ঢাকা: আসিফ আকবর একদম নামকরা ব্যক্তি। যে তিন আসিফের জন্য বাংলাদেশ ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেয়নি সেই তিন আসিফের মধ্যে একজন এই আসিফ আকবর।
আসিফ আকবরের অতীত কে না জানেন?
অতীতে গান চুরি ও মাদক মামলায় জেলে গিয়েছিলেন আসিফ আকবর। সেই তিনিই আবার ক্রিকেটে ভদ্রতা শেখাচ্ছেন।
ক্রিকেটারদের তোপ দাগেন। সাংবাদিকদের আক্রমণ করেন।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বিগত সরকারের আমলে দায়ের করা বিদেশি মদ নিজের হেফাজতে রাখার মামলায় অবশেষে কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর খালাস পান।
২০১৮ সালের ৬ জুন তেজগাঁও থানার অন্তর্ভুক্ত পান্থপথের আর্ব এন্টারটেইনমেন্টের অফিস থেকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের একটি মামলায় কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবরকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের সময় আসিফ আকবরের অফিস কক্ষে চার বোতল অবৈধ টাকিলা মদ পাওয়া যায়। মদ পাওয়ার পর তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য মাদকদ্রব্য অধিদফতরে পাঠানো হয়।
লাইসেন্স ছাড়া বিদেশি মদ নিজের দখলে রাখায় অভিযোগে ২০১৯ সালের ২৩ জুলাই সিআইডি পুলিশের সাইবার তদন্ত শাখার উপ-পরিদর্শক প্রশান্ত কুমার সিকদার রাজধানীর তেজগাঁও থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
যাই হোক, এহেন ম্যাটিকুলাস ডিজাইনে বিসিবি পরিচালক হওয়া আসিফ আকবরের বিরুদ্ধে জিডি হয়েছে থানায়। বড়সড় ব্যক্তি তো, থানা, আদালত তাদের ছাড়ে না।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক হওয়ার পর থেকে নানান বিতর্কিত মন্তব্য করে আলোচনায় ছিলেন আসিফ আকবর। এবার আইনি বিতর্কে জড়িয়ে যাচ্ছেন তিনি।
আসিফ আকবরের বিরুদ্ধে ব্যবসায়িক লেনদেনের বড় অঙ্কের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
পাওনা টাকা ফেরত দেননি তিনি। অভিযোগ এমনটাই। টাকা না দিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে তালবাহানা করার অভিযোগে মো. সালাহউদ্দিন ভূঞা নামের এক ব্যবসায়ী রমনা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
জিডির তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ মার্চ ২০১৬ তারিখে দুপুর ১২টার দিকে আসিফ আকবরের ব্যবসায়িক অনুরোধে একটি বড় লেনদেন সম্পন্ন হয়।
সালাহউদ্দিন ভূঞা জানান, ডা. কাজী মাজহারুল ইসলাম এবং পিজি হাসপাতালের অ্যানেস্থেসিয়া বিভাগের প্রধান ডা. শাকিল আহমেদের উপস্থিতিতে আসিফ আকবরকে মোট ২ কোটি ৯০ লাখ ৬৫ হাজার টাকা দেয়া হয়।
এই অর্থের একটি অংশ আসিফ আকবরের স্ত্রী সালমা আসিফের ডাচ-বাংলা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এবং বাকি টাকা সরাসরি নগদে দেওয়া হয়েছিল।
অভিযোগকারী সালাহউদ্দিন ভূঞার দাবি, লেনদেনের পর আসিফ আকবর তাঁকে মাত্র ৩৯ লাখ টাকা ফেরত দিয়েছেন।
বাকি ২ কোটি ৫১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেননি। পাওনা টাকা ফেরত চাইলেও কাজ হয়না।
আসিফ আকবর সময়ক্ষেপণ ও তালবাহানা করছেন বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
রমনা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর করা এই আবেদনে ডিউটি অফিসার হিসেবে আবু হানিফ স্বাক্ষর করেছেন।
ডায়েরি সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এসআই (নিরস্ত্র) প্রদীপ চন্দ্র রায় ও মোহাম্মদ রাহাত খানকে।
