ঢাকা: চাঞ্চল্যকর সব স্বীকারোক্তি শোনা গেলো আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার মুখে।
ড. ইউনুসের ম্যাটিক্যুলাস ডিজাইনের স্বীকারোক্তির পর এবার সামনে এলো তাঁর উপদেষ্টা পরিষদের সাবেক প্রভাবশালী সদস্য এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার স্বীকারোক্তি।
তাহলে সরকার উৎখাতের পেছনের গল্পটা সত্যিই, শেখ হাসিনা চিনতে ভুল করেননি! উপদেষ্টা থাকতে আসিফ মাহমুদ একবার বলেছিলেন অভ্যুত্থান ব্যর্থ হলে সশস্ত্র যুদ্ধের পথ বেছে নিতো তারা।
এত অস্ত্র কোথা থেকে এসেছিল, কারা দিয়েছিল, সেইসব অস্ত্র এখন কোথায়? আসিফ নজরুল তো হদিশ বের করেননি।
অস্ত্রের প্রশিক্ষণ কতোজনকে দেওয়া হয়েছিল-এসবও এখন জানিয়ে দেন শীঘ্রই জাতিকে আসিফ মাহমুদ। সে সময় হয়তো খুব শীঘ্রই আসছে।
তিনি পরিষ্কার স্বীকারোক্তি দিয়েছেন, ২০২৯ পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে ‘ডিপ স্টেট’ স্ট্র্যাটেজি সাজিয়ে দিয়েছিল’।
তার এই বক্তব্যকে নিছক সরলোক্তি হিসেবে ধরে নেয়ার কোন সুযোগ নেই। ডিপ স্টেটের বিষয়টি আগেই ধরা পড়েছে।
৫ আগস্টের ঘটনা, কোটা আন্দোলন থেকে সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়া এটি মোটেও কোনো আন্দোলন ছিলো না, গণঅভ্যুত্থান ছিলো না। ছিলো ক্ষমতা দখল করার ষড়যন্ত্র এবং বাংলাদেশকে বিক্রি করার পাঁয়তারা।
এখন তো সজীবের কথার পর তাঁকে গ্রেপ্তার করে রাজস্বাক্ষী করার প্রস্তাব উঠছে।
৫ আগস্টের আন্দোলন থেকে শুরু করে ড. ইউনুসের ক্ষমতায় টিকে থাকতে ডিপ স্টেটের শর্তে কী কী করা হয়েছে, তার সবকিছু বের করে আনা সম্ভব হবে তাহলে।
নোবেল ম্যান তো দেশটাকে ছিঁড়ে খুবলে খেয়েছেন।
আসিফ কেন এই গোমর ফাঁস করছেন? বলতে পারেন হতাশা থেকেই তাঁরা তাঁদের গোমর ফাঁস করছেন।
২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার প্রস্তাব দিয়েছিল ‘ডিপ স্টেট’। এমনটাই বিস্ফোরক তথ্য দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
রাজধানীতে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত বিশেষ আলোচনা সভায় এই তথ্য ফাঁস করেন তিনি।
আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘ডিপ স্টেট’ তাদের ২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার প্রস্তাব দিয়েছিল। আমরা (অন্তর্বর্তী সরকার) যখন সরকারের দায়িত্বে ছিলাম, শুরুর দিকে আমাদের বিভিন্ন শক্তিশালী ইনস্টিটিউশন, যাদের ডিপ স্টেট বলা হয়, তাদের থেকে আমাদের অফার করা হয়েছিল—‘আপনারা শেখ হাসিনার যে মেয়াদ আছে, ২০২৯ সাল পর্যন্ত শেষ করেন। আমরা আপনাদের সহযোগিতা করব।’
এক্ষেত্রে ‘ডিপ স্টেটের’ কিছু শর্ত ছিল। সে বিষয়ে সাবেক উপদেষ্টা বলেন, ‘তাদের (ডিপ স্টেটের) কিছু শর্ত ছিল, তাদের কিছু কিছু জায়গায় ফ্যাসিলিটেট (সুবিধা) করা।
তারা রোডম্যাপ করে নিয়ে আসছিল যে, বিএনপির নেতাদের সাজা আছে। সাজা থাকলে সাধারণভাবে নির্বাচন দিলেও তারা নির্বাচন করতে পারবে না। আদালতের তারিখ ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে তাদের সাজাগুলো আদালতের মাধ্যমে দীর্ঘ করা।
তিনি বলেন, তারেক রহমানের (প্রধানমন্ত্রী) নিজের নামে সাজা ছিল। তিনি যদি সাজাপ্রাপ্ত অবস্থায় থাকতেন, নির্বাচন হলেও তিনি অংশ নিতে পারতেন না। তারা (ডিপ স্টেট) পুরো স্ট্র্যাটেজি (কৌশল) আমাদের সাজিয়ে দিয়েছিল—কীভাবে ক্ষমতায় থাকা যায়, তাদের সঙ্গে একধরনের দর-কষাকষির সমঝোতার ভিত্তিতে। আমরা সেটাতে সায় দিইনি।
এনসিপির মুখপাত্র জানান, তারা কেবল একটি সুষ্ঠু নির্বাচন চেয়েছিলেন। নির্বাচন যেন প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, সে জন্য নিজেরা আগ বাড়িয়ে অন্তর্বর্তী সরকার থেকে পদত্যাগ করেছিলেন।
আমরা দেখলাম, বিগত সরকারের দুজন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি বর্তমান সরকারের মন্ত্রী পদমর্যাদায় আছেন। যদিও এ সরকার দলই সে সময় আমাদের পদত্যাগ চেয়েছিল।
নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের (সমান সুযোগ) একধরনের যুক্তি দাঁড় করিয়েছিল। তারাই আগের সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দুজন দায়িত্বশীলকে তাদের মন্ত্রী হিসেবে নিল।
আসিফ মাহমুদ বলেন, এটা বোঝা যায়, তারা নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুবিধা পাওয়ার জন্য এই মানুষগুলোকে পুরস্কৃত করে তাদের ব্যবহার করেছে।
তিনি আরও বলেন, ডিপ স্টেট বলে পরিচিত সংস্থাগুলোর প্রস্তাব গ্রহণ করলে তাদের পক্ষে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার বয়ান উৎপাদিত হতো। ডিপ স্টেট এজেন্সি যদি সঙ্গে থাকত, তাহলে সবাই বলতে পারত, সংবিধান অনুযায়ী ২০২৯ সালে নির্বাচন হওয়া উচিত। তাহলে সরকার থাক ২০২৯ সাল পর্যন্ত। আমরা সেই সমঝোতা করি নাই।
নির্বাচন তো তারাও চায়নি। এখন কোন প্রেশারে বা ভয়ে মুখ খুললেন তিনি?
আসিফ মাহমুদ, সারজিস আলম, চরমোনাই পীর, জামায়াত ইসলামের অভিন্ন নির্বাচনবিরোধী বক্তব্য, সুস্পষ্ট সুর—
“শুধুমাত্র নির্বাচনের জন্য এতগুলো মানুষ জীবন দেয় নাই,” “বিচার না হলে নির্বাচন নয়”, “আরো ৫ বছর চাই”।
এগুলো সবই ছিলো নির্বাচন বানচাল করে অনির্বাচিত সরকারকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় রাখার ডিপ স্টেটের পরিকল্পনার অংশ।
হাদি মারা যাওয়ার পরে মব করে প্রথম আলো, ডেইলি ষ্টার, উদীচি, ছায়ানট ভাঙচুর- অগ্নিসংযোগও ম্যাটিকুলাস। জামাত সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত সত্য। এগুলো সবই ডিপ স্টেটের নির্বাচন বানচালের পরিকল্পনার অংশ ছিলো।
