ঢাকা: রুমিন ফারহানা বরাবরই ভীষণ কাঠখোট্টা জবাব দিতেই পছন্দ করেন। যুক্তি ছাড়া কথা বলেন না।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের আংশিক) থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

তিনি হাঁস প্রতীকে মোট ভোট পেয়েছেন ৫০ হাজার ৫৭৯। এ আসনে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ও বিএনপি জোটের প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব (খেজুরগাছ প্রতীক) পেয়েছেন ৩২ হাজার ৫৭৯ ভোট।

এবং রুমিন ফারহানা দ্বিতীয়বারের মতো সংসদে যোগ দিয়েছেন। তবে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে এবারই তাঁর প্রথম সংসদে যাওয়া।

রুমিন ফারহানা সব সময়ই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও টেলিভিশন টকশোতে ভীষণ সরব। এটি তাকে ভিন্ন পরিচিতি এনে দিয়েছে।

রুমিন ফারহানা জেতার পর তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন লেখক তসলিমা নাসরিন।

তবে তিনি যে মাথায় ঘোমটা পরা ছিলেন এই বিষয়টিকে নিন্দা করেন তসলিমা।

ফেসবুকে নাসরিন লিখেছিলেন, ‘তিনি স্বতন্ত্রে দাঁড়িয়ে জিতে এসেছেন। কিন্তু এতকাল তো তাঁর সুন্দর রেশমি চুল দেখেছি, এখন হঠাত মাথায় ঘোমটা পরেছেন কেন?

ধর্মান্ধদের সঙ্গে আপোস করার কী দরকার?যেমন ছিলেন, তেমন থাকুন। তেমন নির্ভীক, সাহসী। ঘোমটা হলো নতিস্বীকার করা, এটি ক্রমশ আপনাকে অন্ধকারের দিকে নামাতে থাকবে।

ঘোমটা থেকে হিজাব, হিজাব থেকে বোরখা, বোরখা থেকে নিকাব। এরপর অবয়ব বলে কিছু থাকবে না, এরপর অস্তিত্ব বলেও আর কিছু থাকবে না। নারীরা এভাবেই সমাজ থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে’।

অবশ্য এবার তাঁর প্রশংসা করলেন তসলিমা নাসরিন। বিষয়টা রান্না নিয়ে।

তসলিমা নাসরিন তাঁর ভেরিফাইড ফেসবুকে লিখেছেন:

‘রুমিন ফারহানা বাংলাদেশের একজন সংসদ সদস্য। কিছুদিন আগে এক সাংবাদিক তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। প্রশ্ন করেছেন, রান্না করেন?

মেয়েদের সঙ্গে, তাঁরা বিশ্বাস করেন , কিচেনের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক। সাধারণত যে প্রফেশনই মেয়েদের হোক না কেন, তাঁরা বলেন, তাঁরা রান্না করতে খুব ভালবাসেন। তারপর কী কী রান্না তাঁরা খুব ভাল করেন, তাঁরও লিস্ট দেন।

কিন্তু গোটা সমাজের মাইন্ডসেটকে চমকে দিয়ে রুমিন ফারহানা বলেছেন, তিনি রান্না করতে জানেন না, এবং মোটেও রান্না করেন না। বরং ইন্টেলেকচুয়াল ব্যাপারস্যাপারে তাঁর আগ্রহ’।

তসলিমা এবারে নিজের কথা বলেন। তিনি লেখেন, ‘আমার ডকুমেন্টারি করতে এসেও কত সাংবাদিক বলেছেন, কিচেনে কিছু একটা রান্না করছি আমি, তার শট নিতে চান তাঁরা।

আমি জিজ্ঞেস করেছি, কোনও পুরুষ-লেখকের ডকুমেন্টারি করতে গেলে শট নেওয়ার জন্য তাঁরা কি পুরুষ-লেখককে অনুরোধ করেন রান্নাঘরে কিছু একটা রান্না করতে?

তাঁরাই উত্তর দেন, না, তাঁরা পুরুষ-লেখকদের এই অনুরোধ করেন না। তাহলে, আমি বলি, আমি লিখছি, পড়ছি, রাজনীতি, সমাজ, শিল্প সাহিত্য ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করছি, এটিই সাধারণত আমি করি, দেখাতে হলে এই চিত্রই দেখান।

এভাবেই সমাজের মাইন্ডসেট বদলাতে চেষ্টা করি। মানুষ গভীরভাবে বিশ্বাস করে, মেয়ে মানেই, সে ডাক্তার হোক, বৈমানিক হোক, ইঞ্জিনিয়ার হোক, দার্শনিক হোক, লেখক হোক, শিল্পী হোক, রান্নাঘরে রান্না করবে, ঘরবাড়ি সামলাবে, বাচ্চাকাচ্চা লালন পালন করবে, এইসব ”জরুরি” কাজ সারার পর অবসরে করবে লেখালেখি, ডাক্তারি, চাকরিবাকরি ইত্যাদি।

রান্নাকে আমি আন্ডারএস্টিমেট করছি না। এটিকে রন্ধনশিল্প বলি। শুধু চাই এটির সঙ্গে নারীর যে কোনও নাড়ির সম্পর্ক নেই, তা মানুষ জানুক। এই শিল্পটির সঙ্গে জেন্ডারের নয়, সম্পর্ক আছে যাঁরা এই শিল্পকে ভালোবাসেন, তাঁদের’।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *