ঢাকা: বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন প্রথমেই বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় বেশ কয়েকটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল যা অপ্রয়োজনীয় ছিল এবং আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর সঙ্গে  আলোচনা করা হয়নি।

সংবিধান মানেননি ইউনূস।

তিনি অভিযোগ করেন যে ডঃ ইউনূস সাংবিধানিক রীতিনীতি উপেক্ষা করেছেন এবং রাষ্ট্রপতির মর্যাদা ক্ষুন্ন করেছেন।

রাষ্ট্রপতিকে অন্ধকারে রেখে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা ছিল সম্পূর্ণ ত্রুটিপূর্ণ,অনৈতিক,অবৈধ, অসাংবিধানিক ও চরম স্বেচ্ছাচারিতা।

বেশিরভাগ অধ্যাদেশ সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক ও পরিত্যাজ্য! ডক্টর ইউনুস সংবিধান রক্ষা করার শপথ নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা হয়ে তিনি নিজে সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন, রাষ্ট্রদ্রোহী কাজ করেছেন।

জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে এসব অধ্যাদেশের অনুমোদন পাওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

যাচাই-বাছাইয়ের জন্য গঠিত বিশেষ সংসদীয় কমিটি এসব অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

গণভোট অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন করা হবে না বলে জানিয়েছে বিএনপি।

ফলে অধ্যাদেশটি আগামী ১২ এপ্রিল স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে।

বিএনপি বলছে, অধ্যাদেশ ব্যবহার করে গণভোট হয়ে যাওয়ায় ভবিষ্যৎ ব্যবহার না থাকায় অধ্যাদেশটি পাসের প্রয়োজন নেই। এতে ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোট অবৈধ হবে না। সরকারি দলের এই সিদ্ধান্তে নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) দিয়েছে জামায়াত।

গণভোট অধ্যাদেশ ছাড়াও অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩ অধ্যাদেশের অন্তত ১৫টিতে নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দল একমত হয়নি।

সরকারি দল মানবাধিকার কমিশন, বিচারপতি নিয়োগ, গুম প্রতিরোধ, দুর্নীতি দমন কমিশন অধ্যাদেশে পরিবর্তন আনতে চায়। এতে আপত্তি করে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে জামায়াত।

রবিবার জাতীয় সংসদে বিশেষ কমিটির সভা সূত্রে এইসব তথ্য জানা গেছে। আগামি ২ এপ্রিল কমিটি প্রতিবেদন দেবে সংসদকে।

সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলো ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনে উত্থাপন করা হয়। পরবর্তী ৩০ দিন, অর্থাৎ আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যে অধ্যাদেশগুলো সংসদে অনুমোদিত না হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।

সংসদে অধ্যাদেশটিকে অনুমোদন করা হবে কিনা– প্রশ্নে সালাহউদ্দিন বলেন, সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। যেমন সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণে প্রণীত অধ্যাদেশের ব্যবহার আগামী ১০ বছরে বা পরবর্তী জনশুমারি না পর্যন্ত লাগবে না।

গণভোট অধ্যাদেশের আর ব্যবহার নেই। তাই অনুমোদন করার কিছু নেই। ব্যবহার হয়ে গেছে। অধ্যাদেশটিকে বিল আকারে এনে আইনে পরিণত করা, রেটিফিকেশনের প্রয়োজন নেই।

সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, ১৩৩টি অধ্যাদেশের ওপর আলোচনা হয়েছে। কতটি অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন হবে, তা ২ এপ্রিল জানা যাবে। কিছু কিছু অধ্যাদেশ হুবহু পাস করা হবে।

কিছু কিছু সংশোধনী আকারে উত্থাপন করা হবে। ১২ এপ্রিলের মধ্যে অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা থাকায় কিছু কিছু অধ্যাদেশ উত্থাপন করা হবে না। পরবর্তী সময় বিল আকারে আনা হবে।

কমিটির সদস্য জামায়াত এমপি রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, গণভোট, মানবাধিকার কমিশন ও বিচার বিভাগ পৃথক্‌করণের মতো ১৫টি অধ্যাদেশ বাতিল বা সংশোধনে তারা নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন। রোববার ২২টি অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ১৫টিতে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছি।

সরকারি দল সংখ্যার জোরে কিছু বিষয় পাস করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন এবং গুম-খুন প্রতিরোধ কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে তারা আগের মতো দলীয়করণ করতে চাচ্ছেন।

এখানে বলা জরুরি, গণভোট যেটি হয়েছে, সেখানেও কারচুপির আশ্রয় নেয়া হয়েছে। সবটাই ষড়যন্ত্র। ৬০ শতাংশ ভোটে “হ্যাঁ”-কে জিতানো হয়েছে। সেজন্য কারচুপির গণভোটের ফলাফল নিয়ে “জনগণের রায়” বলে চিৎকার করার কিছু নেই।

জনগণের রায় শব্দটি জামাত ব্যবহার করছে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে। নিজের স্বার্থ জনগণের নাম করে হাসিলের ধান্দা এগুলো।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *