ঢাকা: ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড চারপাশে। তেল ছাড়া জনগণ চলবে কীভাবে? একটা জিনিসের অভাব হলে তখন বোঝা যায় জিনিসটা কত প্রয়োজনীয় ছিলো!

রাজধানীর পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেলের হাহাকার অবস্থা বিরাজ করছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল থেকেই বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশনে তেলের জন্য গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।

তবে মিলছে না জ্বালানি। ডিপো থেকে তেল আসার কোনো সুনির্দিষ্ট সময় বলতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। একের পর এক পাম্পে ঘুরছে মানুষ, কিন্তু ঝুলছে ‘তেল নেই’ লেখা সাইনবোর্ড।

কিন্তু তারপরেও সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিগণ বকবক করেই যাচ্ছেন তেলের সংকট নেই, যেই পাম্পে তেল নেই ফোন দিলে মন্ত্রী তেল পৌঁছে দেবেন ইত্যাদি যত আজেবাজে কথা আছে সব।

দেশে জ্বালানি তেলের কোনও সংকট নেই বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

তিনি বলেন, “সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে এবং সবাই তেল পাবে। ঈদের কারণে দু’দিন সরবরাহ বন্ধ থাকায় সাময়িক চাপ তৈরি হলেও তা স্থায়ী কোনও সংকট নয়।”সবাইকে ‘প্যানিক’ বা আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “ভর্তুকি দিয়েও গত বছরের তুলনায় পাঁচ শতাংশ বেশি তেল আমদানি করা হচ্ছে।”

শেখ হাসিনার বরাতে আমরা জানি পেট্টোল, অকটেন দেশেই উত্তোলন হয়, তাহলে যা আমদানি হয়না যুদ্ধের কারণে তার সংকট হওয়ার কথা নয়। সরকারও তাই বলছে।

তাহলে এই কৃত্রিম সংকট কেনো? তদন্ত করে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে সংকট আরো ঘনীভূত হবে।

যুদ্ধের কারণে পুরো বিশ্বে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও কোথাও তেলের সংকট দেখা যায়নি। কেননা প্রত্যেক দেশই একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত জ্বালানি মজুত করে রাখে। ব্যতিক্রম বাংলাদেশ।

এখানে যুদ্ধের শুরুর দিন থেকেই তেল সংকট। পাম্পে তেল নেই, কিন্তু মফঃস্বলের ছোট ছোট ডিপো এবং মুদি দোকানগুলোতে তেল পাওয়া যাচ্ছে!

তেল কারা লুট করছে? সরকার কি কিছুই জানে না?

শেখ হাসিনার সময় বহু যুদ্ধ বিগ্রহ ঘটেছে। কিন্তু কোনোদিন কোনোকিছুর সংকট দেখা যায়নি। পেঁয়াজ ৩০০ টাকা পর্যন্ত কেজি হয়েছিলো কিন্তু বাজার থেকে উধাও হয়নি। দাম বাড়লেও পাওয়া গেছে।

মানুষ চলতে পেরেছে হাসিনার সময়। এখন তো জীবনধারণ করাই কষ্ট হয়ে গেছে। জীবনটা বাঁচানোই কষ্ট।

লুটেরার দল ক্ষমতায় এসেই সবকিছু একেবারে গিলে ফেলেছে। আগামিতে এই সংকট আরো বড় আকার ধারণ করবে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *