ঢাকা: আজ মহান স্বাধীনতা দিবস। বাংলাদেশের গৌরবের দিন তো বটেই।
তবে দিনটিকে হাসির খোরাক বানিয়েছে রাজাকার জামাত।
১৯৭১ সালে স্বাধীনতা বিরোধী দল এবং সারা জীবনের স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াত ইসলাম ২০২৬ এর ২৬ মার্চে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পন করলো।
শহীদের আত্মার ক্রন্দন কি শুনতে পাওয়া যায় না?
শহিদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে রাজাকারের ফুল দেওয়ার অভিনয়—জাতির জন্য চরম লজ্জার দৃশ্য।
মাগো, দেশমাতৃকা- তোমার লাল-সবুজ পতাকা যারা মানেনি, যারা রাজাকার হয়ে পাকিস্তানের দালালি করেছে, মা বোনদের ধর্ষণ করেছে, মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তে হাত রাঙিয়েছে,আজ তারাই স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে ইতিহাসকে অপমান করছে?
২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর দিন। কিন্তু এই বিশ্বাসঘাতকরা সেটাকেও বানিয়ে ফেলেছে অভিনয়ের মঞ্চ। জাতি কি ভুলে গেছে—কারা এই দেশকে মানেনি,কারা মুক্তিযুদ্ধকে ঘৃণা করেছে?
আজ এটা তাদের ফুল দেওয়া মানে শ্রদ্ধা নয়
এটা ইতিহাসের সাথে প্রতারণা,শহিদদের সাথে অবমাননা।
ফুল দিয়ে কী প্রমাণ করতে চায় তারা?

এর আগে বিবৃতিতে জামায়াত আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিকামী জনতা গণতন্ত্র, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের যে মূল প্রত্যাশা নিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছিল, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও তার অনেক আকাঙ্ক্ষাই এখনো অপূর্ণ রয়ে গেছে।’
পাকিস্তানি রাজাকারদের স্বাধীনতা দিবস কিসের? ওরা তো বাংলাদেশের জন্মই চায়নি।
লক্ষ্য করুন, ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের বিবৃতিতে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ও তাদের বর্বরতার কথা উল্লেখ করা হয়নি।
বিবৃতিটি একটু পর্যালোচনা করলেই দেখা যায়, সেখানে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী কিংবা তাদের সেনাবাহিনীর দাঁড়া পরিচালিত হত্যা, ধর্ষণ, আরো যত মানবতাবিরোধী কাজ সেইসব অপরাধের কথা স্থান পায়নি।
ধরি মাছ না ছুঁই পানি ধরনের একটা লেখা।
মুক্তিযোদ্ধাদেরকে ‘জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান’ বলা হলেও তাদের লড়াইকে ‘তৎকালীন শাসক গোষ্ঠীর’ বিরুদ্ধে বলে উল্লেখ করে শত্রুপক্ষের নাম ও তাদের বর্বরতাকে প্রকাশ্যে আনা হয়নি।
এই পাকিস্তানিরাই আজ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে।
মনে মনে কী বলেছে দেশটা পাকিস্তানের সাথে মিশে যাক!? দুইদিন পরে তো জঙ্গী পাকিস্তানও এদের চাইবে না!
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ভোর ৬টার দিকে স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শফিকুর রহমান শ্রদ্ধা জানান।
রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিরোধীদলীয় নেতা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত ও দোয়া পরিচালনা করেন।
দলের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি কামাল হোসাইন এবং ঢাকা জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন প্রমুখ।
