা ও ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পিকআপের নিচে থেকে ৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *