একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী জামায়াতে ইসলামী সেই পাকিস্তান আমল থেকেই যে এ দেশের সাধারণ মানুষের অধিকার আন্দোলনের বিরোধিতা শুরু করেছিল তা কিন্তু এখনো অব্যাহত আছে।
এই দলটি সবসময়েই অসাম্প্রদায়িক-বাঙ্গালী সাংস্কৃতিক চেতনায় উজ্জীবিত ধর্মনিরপেক্ষ জাতিসত্ত্বার বিরোধী। এরা কখনোই বাংলাদেশকে এই চেতনায় দেখতে পারেনা।
ইসলামকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেই এরা তাদের রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করেছে। সে প্রক্রিয়া এখনো অব্যাহত। ইসলামের নামে সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দিয়েছে এবং দিচ্ছে এখনো।
শুধু বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নয় বিশ্ব রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও জামায়াতে ইসলামীকে একটি সন্ত্রাসী ইসলামিক দল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে।
তবে শুধু দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী নয়, জামায়াত বাংলাদেশে নানা ফ্রন্ট খুলে রেখেছে তাদের রাজনৈতিক অবস্থানকে টিকিয়ে রাখতে। বিভিন্ন নামে এরা বাংলাদেশে বিভিন্ন সংগঠন ও রাজনৈতিক দল তৈরি করেছে।
এর মধ্যে চরম উগ্রবাদী সন্ত্রাসী সংগঠনও যেমন রয়েছে তেমনি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের নামেও কিছু সংগঠন তৈরি করেছে এই চরম সুবিধেবাদী জামায়াতে ইসলামী।
সাম্প্রতিক বাংলাদেশে বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামের নামে যেসব রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন, পেশাজীবী-সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনকে দেখেছি আমরা এদের অনেকেই মূলত জামায়াতের সৃষ্ট।

কিন্তু জামায়াত এবং সেসব সংগঠনগুলো বলবে- জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে তাদের নিকটতম বা দূরতম কোন সম্পৃক্ততা নেই। বিভিন্ন এনজিও, কোচিং সেন্টার, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়, ক্লিনিক, ডায়াগোনস্টিক সেন্টার, ব্যাংক-বীমা, ল্যান্ড ডেভেলপিং প্রতিষ্ঠান মানে রিয়েল এস্টেট ব্যবসাসহ হেন কোন প্রতিষ্ঠান বা সংগঠন নেই যেসব ক্ষেত্রে জামায়াতের সংশ্লিষ্টতা নেই।
গত চব্বিশের জুলাই-আগষ্টে সেই যে কথিত ‘কোটা বিরোধী আন্দোলন’ এটির পেছনেও জামায়াত ও তাদের সহযোগী বিভিন্ন ইসলামী দল ও ছাত্র সংগঠনের সংগঠকরাই কাজ করেছিল অত্যন্ত গোপনে। এরা প্রথমদিকে নিজেদের পরিচয় গোপন রেখেছিল।
কিন্তু আওয়ামীলীগ সভানেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঠিকই বুঝেছিলেন যে এসব কথিত আন্দোলনের পেছনে কোন কোন অপশক্তি জড়িত ছিল। তিনি যখন সেই কথিত ছাত্র আন্দোলনের পেছনে রাজাকারের নাতিপুতিদের আস্ফালন ও ষড়যন্ত্র বলেছিলেন তখনই কিন্তু এরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথাকে বিকৃত করে তা নিয়ে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রী ও সাধারণ মানুষকে ক্ষেপিয়ে তুলেছিল।
তবে এই কথিত আন্দোলনের সঙ্গে যে শুধু যে জামায়াতে ইসলামী ও অন্য চরমপন্থী ইসলামী দলগুলো জড়িত ছিল তা কিন্তু নয়। তাদের ফাঁদে এদেশের কথিত বামপন্থী ও ‘সুশীল’ রাও যোগ দিয়েছিল।
এসব বামপন্থীরা এখন তাদের সেই ভুল বুঝতে পেরেছে ঠিকই। কিন্তু তারা আওয়ামী বিরোধিতা ও শেখ হাসিনা বিরোধিতাকেই তাদের রাজনীতির একমাত্র পুঁজি হিসেবে বেছে নিয়েছে। অথচ এই বাম দলগুলো নিজেদেরকে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের দল হিসেবে দাবি করে আসছে।
ফলে গত চব্বিশের জুলাই-আগষ্টের কথিত গণ আন্দোলনে সাধারণ মানুষ চরমভাবে বিভ্রান্ত ও প্রতারিত হয়েছে। এটি যে মূলত ‘আমেরিকার ডিপষ্টেট থিওরি’ ও শান্তিতে নোবেল কিনে নেয়া ড. ইউনুসের ‘মেটিকুলাস ডিজাইনের’ অংশ ছিল তা বুঝতে অনেক দেরি করেছে। আর যখন বুঝেছে তখন দেশের বারোটা বেজে গেছে।
সুতরাং দেশকে রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক-অর্থনৈতিক ও পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে পুরোপুরি অকেজো ও পঙ্গু করে ফেলা হয়েছে। তো এর দায় অবশ্যই এই কথিত গণ আন্দোলন বা গণ অভ্যুত্থানে জড়িত সকল রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন সেক্টরের যারা যারা জড়িত ছিল তাদের।
এই জামায়াতী ও বামাতী কেউই কিন্তু এর দায় থেকে মুক্তি পেতে পারেনা।
অতি সম্প্রতি আমেরিকায় তাদের আইন সভায় বাংলাদেশে ১৯৭১ এ হিন্দুদের ওপর মুক্তিযুদ্ধবিরোধী জামায়াতে ইসলামীর সহায়তায় পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর হত্যাযজ্ঞকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যা দেয়ার দাবি উত্থাপিত হয়েছে।

আমেরিকান কংগ্রেসে প্রস্তাবটি পাস হলে একাত্তরের ঘাতক হিসেবে চিহ্নিত জামায়াতে ইসলামীকে যুক্তরাষ্ট্র আবারো নিষিদ্ধ করবে।”—এমন দাবি ও প্রত্যাশা করছেন অনেকে।

এই যে এতক্ষণ জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে কথা বললাম সে দলটির প্রতিষ্ঠাতা মওদুদী কিন্তু পাকিস্তানে তেমন সুবিধে করতে পারেননি রাজনৈতিকভাবে। এমনকি সেই মওদুদীর পুত্রও কিন্তু তার পিতার রাজনৈতিক নীতি-নৈতিকতার চরম বিরোধীতা করেছেন।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে যে সব সংবাদ ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে তাতে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া যায়। যা বিশ্লেষণ করলে জামায়াতের জারিজুরি বের হয়ে পড়ে।
জামাতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ আবুল আলা মওদুদীর ছেলে সৈয়দ হায়দার ফারুক মওদুদী বলেছেন, ‘জামাত পাকিস্তান না চাইলেও পাকিস্তান সৃষ্টির পর মওদুদী বললেন, আমি (মওদুদী), জিন্নাহ আর ইকবাল মিলেই তো পাকিস্তান বানালাম।’
হায়দার ফারুক বলেছেন- “জামাত বাংলাদেশের শুধু বিরোধিতাই করেনি, এখানে গণহত্যায় অংশ নিয়েছে। জন্ম-পরিচয়হীন সন্তানের যেমন সম্পত্তিতে কোনো অধিকার থাকে না, জামাতেরও এ দেশে রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই”!
তাই ইসলাম রক্ষায় জামাত হেফাজতের মতো কোনো দলের প্রয়োজন নেই।
কয়েকবছর আগে ঢাকায় ‘ধর্ম ও রাজনীতি: দক্ষিণ এশিয়া’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশ নিতে এসে বিভিন্ন গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেছিলেন।
পাকিস্তানের লাহোরে জন্ম নেয়া হায়দার ফারুক মওদুদী জামাতের ধর্মভিত্তিক রাজনীতির অসাড়তা তুলে ধরে বলেন, আমার বাবা তার সন্তানদের, মানে আমাদের কাউকেই ধর্মভিত্তিক রাজনীতি কিংবা জামাতের রাজনীতি করতে বলেননি।
তিনি আমাদের ৯ ভাইবোনকে পড়াশোনা করিয়েছেন দেশের বাইরে। আমার ভাইবোনদের প্রত্যেকেই দেশে-বিদেশে বিভিন্ন পেশায় খুব ভালো অবস্থানে আছে। তিনি বলেন, বাবা আমাদের জামাত এবং জমিয়ত উভয় দল থেকে দূরে সরিয়ে রাখতেন।
বিষয়টিকে তিনি মাদক ব্যবসার সঙ্গে তুলনা করে বলেন, একজন মাদক ব্যবসায়ী যেমন চায় না তার সন্তানরা কেউ মাদক সেবন করুক, তেমনি বাবাও আমাদের জামায়াতের কর্মকান্ড থেকে দূরে রাখতেন।
তিনি আরো বলেছেন—“এমনকি দূর থেকে দাঁড়িয়ে যদি কখনো আমাদের ভাইবোনরা জামাতের সমাবেশ দেখতে চাইতাম কিংবা দেখতাম, তাও দেখতে দিতেন না। জামাত রাজনৈতিক দল, ফ্যাসিস্টদের দল। এ দলে আমিরের অবস্থা হচ্ছে সেনাপ্রধানের মতো। তাকে চ্যালেঞ্জ করা যাবে না।
হায়দার ফারুক মওদুদী ১৯৭১ সালে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের বিচার সম্পর্কে বলেন, ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ করায় কাউকে ছাড় দেয়া উচিত নয়। সবাইকে বিচারের মুখোমুখি করা উচিত। আইনের চোখে অপরাধী হলে সবার সাজা হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, ১৯৪৭ সালে জামাত পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছে। ১৯৭১ সালে তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে। এ অপরাধেই ২ রাষ্ট্রে জামাতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা দরকার”।
তাহলে নিশ্চয়ই পাঠকদের বুঝতে কষ্ট হওয়ার কথা নয় সত্যিকারভাবে জামায়াতে ইসলামী কি জিনিস!
এই যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যা পরে এনসিপি নামক একটি জঙ্গী তরুণদের রাজনৈতিক দল হিসেবে দাঁড়িয়েছে এটিও জামায়াতেরই একটি নতুন ফ্রন্ট। যার ফলে গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ ইলেকশনে এরা সেই জামায়াতের জোটেই একীভূত হয়ে গেছে।

এই যে কতগুলো অসভ্য-বেয়াদপ-বর্বর তরুণ-তরুণীদের সংগঠন “ ইনকিলাব মঞ্চ” তৈরী হলো এটি কাদের ইঙ্গিতে ও সহায়তায় তৈরী হলো? এটিও সেই নাটের গুরু জামায়াতে ইসলামীরই ঔরসজাত সন্তান।
এদের সভা সমাবেশের পেছনে যে টাকা খরচ হয় ও জনবল যোগান দেয়া সবই কিন্তু জামায়াত-শিবির করেছে। কিন্তু তারা কখনোই আনুষ্ঠানিকভাবে তা স্বীকার করবেনা।

ওই যে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ছিল ওসমান হাদি যে তার অশ্রাব্য ভাষা ও শ্লোগানের জন্য অতি অল্প সময়েই এদেশের ইসলাম পছন্দ ও ভারত বিরোধী শক্তির কাছে দ্রুত সস্তা জনপ্রিয়তা পেয়েছিল সেই অসভ্যটিকেও জন্ম দিয়েছিল জামায়াতে ইসলামী।
শুধু জন্ম নয় তাকে দিয়ে ভারত,আওয়ামীলীগ, মুক্তিযুদ্ধ, একাত্তর, স্বাধীনতাবিরোধীসহ হিন্দুদের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালিয়েছে।
বিএনপি গত ১২ ফেব্রুয়ারি ইলেকশনের আগে যখন জামায়াতে ইসলামীর মুক্তিযুদ্ধ বিরোধিতা, একাত্তরে তাদের ঘৃণ্য গণহত্যাসহ নানা অপকর্মের কথা প্রকাশ করছিল তখনই তারা বিএনপি’র বিরুদ্ধে এই ইনকিলাব মঞ্চকে ব্যবহার করেছে।
বিএনপির বিরুদ্ধে ও ভারতের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা ছড়াতে এই জামায়াতে ইসলামী কিন্তু বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ করে তাদের তৈরী ওসমান হাদীকে অত্যন্ত কৌশলে খুন করাতে দ্বিধা করেনি।
খুন করানোর নানাভাবে প্রচার চালিয়েছে যে আওয়ামীলীগ তাকে খুন করেছে। আবার কখনো বলেছে- বিএনপির নেতারা তাকে খুন করিয়েছে.. এসব আর কি! তাদের এসব প্রচার-প্রপাগান্ডা ছড়ানোর জন্য নানা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মিডিয়া সবসময়েই তৈরি ছিল। এখনো সেসব মিডিয়া রয়েছে এধরনের অপপ্রচার করার জন্য।
সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো হাদী হত্যাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও তাদের নেতা মীর্জা আব্বাস ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে এত অপপ্রচার করলো এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামী।
কিন্তু আবার সেই বিএনপি ও বিএনপি’র নেতারাই কিন্তু হাদীকে তাদের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের জন্য তার কবরে গিয়ে মায়া কান্না করেছে হাদী হত্যার পরে। একেই বলে বোধ হয় রাজনীতির খেল!!
এর মধ্যে ওসমান হাদী হত্যায় অভিযুক্ত দুইজনকে ভারতের বনগাঁ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে সেদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এরপর তারা সেখানকার পুলিশ ও সাংবাদিকদের কাছে যেসব তথ্য দিয়েছে তাতে দেখা গেছে যে, এই হত্যাকান্ডের সঙ্গে জামায়াত ও এনসিপির কিছু নেতা জড়িত। এত করে পিলে চমকে যায় এই দুটি দলের ষড়যন্ত্রকারি নেতাদের।

উগ্র চরমপন্থী জঙ্গি জামাতে ঔরসে যাদের জন্ম সেই ‘ ইনকিলাব মঞ্চের নেতা হাদিকে হত্যা করে নির্বাচন পন্ড করতে চেয়েছিল, তাদের ঘাম ছুটছে অভিযুক্ত ও গ্রেপ্তার হওয়া ফয়সালের এক কথাতেই।
এরই মধ্যে ইনকিলাব মঞ্চ আতঙ্কে ছয় দফা দাবিও ঘোষণা করে ফেলেছে ২২ মার্চ রবিবার মধ্যরাতেই। তাদের ফেসবুক পেজে এই ঘোষণা আসে। এই জঙ্গী ইনকিলাব মঞ্চের দাবি হাদির বিচার বদ্ধ ঘরে হবে না!! এ যেন মামাবাড়ির আবদার !! ভাবুনতো একবার?
বিচার নাকি বন্ধ ঘরে না হয়ে উন্মুক্ত হতে হবে এবং তা সরাসরি সম্প্রচার করতে হবে। তারমানে তারা সেই বিচার চলাকালেই আবার একটি মব সন্ত্রাস করতে চায় দেশের বিচার ব্যবস্থার বিরুদ্ধে।
বোঝাই যাচ্ছে যে, এই অপশক্তি প্রচন্ডভাবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। জামাতের কথা ইতিমধ্যে যেহেতু চলে এসেছে এখন কারা কারা হত্যায় জড়িত সেটাও চলে আসবে।
তাই যেভাবে হোক ফয়সালকে দেশে নিয়ে আসতে হবে। দেশে আনলে আর কিসের বিচার। তারপর আরেকটা নাটক করবে তারা সে চক্রান্তই করছে।
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরের সই করা বিবৃতিতে জাতির কাছে ৬ দফা দাবি তুলে ধরেছে এই জঙ্গী সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চ।
তারা বলছে-‘আসামি গ্রেফতারের খবর যখন এসেছিল তখন সেটিকে সরকারের সাফল্য হিসেবে উদযাপন করা হয়েছিল, কিন্তু এখন বাস্তবতা ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে।’
ইনকিলাব মঞ্চ জাতির সামনে যে ৬ দফা দাবি উপস্থাপন করেছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বড় দাবি হলো আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনা।
সংগঠনটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এখনই তৎপর হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, ‘এটি কোনো অনুরোধ নয়, বরং জনগণের পক্ষ থেকে সরাসরি আল্টিমেটাম’।
হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা মাস্টারমাইন্ডদের আড়াল করার যেকোনো চেষ্টার বিরুদ্ধেও কড়া অবস্থান নিয়েছে সংগঠনটি। তারা দাবি করেছে, ‘অবিলম্বে উচ্চপর্যায়ের একটি নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে’।
আসামিরা কীভাবে সীমান্ত অতিক্রম করল এবং এতে গোয়েন্দা সংস্থা বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্য জড়িত ছিলেন কি না, কিংবা স্থানীয় কোনো প্রভাবশালী মহল সহায়তা করেছে কি না, তা দ্রুত তদন্ত করে জনসমক্ষে প্রকাশের দাবিও জানানো হয়েছে।
আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে আসামিদের দেশে ফেরানোর বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি বা রোডম্যাপ ঘোষণা না করা হলে ঢাকাসহ সারা দেশে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ।
সংগঠনটি বলেছে, ‘রাজপথ থেকে জন্ম নেওয়া এই সংগঠন শহীদের রক্তের সাথে আপস করে না।’
কিন্তু প্রশ্ন হলো হাদী হত্যার সময়তো এই ইনকিলাব মঞ্চের পেয়ারে সরকার মানে ইউনুসের সরকার ক্ষমতায় ছিল। এখনো তো বিএনপি সরকার ক্ষমতায়, যারা এই হাদী হত্যার বিচারের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের সাথে একাত্ম হয়ে আন্দোলন করেছে।
এই যে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী ঘাতক রাজাকার-আলবদরের দল জামায়াতে ইসলামীর এত এত ফ্রন্ট রয়েছে দেশে তা কি বিএনপি জানেনা? জানে নিশ্চয়ই।

কিন্তু কোন কারণে তারাও হয়তো এদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। অথবা ভাবছে বিএনপির রাজনীতিওতো আওয়ামী বিরোধিতা ও ভারত বিরোধিতা।
কিন্তু এখনকার প্রেক্ষাপটে বিএনপি সরাসরি যেহেতু ভারত বিরোধিতা করতে পারছেনা তাই তারাও এসব ফ্রন্ট রাখতে চাইছে যারা আওয়ামী বিরোধিতার পাশাপাশি ভারত বিরোধিতার জিগির তুলতে পারে।
এটাই মূলত বাংলাদেশের এখনকার রাজনৈতিক কৌশল ক্ষমতায় টিকে থাকার।
# নুরুল ইসলাম আনসারি: লেখক, প্রাবন্ধিক।
