ঢাকা: ভয়াবহ একটি দুর্ঘটনা ঘটে গেলো। দৌলতদিয়া ফেরীঘাট, রাতের কালো অন্ধকার, বৃষ্টিভেজা বাতাস, আর একটি বিভীষিকাময় দৃশ্য।

ভয়ানক একটি বাস দুর্ঘটনা। লাশের স্তুপ, আর চারদিকে মানুষের আহাজারি, কান্না অসহায় চিৎকার শোনা যাচ্ছে। যে দৃশ্য চোখে দেখা যায়, কিন্তু মনের ভেতর ধারণ করা কঠিন।

বুধবার বাংলাদেশে রাজবাড়ির দৌলতদিয়া টার্মিনালে ফেরিঘাটে একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে হুড়মুড়িয়ে পড়ে যায়। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত প্রায় ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে নারী পুরুষ সবাই আছেন।

তবে নিহতের সংখ্যা আরো হবে। কারণ বাসটিতে স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ৫০ জন ছিলেন। যাত্রীদের মধ্যে কয়েকজন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন।

বুধবার (২৫ মার্চ) কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস ফেরিঘাটের পন্টুনে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।

বাসটি পানিতে তলিয়ে গেলে বিআইডব্লিউটিএ’র উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’, ফায়ার সার্ভিস ও কোস্টগার্ডের ডুবুরি দল তৎক্ষণাত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে।

প্রতিকূল আবহাওয়া ও তীব্র স্রোতের মাঝেও রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাসটি টেনে তোলা হয়। রাতভর অভিযান চালিয়ে ভোর পর্যন্ত ২৩ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, বাসটি পন্টুনে দাঁড়িয়ে ফেরিতে ওঠার অপেক্ষা করছিল, এমন সময় হঠাৎ করেই সেটি নদীতে পিছলে পড়ে যায়।

আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, আশপাশের লোকজন এবং ফেরির যাত্রীরা সাহায্যের জন্য ছুটে আসছেন এবং যারা সাঁতরে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, তাঁদের দিকে দড়ি ছুঁড়ে দিচ্ছেন।

দুর্ঘটনা বলে কয়ে আসে না, এটা সত্য। কিন্তু দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমানো যায় দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও কঠোর শৃঙ্খলার মাধ্যমে।

এমন একটা দিন বাদ থাকে না, যেদিন দুর্ঘটনার খবর সামনে আসে না।

বাংলাদেশে পরিবহনে সেক্টরে দক্ষ ব্যবস্থাপনা তো বহুদূর, ন্যূনতম শৃঙ্খলা পর্যন্ত নেই।

প্রতিনিয়ত দেখা যায় আইনশৃঙ্খলাই নেই, মহাসড়কে যে যেভাবে পারে, সেভাবে গাড়ি টানছেন। আর ঘটছে দুর্ঘটনাগুলো। ট্রেন দুর্ঘটনা, সড়ক দুর্ঘটনা, বাস দুর্ঘটনা প্রতিদিন হচ্ছে।

বাসগুলো ফিটনেসবিহীন, এগুলো মহাসড়কে চলাচলে অনুপযুক্ত। অথচ দেদারসে বছরের পর বছর এগুলো যাত্রী টানছে।

কে তদারকি করবে, কে ব্যবস্থা নেবে! কেউ নেই!

মাঝেমধ্যে রাস্তায় প্রশাসনের একটা টিম লাইসেন্স চেক করে, ড্রাইভার গাড়ি স্লো করে জানালা দিয়ে হাত বাড়িয়ে ৫০/১০০/৫০০ টাকার নোট মুঠো করে হাতে দিয়ে দেয়, ব্যস হয়ে গেছে লাইসেন্স চেক করা! এভাবে একটা দেশ চলে?

বড় দুর্ঘটনা ঘটলে ১৫/২০ টাকা দিয়ে দেয়, মন্ত্রী এসে বলে ব্যবস্থা নিতেই হবে! ব্যস! এই অবধি!

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *