ঢাকা: ভারত তো আজ থেকে বাংলাদেশকে সহায়তা করছে না। জন্মলগ্ন থেকে তথা বলতে হয় বাংলাদেশের জন্ম হতেই সহায়তা করেছে ভারত। এবং এখনো পর্যন্ত ভারত সহায়তা করেই চলেছে।

বাংলাদেশে থাকা বহু পাকিস্তানিরা অবশ্য বলে, মাগনা তো নিচ্ছি না, দাম দিয়ে নিচ্ছি। অবশ্যই দাম দিয়ে নিচ্ছেন, তাহলে অন্য দেশ থেকেও নিতে পারেন, নেন না কেন?

ইন্দিরা গান্ধীর প্রধানমন্ত্রিত্বে ও তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল স্যাম মানেক’ শ-এর সুযোগ্য নেতৃত্বে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পদাতিক, বায়ু ও নৌবিভাগ বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনীকে সাহায্য করেছিল পরাধীনতার যন্ত্রণা ভুলে মুক্তির আস্বাদ পেতে।

তবে এটা কিন্তু অনেকেই ভুলে গেছেন, যে শুধু সামরিক অস্ত্রশস্ত্র দিয়েই নয়, বাংলাদেশকে স্বাধীনতা পেতে ও তারপরেও অকাতরে অর্থ বিলিয়ে গেছে ভারত।

মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অস্ত্র কিনতে বা স্বাধীনতার পর নতুন রাষ্ট্রের পরিকাঠামো নির্মাণের জন্য বাংলাদেশকে যত টাকা দিয়েছে ভারত, বিশ্বের ইতিহাসে তেমন কোনও নজির নেই।

কোনও দেশ, কোনওদিন অন্য কোনও দেশকে এত টাকা অর্থ সাহায্য করেনি।

তবুও আজ যেরকম ভারত বিরোধিতা দেখা যায়, শিশুরা এই ছবির দেখেই বড় হচ্ছে যে আমাকে দেশপ্রেমী হতে হলে ভারত বিরোধি হতে হবে! কী নির্লজ্জতা! এই হচ্ছে শিক্ষা! ভারতের কাছে বাংলাদেশের চিরকাল কৃতজ্ঞ থাকার কথা। কিন্তু এদের ঔদ্ধত্য দেখলে লজ্জা হয়‌।

কোন খাতে বাংলাদেশ ভারতের ওপর নির্ভরশীল না বলতে পারেন? উজুর পানিটাও তো ভারত থেকে আসে। পানি না থাকলে উজু করতেন!?

পোশাক শিল্প বিশ্বের অন্যতম প্রধান রফতানিকারক হিসেবে বাংলাদেশে পরিণত হলেও, সেই শিল্পকে কাজ চালিয়ে রাখতে মূল কাঁচামাল ভারত থেকে আসে।

তুলো ও সুতো বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে ব্যবহৃত হয়, যা বিশ্বের বহু দেশে রফতানির জন্য প্রস্তুত করা হয়।

এই ধরনের শিল্প কাঁচামালের পাশাপাশিই যন্ত্রপাতি, গাড়ি ও মেশিনারি বাংলাদেশে ভারত থেকে আসে।

নির্মাণ শিল্প, কৃষি, পরিবহন ও অন্যান্য খাতে ব্যবহৃত ট্রাক, বাস, মোটরসাইকেল এবং ভারী মেশিনগুলো ভারতের বাজার থেকে আমদানি হয়, কারণ ভারত থেকে এসব সরঞ্জাম তুলনামূলক কম দামে এবং দ্রুত সরবরাহযোগ্য।

জ্বালানি খাতেও বাংলাদেশ ভারতের ওপর নির্ভর। ভারত বাংলাদেশের বড় সরবরাহকারী।

পিঁয়াজ থেকে শুরু করে আরো তো আছেই। কিন্তু তারপরেও শুনবেন, দিল্লি না ঢাকা! হাহাহা!

আর এই গত এক যুগে বাংলাদেশকে মোট ৬.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের আর্থিক সহায়তা দিয়েছে ভারত বাংলাদেশকে।

কোনো পাকিস্তান দেয়নি সহায়তা! সহোদর হয়েছে আজ পাকিস্তান।

সহায়তার হিসাবটা জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং।শুক্রবার ভারতের লোকসভায় এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে তিনি এই তথ্য জানান।

লোকসভার সদস্য টি. আর. বালু ২০১৪ সাল থেকে বাংলাদেশে ভারতের আর্থিক সহায়তার বিস্তারিত জানতে চাইলে তার জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, প্রতিবেশী ও জনগণকেন্দ্রিক নীতির ভিত্তিতে ভারত বাংলাদেশে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।

তিনি জানান, এই সহায়তার মধ্যে দুটি বড় ‘লাইন অব ক্রেডিট’সহ বিভিন্ন প্রকল্পভিত্তিক অনুদান রয়েছে। এবং এর পাশাপাশি মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ ত্রাণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়ন কর্মসূচিতেও ভারত সহযোগিতা করছে।

প্রতিমন্ত্রী দুই দেশের সম্পর্কের কথাও বলেন। তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারত ও বাংলাদেশের গভীর ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক, সাংস্কৃতিক, ভাষাগত ও সামাজিক সম্পর্ক রয়েছে।

তিনি একটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের প্রতি ভারতের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

আলোচনায় বাংলাদেশি পণ্য তৃতীয় দেশে রপ্তানির ক্ষেত্রে ভারতের বন্দর ব্যবহারের সুবিধা বাতিলের বিষয়টিও উঠে আসে। এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অতীতে এ সুবিধা দেওয়ার সময় ভারতের নিজস্ব রপ্তানির তুলনায় বাংলাদেশি পণ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়নি।

এই নীতিতে পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি প্রাসঙ্গিক সব দিক বিবেচনা করে দেখা হবে।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক তিক্ত হয়েছে কি না,এমন প্রশ্নের জবাবে কীর্তি বর্ধন সিং বলেন, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *