ঢাকা: আজ ২৫ শে মার্চ। সেই অমাবস্যার মতো কালোরাত। রক্তে ভেসে যাওয়া রাত।
কিন্তু ২৫ মার্চ কালরাত স্মরণে ‘ব্ল্যাক আউট’ কর্মসূচি ‘হবে না’ বিএনপির আমলেও।
ইউনুস সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সবকিছু অবহেলা করা হয়েছে। ধানমন্ডি ৩২ এ আগুন, ভাঙচুর, হাতুড়ির ঘা পড়েছে। ভাঙা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য, শুধু তাই নয় জাতির পিতার মাথায় বসে প্রশ্রাব করেছে পাকিস্তানি রাজাকারেরা।
তবে বর্তমান সরকারও কিন্তু মুক্তিযুদ্ধবিরোধী। যুদ্ধ কালীন পরিস্থিতির অজুহাতে আলোকসজ্জা বন্ধ রেখেছে।
কিন্তু গণহত্যার রাতটি স্মরণ করে এক মিনিটের নিষ্প্রদীপ কর্মসূচি বন্ধ করলো কেন? এতেও তো একদিকে থেকে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়!
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হত্যাযজ্ঞের ভয়াল রাতটিকে আলো নিভিয়ে বেশ কয়েকবছর থেকে স্মরণ করে আসছে বাংলাদেশ।
কিন্তু এই বিএনপি সরকার কর্মসূচি ঘোষণা দেয়ার পরেও কোন অদৃশ্যশক্তির কাছে মাথানত করলো?
সেই শক্তি কি আসলেই অদৃশ্য? পাকিস্তান দিবস হলোড় সরকার কিছু বললো না। বাউল আসরে হামলা হলো সরকার কিছু বললো না। আবার ব্ল্যাক আউট কর্মসূচি রেখেও আবার মত পাল্টালো- জামাত শিবির রাজাকার, পাকিস্তানিদের নির্দেশে? নয়তো কি আরেকটা ৫ আগস্টের হুমকি দেয়া হয়েছে বিএনপিকে? কোনটা?
এই দিবস পালনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার রাত ১০টা ৩০ মিনিট থেকে ১০টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত এক মিনিটের প্রতীকী এই কর্মসূচি পালন করার কথা ছিলো।
সোমবার সরকারের তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়েছিল, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতের প্রথম প্রহর স্মরণ করে রাত ১০টা ৩০ মিনিট থেকে ১০টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত সারাদেশে প্রতীকী ‘ব্ল্যাক আউট’ পালন করা হবে।
তবে কেপিআই, জরুরি স্থাপনা, বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি মিশন এ কর্মসূচির আওতামুক্ত থাকবে।
কিন্তু মঙ্গলবার রাতেই মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো বার্তায় জানানো হলো, ২৫ তারিখ রাতে ১ মিনিটের ব্ল্যাক আউট হবে না।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা এম এ খায়ের সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানা যায়।
তবে কেন তা পালন করা হবে না সেই বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে কিছু বলা হয়নি।
কেন হবে না তা জানাতে ভয় পেয়েছে! অদৃশ্যভাবে এই সরকার যে জামাত শিবিরের পরিচালিত তা কি আরো বুঝিয়ে চলতে হবে?
আতঙ্ক উৎকন্ঠায় ভরা সেই ভয়াল কাল রজনী ২৫ শেখ মার্চ। নিরস্ত্র বাঙ্গালির উপর পাকিস্তানী বর্বর বাহিনীর হত্যাযজ্ঞের করুণ ইতিহাস।
পাকিস্তানী সেনাবাহিনী এই রাতে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করে। মানুষের করুণ আর্তনাদ আকাশ বাতাস চৌচির হয়ে যায়।
কিন্ত মানবতার শত্রু ইয়াহিয়া-ভুট্টুর এবং তাহাদের পাষাণ হিংস্র পশু বাহিনীর অন্তর একবার কেঁপে উঠেনি । এমনি করেই তারা দীর্ঘ ৯ মাস হত্যাযজ্ঞ চালায়।
বর্বর পাকিস্তানী হায়েনারা ৩০ লক্ষ মানুষকে গণহত্যা করে ২ লক্ষ মা-বোনের ইজ্জত লুট করে। পৃথিবীর মানবতার ইতিহাসে এক কাল অধ্যায় সৃষ্টি করে।
অথচ সেই ইতিহাসকে অস্বীকার করলো বিএনপি সরকার। জামাত শিবিরের নির্দেশে পরিচালিত এই সরকার কবে স্বাধীন হবে?
