ঢাকা: এই আমির হামজা স্বাধীনতাবিরোধী ব্যক্তিটি এক একসময় এক একটা বেফাঁস, আর দেশবিরোধী মন্তব্য করেই চলেছেন। অথচ এইসবের প্রতিবাদ করার মতো কেউ নেই।

কুষ্টিয়ার আর উপরওয়ালা নাই , উপরওয়ালা আমি নিজেই- এমন কথা বলা ব্যক্তিটি মুফতি আমির হামজা। এবার নিজের পরিচয় আরো দিয়ে দিলেন। যদিও জামাতের আর কোনো পরিচয় নেই। জামাতের পরিচয় একটাই, ওরা রাজাকার, ধর্ষক, পাকিস্তানের বন্ধু, ভাই, সহোদর যাই বলেন।

মুক্তিযোদ্ধারা এখনো জীবিত আছেন কেউ কেউ, আর এই যুদ্ধে রাজাকারের ভূমিকায় ছিলো জামায়াতে ইসলামী।

আমির হামজা জামাত দলের নেতা হয়ে মন্ত্রীকে নিয়ে অবান্তর বক্তব্য তো দিয়েছেনই, মুক্তিযুদ্ধের ব্যাখ্যাও ঘুরিয়ে দিয়েছেন।

আমির হামজা আলেম নামের কলঙ্ক, আরাফাত রহমান কোকোকে কুকুর বলেছিলেন এর আগে।

কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজা কী বলেছেন একটু দেখি:

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে ‘আপাদমস্তক নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী’ বলে মন্তব্য করেছেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজা।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর বড় মসজিদে খুতবার আগে এ মন্তব্য করেন জামায়াতে ইসলামীর এই সংসদ সদস্য।

তাঁর ওই বক্তব্যের ১ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ভিডিওতে আমির হামজা বলছেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু একজন নাস্তিক এবং ইসলামবিদ্বেষী, আপাদমস্তক ইসলামবিদ্বেষী।

যদি বলেন তিনি জামায়াতে ইসলামী বা চরমোনাই পীরের বিরোধী তা না, তিনি ইসলামবিদ্বেষী।

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে হামজা বলেন, এই দেশে ধর্ম প্রতিষ্ঠা করার জন্য নাকি মুক্তিযুদ্ধ হয়নি। তাহলে মুক্তিযুদ্ধ কেন হয়েছে, আপনি বলেন। মুক্তিযোদ্ধারা এখনো বেঁচে আছেন, তাদের জিজ্ঞেস করেন তারা ধর্মবিদ্বেষী কি না।

আচ্ছা এখানে থামি। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম প্রতিষ্ঠার যুদ্ধ ছিল?

নাহ, জামাত এই মুক্তিযুদ্ধের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে এসেছে বরাবর। এই যুদ্ধ ছিল পশ্চিম পাকিস্তানের শোষণ, বৈষম্য এবং বাঙালি জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই।

এটি ছিল একটি অসাম্প্রদায়িক, জাতীয়তাবাদী জনমানুষের যুদ্ধ, যেখানে সকল ধর্মের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের স্বাধীনতার জন্য অংশগ্রহণ করেছিলেন। সকল বাঙালি বুক পেতে দেন।

অথচ এই জামাত এখন মুক্তিযুদ্ধকে ধর্মযুদ্ধ বলে চালানোর চেষ্টা করছে! ধর্মযুদ্ধ হলে কার বিরুদ্ধে কোন ধর্ম? কোনো হিন্দুর বিরুদ্ধে তো নয়! মুসলমানের বিরুদ্ধে ধর্ম প্রতিষ্ঠার যুদ্ধ? তাহলে বাংলাদেশে কোন ধর্ম প্রতিষ্ঠা হলো?

মুক্তিযোদ্ধাদের তিনি ধর্মবিদ্বেষী বানিয়েছেন। বিশাল বড় অপরাধমূলক মন্তব্য করলেন তিনি। জামাত ভাবুন, মুক্তিযোদ্ধাদের কী মনে করে? ওরা মনে করে মুক্তিযোদ্ধারা ধর্মবিদ্বেষী!

এই যে মন্তব্যগুলো করছেন এঁরা, এর বিচার হবে না?

উল্লেখ্য যে,এর আগে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা আমাদের পরিচয়, স্বাধীনতা বাঙালির স্বপ্ন।

কিন্তু একটি দল মুক্তিযুদ্ধকে প্রশ্ন বিদ্ধ করতে চায়, বিতর্কিত করতে চায়।

তিনি জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে বলেন, এদেশে তারা ধর্মীয় রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে চায়। স্বাধীনতাকে ভুলিয়ে একটি গোষ্ঠীর উত্থান হচ্ছে। একটি দল ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন করতে চায়, কিন্তু বাংলাদেশে ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ নেই।

তাই মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস আমাদের জানতে হবে। তা নাহলে ধর্মকে ভিত্তি করে রাজনৈতিক সৃষ্ট দল বিজয়ী হবে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *